তুরস্ক ও সংযুক্ত আমিরাতের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i82456-তুরস্ক_ও_সংযুক্ত_আমিরাতের_মধ্যে_নতুন_করে_উত্তেজনা
তুরস্কের অন্যতম শীর্ষ সরকারি কৌসুলি সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন যায়েদের উপদেষ্টা মোহাম্মদ দেহলানের বিরুদ্ধে লাল সতর্ক সংকেত ঘোষণার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন বা ইন্টারপোলের প্রতি আহ্বান জানানোয় দুদেশের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে দেশটির এ কৌসুলি ইন্টারপোলের প্রতি ওই আহ্বান জানান।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ২২, ২০২০ ১৪:১২ Asia/Dhaka

তুরস্কের অন্যতম শীর্ষ সরকারি কৌসুলি সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন যায়েদের উপদেষ্টা মোহাম্মদ দেহলানের বিরুদ্ধে লাল সতর্ক সংকেত ঘোষণার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন বা ইন্টারপোলের প্রতি আহ্বান জানানোয় দুদেশের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে দেশটির এ কৌসুলি ইন্টারপোলের প্রতি ওই আহ্বান জানান।

এর আগে ওই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর তুরস্ক সরকার আমিরাতের দুই গুপ্তচরের স্বীকারোক্তিকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে বলেছিল আঙ্কারা সরকারের পতন ঘটানোর জন্য আমিরাত সরকার বিদ্রোহী ও ষড়যন্ত্রকারীদের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল। তুরস্ক সরকার আরো অভিযোগ করেছিল আমিরাতের যুবরাজের উপদেষ্টা মোহাম্মদ দেহলানের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন এবং বেশ ক'জনক পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে ৩০০ কোটি ডলার সরবরাহ করেছিল।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ দেহলান এক সময় ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রামীদের জন্য কাজ করতেন কিন্তু এক পর্যায়ে ইসরাইলি সেনাদের হাতে গ্রেফতার হন। এক বছর জেলখানায় আটক থাকার পর মুক্তি পেয়ে ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের পক্ষ হয়ে তিনি গুপ্তচরবৃত্তির কাজ শুরু করেন। এমনি কি তিনি ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রাম পিএলও'র নেতা ইয়াসির আরাফাত হত্যায় জড়িত ছিলেন এবং অনেক বছর পর্যন্ত ফিলিস্তিনে নানা অপরাধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। মোহাম্মদ দেহলানের গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তিনি ফিলিস্তিন থেকে পালিয়ে আসেন এবং আমিরাতে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে আমিরাতের যুবরাজের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি মন্টেনিগ্রো, সার্বিয়া, আবুধাবি ও লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের মধ্যে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন। এমনকি মোহাম্মদ দেহলান সম্প্রতি তিউনিশিয়ার রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন এবং সেদেশে ইসরাইল বিরোধী সংগ্রামীদের মোকাবেলায় রাজনৈতিক নেতাদের অর্থ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তুরস্কের সরকার বিরোধী মহলকে উস্কানি দেয়ার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল।

যাইহোক, তুরস্ক সরকার এ ব্যাপারে তার নীরবতা ভেঙেছে এবং ইসরাইলি ওই গুপ্তচরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করায় আমিরাতের সঙ্গে তুরস্কের নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মোহাম্মদ দেহলানের গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি ছাড়াও পশ্চিম এশিয়ার বেশ কিছু ইস্যুতে আমিরাত ও তুরস্কের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বাস্তবতা হচ্ছে, আঙ্কারা ও আবুধাবির মধ্যকার প্রতিযোগিতার জেরে লিবিয়ায় প্রক্সিযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে আমিরাত ও তুরস্কের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনাও তীব্রতর হচ্ছে যার নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতেও পড়েছে। এ অবস্থায় আমিরাতে যুবরাজের উপদেষ্টা মোহাম্মদ দেহলানের বিষয়টিকে আন্তর্জাতিকীকরণের ফলে দুদেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।#                   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২