ইসরাইলের সাথে আমিরাত ও বাহরাইনের সম্পর্কের এক বছর: কার লাভ কতটুকু
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i97440-ইসরাইলের_সাথে_আমিরাত_ও_বাহরাইনের_সম্পর্কের_এক_বছর_কার_লাভ_কতটুকু
দখলদার ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছিল গত সেপ্টেম্বর মাসে। অর্থাৎ এক বছর অতিক্রান্ত হতে চললো। ওই সমঝোতা আরব এ দু'টি দেশ ও ইসরাইলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ ০৯:৫৪ Asia/Dhaka

দখলদার ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছিল গত সেপ্টেম্বর মাসে। অর্থাৎ এক বছর অতিক্রান্ত হতে চললো। ওই সমঝোতা আরব এ দু'টি দেশ ও ইসরাইলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন।

'আব্রাহাম-১৫' নামের বিতর্কিত ওই সমঝোতা পত্র গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল। হোয়াইট হাউজে নেতানিয়াহু, ট্রাম্প এবং বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এতে সই করেছিলেন। ওই চার ব্যক্তির মধ্যে বর্তমানে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প ক্ষমতায় নেই। অর্থাৎ এ ধরনের সমঝোতা করেও ওই দুই ব্যক্তি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি। ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর আমিরাত ও বাহরাইন সরকার দাবি করেছিল এতে করে ফিলিস্তিনে নিরাপত্তা বাড়বে। কিন্তু গত এক বছরের ঘটনাবলীতে দেখা গেছে তাদের ওই দাবি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং লোক দেখানো। সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনই এর প্রমাণ। ইসরাইলের সঙ্গে সমঝোতা করে এ অঞ্চলের মুসলিম জনগণের কোনো লাভ তো হয়নি বরং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের দমন অভিযান বেড়েছে এবং ইসরাইল আরো বেশি ঔদ্ধত্য হয়ে উঠেছে।

ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর গত এক বছরে ইসরাইলের বহু নাগরিক ও কর্মকর্তা বাহরাইন ও আমিরাত সফরে গেছে। মানামা ও আবু ধাবিতে ইসরাইলের দূতাবাস উদ্বোধন করা হয় এবং ইসরাইলেও ওই দুই আরব দেশের দূতাবাস স্থাপন করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এতো কিছুর পরও আমিরাত ও বাহরাইনের প্রত্যাশা কি পূরণ হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তা কোনো দিক দিয়েই এ দুই আরব দেশ লাভবান হয়নি। 

অন্যদিকে দেখার বিষয় ইসরাইল কতটুকু লাভবান হল। যদিও এ সমঝোতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কারণে আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে কিন্তু অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ইসরাইলের বিপদ এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, আরব বিশ্বে ইসরাইল বিরোধী ক্ষোভ ও ঘৃণা তো কমেনি বরং আগের চেয়ে আরো বেড়েছে। তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'আরব সরকারগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে আরব জনগণ। কারণ আরব জনগণ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচণ্ড বিরোধী। মিশর ও জর্দানের ঘটনাই এর প্রমাণ।' ইসরাইলি ওই গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, 'কয়েকটি আরব দেশের সাথে শান্তি চুক্তি কিংবা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেও ইসরাইলের নিরাপত্তা সংকট এখনো দূর হয়নি।'

ইসরাইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক গেইলি কোহেন তেলআবিব সরকারের একটি সূত্রের উদ্বৃতি দিয়ে বলেছেন, কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেও ইসরাইল এ থেকে খুব একটা লাভবান হতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ শুধু এটা নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন ঘটেছে বরং মূল কারণ হচ্ছে এ অঞ্চলের জনমত প্রচণ্ডভাবে ইসরাইল বিরোধী হয়ে উঠেছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৬