সম্ভাব্য যুদ্ধে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ-ভিত্তিক কৌশলগুলো শত্রুদের হতবাক করবে
https://parstoday.ir/bn/news/event-i159480-সম্ভাব্য_যুদ্ধে_ইরানের_দীর্ঘমেয়াদি_প্রতিরোধ_ভিত্তিক_কৌশলগুলো_শত্রুদের_হতবাক_করবে
পার্সটুডে: ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধ ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধের নিয়ম পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে। আর শুধু আমেরিকান ঘাঁটি নয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ-নীতির সংজ্ঞা অনুযায়ী এবং ভুলের পুনরাবৃত্তি রুখতে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোকেও ইরানের সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তুতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
(last modified 2026-05-18T14:35:50+00:00 )
মে ১৮, ২০২৬ ১৯:৫১ Asia/Dhaka
  • নতুন যুদ্ধে তেহরান শত্রুদের বিস্মিত করবে প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিয়ে
    নতুন যুদ্ধে তেহরান শত্রুদের বিস্মিত করবে প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিয়ে

পার্সটুডে: ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধ ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধের নিয়ম পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে। আর শুধু আমেরিকান ঘাঁটি নয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ-নীতির সংজ্ঞা অনুযায়ী এবং ভুলের পুনরাবৃত্তি রুখতে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোকেও ইরানের সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তুতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ইরান ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই ঘাঁটিগুলো ছিল প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোতে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু আরব দেশ সুসম্পর্কের নীতি মেনে চলেনি; বরং নিজেদের ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধ-মঞ্চে পরিণত করেছিল। ফলে সেগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

তবে হুমকি ও যুদ্ধের ক্ষেত্রটি এখন আরও নতুন পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে। বিপ্লবের শহীদ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আঞ্চলিক পরিসরে যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন: “আমেরিকানরা জেনে রাখুক, যদি এবার যুদ্ধ শুরু হয় তবে তা হবে আঞ্চলিক যুদ্ধ।” বাস্তবেও তাই ঘটেছে এবং ইরানের সামরিক কৌশল নেতৃত্বের নির্দেশনার প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছে। তবে নিশ্চিতভাবেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধের রূপ ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের তুলনায় অনেক ভিন্ন ধরনের হবে।

যেমন রমজানের যুদ্ধ ১২ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের তুলনায় স্পষ্ট ও গভীরভাবে ভিন্ন ছিল, তেমনি ভবিষ্যতে যদি আমেরিকা ও তার মিত্রদের কৌশলগত ভুলের কারণে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে প্রথমেই বলা যায় যে ইরান আরও বিস্তৃত ও আরও প্রাণঘাতী সীমারেখা অনুসরণ করবে।

ইরানের সামরিক পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে যুদ্ধক্ষেত্রে চমক সৃষ্টি করা দেশটির সামরিক পদক্ষেপ ও অভিযানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের বিস্তার, গভীরতা এবং ইরানের আঘাতের ধরন রমজানের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের তুলনায় ভিন্ন হবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলো হয়ত আরও গভীরভাবে আঞ্চলিক যুদ্ধের স্বাদ পাবে। বিশেষ করে এখন পর্দা সরে গেছে এবং এসব দেশের সহযোগিতার ধরন, ইরানের শত্রুকে উৎসাহ দেয়া, সাজ-সরঞ্জাম সরবরাহ এবং তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের বিস্তারই প্রথম বিষয় যা ভিন্ন হতে পারে, তবে লক্ষ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে আঘাতের ধরনেও নতুন পরিবর্তন আসবে।

এই প্রেক্ষাপটে, ইরান দীর্ঘমেয়াদি ও দৃঢ় প্রতিরোধ-নীতির দিকে অগ্রসর হবে এবং সেই কারণে যেসব দেশ পশ্চিমা লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নিজেদেরকে যুদ্ধের সরঞ্জামে পরিণত করেছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ইরানকে এই বিশ্বাসে উপনীত করতে পারে যে বিষয়টি কেবল মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের কারণেই নয়; একইসঙ্গে এসব দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর আঞ্চলিক মিত্র ও সহযোগী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও দৃঢ় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

এসব দেশের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক অবশ্যই ভবিষ্যতে ইরানের জন্য ইতিবাচক অর্থ বহন করতে হবে; অন্যথায় ইরানের মতো বড় প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কৌশলগত নিরাপত্তায় ভুল করা এবং আগ্রাসী পক্ষকে শাস্তি না দেয়া তাদের ভুল হিসাবকে আরও গভীর করবে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরান আর শুধু হুমকি নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করবে না; একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধকে সুসংহত করার মাধ্যমে সম্ভাব্য ও বাস্তব আগ্রাসীদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ থেকেই “কৌশলগতভাবে নির্মূল” করার পথে এগোবে।

এ প্রসঙ্গে ইসলামী পরামর্শ পরিষদের স্পিকার “মোহাম্মদ বাকের কলিবফ” যেকোনো পরিস্থিতির জন্য দেশের প্রস্তুতি এবং চমকের উপাদানের ওপর জোর দিয়ে লিখেছেন: “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের শিক্ষামূলক জবাব দিতে প্রস্তুত। ভুল কৌশল ও ভুল সিদ্ধান্ত সবসময় ভুল ফল বয়ে আনে—বিশ্ব ইতোমধ্যেই তা বুঝেছে। আমরা সব ধরনের বিকল্পের জন্য প্রস্তুত; তারা বিস্মিত হবে।”

ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার “সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি” জনগণের উদ্দেশে এক বার্তায় বলেছেন: “আমাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশীরা জেনে রাখুক, যদি তাদের ভূগোল ও সুযোগ-সুবিধা শত্রুদের মাধ্যমে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে বিদায় জানাতে হবে।”

আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক “মেহদি মোহাম্মাদি” ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধে দেশের চূড়ান্ত প্রতিরোধমূলক কৌশল সম্পর্কে লিখেছেন: “যদি আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়, তবে এবার লক্ষ্য হবে ভিন্ন। আর তা হল সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল ও সাজ-সরঞ্জামের মাধ্যমে শত্রুকে হতভম্ব ও বিস্মিত করা। শত্রু যেসব শক্তিকে অজেয় মনে করে, সেগুলোতে আঘাত হানা। শত্রুর সময়-পরিকল্পনার সীমা অতিক্রম করা, যাতে তার সময়গত হিসাব ভেঙে পড়ে এবং সেই মুহূর্তই প্রকৃত প্রতিরোধ গঠনের মুহূর্তে পরিণত হয়। শত্রুর মিত্রদেরও পূর্ণাঙ্গ শাস্তি দেয়া হবে—কোনও সীমাবদ্ধতা ছাড়াই।”

রমজানের যুদ্ধের ধরণ পুনরাবৃত্তি হওয়ার অর্থ হল ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু নতুন রূপই নেবে না, একইসঙ্গে এমন সব চমক নিয়ে আসবে যা আঞ্চলিক দেশগুলোকে পশ্চিমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকার মূল্য নতুন করে মূল্যায়ন করতে বাধ্য করবে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের “দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ-নীতি” কেবল মার্কিন ঘাঁটিকে পাল্টা হুমকি দেয়ার ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং “যুদ্ধ উসকানির নিরঙ্কুশ সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা”-র ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।

যেসব দেশ আগে মনে করত যে নিজেদের ভূখণ্ড আমেরিকার হাতে তুলে দিলেও যুদ্ধের কোণও মূল্য তাদের দিতে হবে না, তারা এখন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। অন্য কথায়, ইরান সংঘর্ষের নিয়ম বদলে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয়ের মূল্যকে “হুমকির ঝুঁকি” থেকে “প্রতিরোধমূলক আঘাতে” রূপান্তর করবে।

যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের চমক দেখানোর বিষয়টি এটাও প্রমাণ করে যে ভবিষ্যতের যুদ্ধে তেহরান শত্রুদের বিস্মিত করবে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে নয়, পুরো আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে ইরানের পক্ষে পুনর্বিন্যাস করার সক্ষমতা দেখিয়েও।#