ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় রহস্যময় বিস্ফোরণ: সত্য লুকাচ্ছে তেল আবিব!
-
ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় বিস্ফোরণ
অধিকৃত জেরুজালেমের (কুদ্স) কাছে অবস্থিত ইসরায়েলের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও গবেষণা কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই ঘটনাকে ইহুদিবাদী সরকারের পক্ষ থেকে 'নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা' বলে দাবি করা হলেও, খোদ ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো তা বিশ্বাস করছে না। তেল আবিব এই ঘটনার আসল সত্য গোপন করছে বলে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করেছে দেশটির মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে ইসরায়েলি মিডিয়ার বরাত দিয়ে জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় অধিকৃত জেরুজালেম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত 'বাইত শিমেশ' এলাকায় এই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। আক্রান্ত কারখানাটি ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সামরিক কোম্পানি ‘তোমার’ (Tomer)-এর মালিকানাধীন, যা মূলত দেশটির প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ও তৈরির কাজ করে থাকে।
বিস্ফোরণের পরপরই ইসরায়েলি সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ও ‘নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ’ বা পরীক্ষা ছিল।
তবে সরকারের এই বয়ানকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলের নিজস্ব গণমাধ্যম। ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল 'i24' এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, "বাইত শিমেশের বিস্ফোরণটি আগে থেকে পরিকল্পিত কোনো পরীক্ষা ছিল—এমন সরকারি দাবির পেছনে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। সেখানে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, তা এখনও আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।"
একই সুর শোনা গেছে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম 'কান' (Kan)-এর কণ্ঠেও। চ্যানেলটি সরাসরি বলেছে, "বাইত শিমেশের এই বিস্ফোরণটি কোনোভাবেই একটি নিয়ন্ত্রিত ঘটনা হওয়ার সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিতভাবেই বড় কোনো সত্য লুকাচ্ছে।"
এদিকে ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক 'মাআরিভ' (Ma'ariv) এই ঘটনার প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরে লিখেছে, "অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো সাধারণত যেকোনো পরীক্ষা চালানোর আগে, বিশেষ করে তা যদি বড় কোনো পরীক্ষা হয়, তবে আগে থেকেই সংশ্লিষ্টদের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে। কিন্তু বাইত শিমেশের বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে এমন কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। এর থেকে স্পষ্ট যে, এখানে আমাদের কাছ থেকে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা হামলা গোপন করা হচ্ছে।"
বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, যা নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৭