সামরিক কৌশল ও গোয়েন্দা ক্ষেত্রেও বিজয়ী ফিলিস্তিনের সংগ্রামী দলগুলো
ইসরাইলের অবৈধ অস্তিত্বের অবসান আর বেশি দূরে নয়
-
মজলুম ফিলিস্তিনিদের বিজয়-সমাবেশ
দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগ্রাম অনন্য সাফল্যের এক নয়া অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
মুসলমানদের প্রথম কিবলার পবিত্র শহর বায়তুল মুকাদ্দাসে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি দমন-পীড়ন এবং উচ্ছেদ অভিযানের জবাবে হামাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি সংগ্রামী দলগুলোর সাম্প্রতিক সংগ্রামী অভিযান শত্রু ও মিত্র উভয় শিবিরের কাছেই শক্তির সমীকরণ বিষয়ে কয়েকটি নতুন ও অকাট্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরেছে।
১১ দিনের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের মুখে দখলদার ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন শুরু করায় লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ বলেছে, ফিলিস্তিনিদের 'সোর্ড অব কুদস' অভিযানে প্রমাণিত হয়েছে দখলদার ইসরাইল মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল।
সংগঠনটি আজ (শুক্রবার) আরও বলেছে, এবারের 'সোর্ড অব কুদস' শীর্ষক প্রতিরোধ সংগ্রাম ইহুদিবাদী শত্রুদের ওপর নতুন সমীকরণ চাপিয়ে দিয়েছে। এই বিজয় এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ সংঘাতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যদিয়ে সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ইসরাইলের নানা দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছ এবং অদূর ভবিষ্যতেই গোটা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড মুক্ত হবে।
গাজার এই যুদ্ধসহ আগের কয়েকটি যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে ইসরাইলের একক আধিপত্যের যুগ বহু আগেই শেষ হওয়ার পর এখন সামনে রয়েছে কেবলই ক্রমাগত পরাজয়ের পালা। আয়রন-ডোমসহ ইসরাইলের আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ফিলিস্তিনিদের প্রায় সাড়ে চার হাজার ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফিলিস্তিনের সংগ্রামী দলগুলো মাত্র কয়েক মিনিটে ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিব ও আরও দূরের শহর হাইফাসহ প্রধান ইসরাইলি শহরগুলোতে বিভিন্ন পাল্লার শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এইসব ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরাইলিদের জান ও মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেই ইসরাইল যুদ্ধ-বিরতি করতে বাধ্য হয়েছে ফিলিস্তিনিদের শর্তগুলোকে মেনে নিয়েই।
ফিলিস্তিনিদের সামরিক কৌশল ও গোয়েন্দা সক্ষমতাও শত্রু পক্ষকে নতজানু হতে বাধ্য করেছে।
এ ছাড়াও এই প্রথম ফিলিস্তিনিরা অধিকৃত অঞ্চলসহ নানা অঞ্চলে একই সময়ে ইসরাইল-বিরোধী বিক্ষোভসহ প্রবল সংগ্রামী অবস্থান নিয়ে দখলদারদের হৃদপিণ্ডে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। পশ্চিম তীর ও বায়তুল মুকাদ্দাস শহরসহ ইসরাইল অধিকৃত শহরগুলোতে ফিলিস্তিনিদের হয়রানি করতে ও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে বা ইহুদিবাদীদের বসতি বিস্তারের পাঁয়তারা চালাতেও ইসরাইল এখন আর আগের মত দুঃসাহস দেখাবে না। ফিলিস্তিনের আসল মালিক যে ফিলিস্তিনি জাতি এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের ওপর ইসরাইলি দখলদারিত্বও যে পুরোপুরি অবৈধ- এই ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে খুব শিগগিরই হয়তো আবারও ভৌগলিক বাস্তবতায় রূপান্তর করতে সক্ষম হবে ফিলিস্তিনি জাতি ও বিশ্বব্যাপী তাদের সমর্থক শক্তিগুলো।
হীনবল ও হতাশ হয়ে পড়া ইহুদিবাদীরা নিরাপত্তার আশায় আরও ব্যাপক মাত্রায় ইসরাইল ত্যাগ করতে শুরু করবে এবং তাদের অতীত আবাসগুলোতে ফিরে যাবে।
আর ইহুদিবাদী ইসরাইল সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ায় দুর্বল হয়ে পড়বে ইসলামের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ক্রুসেডে লিপ্ত পশ্চিমা ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোও। ইসরাইলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও আরও বাড়তে থাকবে। মাত্র দুই বছরের মধ্যে এ পর্যন্ত চার বার সংসদ নির্বাচন হয়েছে সেখানে।
এবারের ১১ দিনের যুদ্ধে হামাস ও জিহাদের মত সংগ্রামী দলগুলোর কাছে ইসরাইলের নতজানু হওয়ার বিষয়টিকে খোদ ইসরাইলেরই নানা দল এবং সংবাদ-মাধ্যম লজ্জাজনক ও কলঙ্কজনক বলে উল্লেখ করে বলেছে, এই যুদ্ধ-বিরতি ইসরাইলের জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে। ইসরাইলের অবৈধ অস্তিত্বের অবসান ঘটার পর্বও আর বেশি দূরে নয় বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। উল্লেখ্য ফিলিস্তিনের সংগ্রামী দলগুলোকে সামরিক দিকসহ নানা দিকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা দিয়ে আসছে যে কয়েকটি শক্তি তার শীর্ষে রয়েছে যথাক্রমে ইসলামী ইরান, লেবাননের হিযবুল্লাহ ও সিরিয়ার আসাদ সরকার। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।