পাকিস্তানে ওআইসি সম্মেলন: মূল আলোচ্য বিষয় আফগানিস্তান সংকট
https://parstoday.ir/bn/news/world-i101450-পাকিস্তানে_ওআইসি_সম্মেলন_মূল_আলোচ্য_বিষয়_আফগানিস্তান_সংকট
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির ১৭তম জরুরি অধিবেশন গতকাল থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে। আফগানিস্তানের সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং বিপর্যয়ের হাত থেকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ওই দেশটিকে রক্ষার উপায় খুঁজে বের করাই এ বৈঠকের উদ্দেশ্য। বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানও ইসলামাবাদ গেছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ডিসেম্বর ১৯, ২০২১ ১৫:১৯ Asia/Dhaka

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির ১৭তম জরুরি অধিবেশন গতকাল থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে। আফগানিস্তানের সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং বিপর্যয়ের হাত থেকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ওই দেশটিকে রক্ষার উপায় খুঁজে বের করাই এ বৈঠকের উদ্দেশ্য। বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানও ইসলামাবাদ গেছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কয়েকটি দিক থেকে ইসলামাবাদে ওআইসি সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এ থেকে বোঝা যায় আফগানিস্তান সংকটকে মুসলিম দেশগুলো গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে তারা সেদেশের জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের  চেষ্টা করছে। তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেয়ার পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেদেশে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন আফগানিস্তানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য পাশ্চাত্যের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। এমনকি জাতিসংঘও বহুবার আফগানিস্তানে মানবিক সংকট সৃষ্টির ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে। এ অবস্থায় মুসলিম দেশগুলোর উপস্থিতিতে আফগানিস্তান বিষয়ে ওআইসির জরুরি বৈঠকের আয়োজন সেদেশের জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

আফগানিস্তান বিষয়ে ওআইসি সম্মেলনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের জন্য মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো আফগানিস্তানের মানবিক সংকট উপেক্ষা করায় আন্তর্জাতিক সমাজ সেদেশে বিপর্যয় সৃষ্টির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় মুসলিম দেশগুলোর এ বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

আফগানিস্তান বিষয়ে ওআইসি সম্মেলনের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, এতে তালেবানের উপস্থিতি। পাকিস্তান সরকার যদিও জানিয়েছে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া ইসলামাবাদ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু এটাও ঠিক এ সম্মেলন আফগানিস্তানে অংশগ্রহণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা, নাগরিকদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষার মতো বহু বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর উদ্বেগ দূর করার জন্য তালেবান শাসকদের সামনে ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় যতদিন পর্যন্ত আফগান পরিস্থিতির ব্যাপারে উদ্বেগ দূর না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত মুসলিম দেশগুলো তালেবানকে এ উদ্বেগ দূর করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসলামাবাদে ওআইসি বৈঠকে তালেবানের উপস্থিতিটা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তারা সবার দাবি অনুযায়ী অংশগ্রহণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেবে কিনা সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।