ইরাকে ফের বিক্ষোভ: তবে জনগণের মধ্যে সাড়া ছিল না তেমন
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i84221-ইরাকে_ফের_বিক্ষোভ_তবে_জনগণের_মধ্যে_সাড়া_ছিল_না_তেমন
ইরাকে সম্প্রতি আবারো বিক্ষোভ হয়েছে এবং এই বিক্ষোভ কিছুটা সহিংসতায় রূপ নেয়। সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য এবং বেসামরিক মানুষজন আহত হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ২৮, ২০২০ ১৩:৩৫ Asia/Dhaka
  • ইরাকে ফের বিক্ষোভ: তবে জনগণের মধ্যে সাড়া ছিল না তেমন

ইরাকে সম্প্রতি আবারো বিক্ষোভ হয়েছে এবং এই বিক্ষোভ কিছুটা সহিংসতায় রূপ নেয়। সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য এবং বেসামরিক মানুষজন আহত হয়েছে।

গত বছর ২৫ ডিসেম্বর সরকার বিরোধী বিক্ষোভের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিন বিক্ষোভ হয়েছে। গত বছর বিক্ষোভের জেরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদি ১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে ওই বিক্ষোভের সাথে দুদিনের এই বিক্ষোভের একটা  পার্থক্য রয়েছে। বিক্ষোভে মানুষের অংশ নেয়ার সংখ্যার মধ্যে ওই পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত আল জাজিরা টিভি চ্যানেলের দফতর প্রধান ওয়ালিদ ইব্রাহিম এ ব্যাপারে এক প্রতিবেদনে লিখেছেন, এক বছর আগের চেয়ে এবারের বিক্ষোভে জনসমাগম তেমন হয়নি অন্যদিকে তাদের শ্লোগানেও বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিক্ষোভে জনসমাগম কম হওয়ার অন্যতম একটা কারণ হতে পারে করোনা পরিস্থিতি। এ ছাড়া, জনগণের মধ্যে একধরনের হতাশাও কাজ করছে যে কারণে বিক্ষোভে তেমন সাড়া মেলেনি। ইরাকের মিল্লি আল হুকুমা দলের রাজনৈতিক দফতরের কর্মকর্তা বালেগ আবু গিলাল বলেছেন, গত বছর সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও এবারের দুদিনের বিক্ষোভে একটি সাধারণ পার্থক্য চোখে পড়ে আর তা হচ্ছে, জনগণ এবারের বিক্ষোভে খুব একটা শামিল হয়নি। এর কারণ হচ্ছে গত বছর বিক্ষোভ চলাকালে যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল তার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি এবং দুর্নীতিবাজদেরকেও গ্রেফতার করা হয়নি।

এবারের বিক্ষোভের আরেকটি দিক হচ্ছে সহিংসতার মাত্রা গতবারের মতো অতটা মারাত্মক ছিল না। কারণ গত বছর ভয়াবহ সহিংস ঘটনা ঘটেছিল এবং তাতে সাত হাজারের বেশি  মানুষ হতাহত হয়। কিন্তু গত দুই দিনের বিক্ষোভে যে সহিংসতা হয়েছে তাতে বেশ কিছু সংখ্যক সামরিক ও বেসামরিক মানুষজন আহত হলেও এখন পর্যন্ত কারো মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ইরাকে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ব্যাপারে বলা যায়, এতে অংশগ্রহণকারী জনগণের একটি অংশ আসলে দেশের বর্তমান দুর্নীতি মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট। অন্যদিকে পর্দার আড়ালে থাকা আরেকটি স্বার্থান্বেষী মহল সহিংসতাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তারা মূলত ইরাকের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোরই বিরোধিতা করছে। মূল কথা হচ্ছে, ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দামের অনুসারীরাই সেদেশে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতার পেছনে ভূমিকা রাখছে। ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রাসুল সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সম্পর্কে বলেছেন, এবারের বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত এমন এক ব্যক্তিকে আমরা আটক করেছি যার কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর জন্য ৬১টি পেট্রোল বোমার মজুদ ছিল।

তবে গত বছরের মতো এবারের বিক্ষোভে সরকার বিরোধিতা ছিল না বললেই চলে। গত বছর যারা সরকার বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল তাদের পেছনে দেশের ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন কুচক্রি মহল জড়িত ছিল এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আব্দুল মাহদির সরকারের পতন ঘটানো। কিন্তু এবার ওই গোষ্ঠীটি খুব একটা কঠোর অবস্থানে ছিল না। কারণ বাইরের দেশগুলোও বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখতে চায়। অনেকের ধারনা ইরাকে শিগগিরি পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সে কারণে জনগণের এ বিক্ষোভে সাড়া ছিল না এবং তাদের সবার নজর এখন নির্বাচনের দিকে। এ ছাড়া, তারা এটাও বুঝতে পেরেছে বিক্ষোভ ও সহিংসতা করে তাদের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে না।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮