রাশিয়ার পরমাণু সতর্কতায় আমেরিকা কী পিছু হটল?
-
রাশিয়ার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র
আন্তঃমহাদেশীয় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। রাশিয়ার পরমাণু বাহিনীকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নির্দেশ দেয়ার পর পেন্টাগন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিত করে।
এ সম্পর্কে গতকাল (বুধবার) পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জন কিরবি বলেছেন, "আমরা এই প্রচেষ্টা তুলে ধরতে চাই যাতে সবাই বুঝতে পারে যে, আমরা এমন কোনো লক্ষ্য বা কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে চাই না যা ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল ব্যাখ্যার সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমাদের মিনিটম্যান-৩ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন যা চলতি সপ্তাহে উৎক্ষেপণের কথা ছিল।"
জন কিরবি আরো বলেন, "আমরা হালকাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেই নি বরং দেখাতে চেয়েছি যে, আমরা একটি দায়িত্বশীল পরমাণু শক্তি।"
গত রোববার মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটের শীর্ষ পর্যায়ে কয়েকটি সদস্য দেশের পক্ষ থেকে আগ্রাসী বক্তব্য দেয়ার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার দেশের পরমাণু বাহিনীকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকায় নির্দেশ দেন যার অর্থ হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে এই বাহিনী পরমাণু যুদ্ধ শুরু করতে পারে।
এ নির্দেশের পর রাশিয়ার পরমাণু সাবমেরিন এবং ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চারগুলো পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের মহড়া চালিয়েছে এবং মস্কোর স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্স আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ল্যান্সার নিয়ে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সাইবেরিয়ার জঙ্গলে অনুশীলন চালিয়েছে।
রাশিয়ার এই সমস্ত তৎপরতার জবাবে আমেরিকা এবং ন্যাটো জোট কোনো রকমের পরমাণু সর্তকতা জারি করতে পারে নি। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, “উত্তেজনাকর এইসময় আমেরিকা এবং ন্যাটো জোটের অন্য সদস্য দেশগুলো রাশিয়ার এই অবস্থানকে যথাযথভাবেই বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে।”
আমেরিকার এই অবস্থান থেকে প্রশ্ন উঠছে- রাশিয়ার পক্ষ থেকে পরমাণু সর্তকতা জারি করার পর আমেরিকা তাহলে সামরিক দিকে দিয়ে পিছু হটল কিনা?#
পার্সটুডে/এসআইবি/৩