আমাদের উচিত যেকোনো সংকট মোকাবেলায় সোলাইমানির মডেল অনুসরণ করা: বিশ্লেষক
-
• রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজাহ মোহাম্মদ আলী
পার্সটুডে- রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন যে সম্পূর্ণ সামরিক সমীকরণের বাইরে তাকিয়ে, শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল "কাসেম সোলাইমানি" পশ্চিম এশিয়ায় সংকটের বিস্তার রোধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন; আজও এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ বোঝার জন্য তার কর্মকাণ্ড ও সাফল্য পর্যালোচনার দাবি রাখে।
ইরনার সাথে এক সাক্ষাৎকারে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক "নাজাহ মোহাম্মদ আলী" ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এমন সময় জেনারেল সোলাইমানিকে শহীদ করা হয় যখন বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রকল্প এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছিল। নাজাহ মোহাম্মদ আলীর মতে, তার ওই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে টার্গেট করা হয়।
পার্সটুডে-এর মতে, ইরানের এই বিশ্লেষক গত দুই দশক ধরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেছেন যে এই অঞ্চলের সংকটগুলো মূলত প্রক্সি যুদ্ধ এবং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়া আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্ক দ্বারা গঠিত। নাজাহ মোহাম্মদ আলীর মতে, শহীদ সোলাইমানির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল যে তিনি নিরাপত্তাকে "আন্তঃসংযুক্ত" হিসেবে দেখেছিলেন; যার অর্থ হল এক দেশের ঘটনাবলী সরাসরি অন্য দেশের স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নাজাহ মুহাম্মদ আলী ২০০৩ সালের পর ইরাককে এই পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, ২০১৪ সালের প্রধান বিপদ শুধু যে কেবল আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান তা নয় একই সাথে ইরাকি সরকার পুরোপুরি পতনের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন যে শহীদ সোলাইমানির লক্ষ্য ছিল ইরাকের সরকারকে ফেলে দেয়া নয় নয়, বরং সরকারী প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশটিকে শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের বৈধতা এবং সরকারী সেনা বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করা হয়।
পরিশেষে,এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন সিরিয়ায়, মূল লক্ষ্য ছিল ওই দেশটির সরকারের পতন ঠেকানো এবং লিবিয়ার পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা। তার মতে, সোলাইমানির উত্তরাধিকার হিসাবে আমাদের উচিত সংকট মোকাবেলায় তার মডেল অনুসরণ করা।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন