পশ্চিমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে ইসরাইলপন্থী সন্ত্রাসী ও প্রেসার গ্রুপ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i138294-পশ্চিমে_মতপ্রকাশের_স্বাধীনতাকে_খর্ব_করছে_ইসরাইলপন্থী_সন্ত্রাসী_ও_প্রেসার_গ্রুপ
মিডল ইস্ট আইকে উদ্ধৃত করে পার্স টুডে জানিয়েছে, নিউইয়র্ক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য হেসেন জাবর নামে একজন ফিলিস্তিনি বংশদ্ভুত আমেরিকান নার্সকে পুরস্কৃত করেছিল।কিন্তু এর কয়েকদিন পরে গাজায় চলমান ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞকে তিনি 'গণহত্যা' বলে অভিহত করায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান থেকে তাকে বহিস্কৃত করা হয়।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
জুন ০৪, ২০২৪ ১৬:১৬ Asia/Dhaka
  • ডানদিকের ছবিটি ইসরাইলি প্রেসার গ্রুপের একজন মহিলা সদস্যের এবং বাম দিকের ছবিটি হেসেন জাবরের
    ডানদিকের ছবিটি ইসরাইলি প্রেসার গ্রুপের একজন মহিলা সদস্যের এবং বাম দিকের ছবিটি হেসেন জাবরের

মিডল ইস্ট আইকে উদ্ধৃত করে পার্স টুডে জানিয়েছে, নিউইয়র্ক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য হেসেন জাবর নামে একজন ফিলিস্তিনি বংশদ্ভুত আমেরিকান নার্সকে পুরস্কৃত করেছিল।কিন্তু এর কয়েকদিন পরে গাজায় চলমান ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞকে তিনি 'গণহত্যা' বলে অভিহত করায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান থেকে তাকে বহিস্কৃত করা হয়।

চিকিত্সকরা ফিলিস্তিন ইস্যুতে যারা চিন্তিত, উদ্বিগ্ন এবং প্রতিবাদ করতে চায় তাদের জন্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অত্যন্ত "শ্বাসরুদ্ধকর এবং প্রতিকূল" বলে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মী বা ছাত্রদেরকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছেনা। এমনকি ইসরাইল যখন ফিলিস্তিনদের হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করে নারী শিশুসহ সবাইকে পাইকারিভাবে হত্যা করছে, সব কিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে তখনও প্রতিবাদের কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

তারা আরো বলেছেন, গত আট মাস ধরে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা গাজার গণহত্যার ব্যাপারে নিজেদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাকে কেবল নিজেদের মধ্যেই গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছে। এর অন্যথায়  প্রতিবাদ করলেই কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।  

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ মেডিসিনের সাম্প্রতিক স্নাতক ডিগ্রি লাভকারী ভিক্টোরিয়া ক্লাদায়ার বলেছেন, "যদি কেউ প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা সম্পর্কে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে তবে তাদেরকে হয়রানি করা হয়, নির্যাতন করা হয়।

অথচ,অন্যরা প্রকাশ্যে ইসরাইলের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করতে পারে এবং এমনকি আমেরিকান-ইসরাইল পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির সম্মেলনেও যেতে পারে।

"ছাত্র এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ইমেল আক্রমণ এবং নানা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কারণে,আমরা ফিলিস্তিন সম্পর্কিত যে কোনো কথা বলতে ভয় পাই।"

হামলা ও নির্যাতনের আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ মেডিসিনের আরেক চিকিৎসক বলেছেন, আমরা মনে করি আমরা যা কিছু বলি সবই আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশি নজরদারি বহুগুণে বেড়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, হেসেন জাবেরকে বহিস্কারের ঘটনা থেকেই বোঝা যায় ফিলিস্তিনের সমর্থকরদের ওপর কিভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি বংশদ্ভুত আমেরিকান নার্স হেসেন জাবের যিনি ২০১৫ সাল থেকে নিউইয়র্ক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নার্স হিসাবে কাজ করছেন। ইসরাইলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার কারণে ৭ মে একটি পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকে তাকে বহিস্কার করার অনেক আগে তিনি বলেছিলেন যে তাকে থামিয়ে দেয়ার জন্য ব্যাপক চেষ্টা হয়েছিল।  

তিনি আরো বলেন তিনি ক্রমাগত পুলিশি চাপ ও তদন্তের মধ্যে ছিলেন এবং ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা অনলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের একজন ইসরাইল সমর্থকের সামান্য অভিযোগের ভিত্তিতে তার সাথে কর্তৃপক্ষ খারাপ আচরণ করেছে।

এ ব্যাপারে হেসেন জাবের বলেন, গাজায় বোমা হামলা অব্যাহত রাখতে ইসরাইলের জন্য তার এক সহকর্মী অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। তাকে আমি মানবতার বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। বলেছিলোম মানবতা তাহলে কোথায়? কিন্তু সে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। ফলে তখন থেকেই শুরু হয় আমার ওপর নির্যাতন ও হয়রানি। অথচ ইসরাইলের জন্য অর্থ সংগ্রহকারী তিনিও ছিলেন একজন মা।

যাইহোক, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনি ইস্যুতে বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করে দেয়ার দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি খুনি ইসরাইলের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।