ইউরোপীয়রা কেন আরও কঠিন জীবনের আশঙ্কায় রয়েছে?
-
• ইউরোপীয়রা কেন আরও কঠিন জীবনের আশঙ্কায় রয়েছে?
পার্সটুডে- ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৩টি সদস্য রাষ্ট্রের উপর একটি নতুন জরিপ থেকে মহাদেশেটির মানুষের সম্মিলিত মনোভাবের একটি গভীর চিত্র ফুটে উঠেছে।
FGS গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের উদ্ধৃতি দিয়ে পলিটিকো সংবাদপত্র ২৬ জানুয়ারী এক প্রতিবেদনে লিখেছে যে, ৭৬% ইউরোপীয় নাগরিক তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশাবাদী। জরিপ অনুসারে, প্রায় ৮০% বিশ্বাস করে যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের পিতামাতার তুলনায় আরও কঠিন জীবনের মুখোমুখি হবে। এই পরিসংখ্যানগুলি ইউরোপীয় সমাজে একটি গভীর এবং কাঠামোগত উদ্বেগের প্রমান। এই ব্যাপক হতাশাবাদ লক্ষ লক্ষ নাগরিকের অভিজ্ঞতাকে প্রতিফলিত করে যারা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একই সাথে অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হয়েছে এবং ভবিষ্যৎকে আরও ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত পথ হিসেবে দেখেছে।
অর্থনৈতিক স্তরে, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট এই হতাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে। যদিও কিছু ইউরোপীয় দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ২০২২ এবং ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ স্তর থেকে কমে এসেছে, তবুও পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার উপর তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। প্রকৃত মজুরি স্থবিরতা, বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খরচের চাপ "পিছিয়ে থাকার" অনুভূতিকে একটি সাধারণ অভিজ্ঞতা করে তুলেছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং তরুণদের মধ্যে। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ (বিসিজি) তার বিশ্লেষণে তুলে ধরেছে যে অর্ধেকেরও বেশি ইউরোপীয় ভোক্তা এখনও তাদের দেশের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে হতাশ এবং তাদের জীবিকা টেকসইভাবে উন্নত হবে বলে আত্মবিশ্বাসী নয়। এটি ব্রুগেল এবং জ্যাক ডেলর্স ইনস্টিটিউটের মতো থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলির সতর্কবার্তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এই থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলির প্রতিবেদনগুলি দেখায় যে কম উৎপাদনশীলতা, বয়স্ক জনসংখ্যা এবং সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থার উপর চাপের কারণে ইইউর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মডেল ক্লান্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং গভীর সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হবে না। তবে, ইউরোপীয় হতাশাবাদ কেবল অর্থনৈতিকভাবেই নয়, বরং ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রসারিত হচ্ছে। সুইডেনের মতো দেশগুলিতে, ক্রমবর্ধমান অপরাধ এবং সহিংসতা এখন মুদ্রাস্ফীতির চেয়েও বড় উদ্বেগ, যা দৈনন্দিন নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের পটভূমিতে এই ঘটনাগুলি ঘটছে। ইপসোস জরিপগুলি দেখায় যে গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় দেশগুলির নাগরিকদের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ বিশ্বাস করে যে তাদের দেশ "ভুল পথে" এগিয়ে চলেছে। এই অবিশ্বাস ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্তগুলিকেও প্রভাবিত করছে বিশেষ করে ফ্রান্সের মতো দেশগুলিতে।
একই সাথে, ইউরোপ নজিরবিহীন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে যা এই হতাশাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ইউক্রেনের যুদ্ধ শীতল যুদ্ধের পর থেকে বিরাজমান শান্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং আবারও ইউরোপীয় মহাদেশে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে একটি বাস্তব উদ্বেগের বিষয় করে তুলেছে। পোল্যান্ডে, প্রায় অর্ধেক নাগরিক সামরিক সংঘাতকে তাদের সবচেয়ে বড় জাতীয় হুমকি হিসেবে দেখেন। উপরন্তু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগুলি ন্যাটোর ভবিষ্যত নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি করেছে। একই FGS গ্লোবাল জরিপ অনুসারে, দুই-তৃতীয়াংশ ইউরোপীয় বিশ্বাস করেন যে ট্রাম্পের নীতিগুলি তাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে না বা তাদের দেশের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে না। #
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।