বিশ্বব্যাপী বেকারত্ব বৃদ্ধিও হবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অন্যতম পরিণ
ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে বিশ্বে অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটও জোরদার করছে পাশ্চাত্য
ইউক্রেনে যুদ্ধ চলতে থাকায় বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চলের অর্থনীতি ও বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কোনো কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিশ্বব্যাংক বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং এসব দেশে দারিদ্র বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল স্যাটলম্যান্ট ব্যাংকের প্রধানও ঘোষণা করেছেন চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পাশ্চাত্যের সম্পর্ক অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়ায় বিশ্বে মুদ্রাস্ফিতীর নতুন যুগের সূচনা হয়েছে এবং ব্যাংকের সুদের হারও বাড়ছে।
বিশ্বের খাদ্য ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব রেখেছে করোনা নামক বৈশ্বিক মহামারি, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং চলমান ইউক্রেন যুদ্ধও। বিশ্বের উল্লেখেযোগ্য পরিমাণ খাদ্য-শস্য উৎপাদন করে ইউক্রেন ও রাশিয়া।
ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ফাও জানিয়েছে ২০২১ সালে বিশ্বে খাদ্যের দাম ২৩ শতাংশ বেড়েছে। গত এক দশকে খাদ্যের দাম আর কখনও এত বাড়েনি। আর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বে গোশত, দুগ্ধজাত দ্রব্য, শস্য সামগ্রী, ভোজ্য তেল ও চিনি জাতীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির হার ১৯৬১ সালের পর বিশ্বে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌছেছে।
বিশ্বে গম, যব ও ভুট্টা জাতীয় শস্য ও ভোজ্য তেলের এক উল্লেখযোগ্য অংশ উৎপাদন করে রাশিয়া ও ইউক্রেন। কিন্তু এই দুই দেশ এখন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় এসব খাদ্যের দাম হু হু করে বেড়ে গেছে। এমনকি এই যুদ্ধের আগেই এসব খাদ্যের দাম সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছিল। আর এখন সারের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে আগামিতে বিশ্বব্যাপী প্রধান কৃষি পণ্য সামগ্রীর উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফাওয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আগামী মাসগুলোতে বিপর্যয়ের পর বিপর্যয় দেখতে হবে বলে আশঙ্কা করছি।
এ অবস্থায় দরিদ্র ও দুর্বল দেশগুলোর অবস্থা, বিশেষ করে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা মহাদেশ ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়বে। এসব অঞ্চলের অনেক দেশেই দুর্ভিক্ষ ও অনাহার দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়াও বিশ্বব্যাপী বেকারত্ব বৃদ্ধিও হবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অন্যতম পরিণতি। খাদ্য ও জ্বালানী তেলের দাম বাড়ায় বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশেই অন্যান্য বছরের তুলনায় মুদ্রাস্ফিতী ৫ শতাংশেরও বেশি হয়েছে যা ১৯৮০'র দশকের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড। আগামী দুই বছরে ইউরোপ ও আমেরিকায়ও মুদ্রাস্ফিতীর হার সাড়ে চার শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও উচ্চহারে মুদ্রাস্ফিতী দেখা দিলে যোগানের প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত দেখা দিবে এবং শ্রমিকরা বেশি বেতন দাবি করবে। এভাবে ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বিশ্বের সংকট বাড়তেই থাকবে। পাশ্চাত্য ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখায় এইসব সংকটও প্রলম্বিত হতে থাকবে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৬