যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অতিরিক্ত ও বেআইনি: ইরান
ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে ইসলামাবাদ ছাড়লেন জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তিনি ইসলামাবাদ ছাড়েন।
পাকিস্তান সময় আজ (রোববার) সকাল ৭টা ৮ মিনিটে (জিএমটি ২টা ০৮ মিনিট) ভ্যান্স ‘এয়ারফোর্স টু’ বিমানে চড়েন।
পাকিস্তান ছাড়ার আগে ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও করেছি, এটাই ভালো খবর। তবে খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।”
ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, “ইরান যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, সে বিষয়ে তাদের কাছ থেকে একটি ‘স্পষ্ট অঙ্গীকার’ প্রয়োজন। সহজ কথা হলো, আমাদের এমন একটি জোরাল প্রতিশ্রুতি দেখতে হবে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এমনকি দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম—এমন কোনো সরঞ্জাম বা প্রযুক্তিও তারা অর্জনের চেষ্টা করবে না।”
ভ্যান্স দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় মনোভাব এবং ‘সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই’ আলোচনায় এসেছিল, কিন্তু দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।
“আমরা এখান থেকে একটি অত্যন্ত সহজ প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছি, বোঝাপড়ার পদ্ধতি, যা আমাদের চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব। দেখা যাক, ইরানিরা সেটি গ্রহণ করে কি না।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অতিরিক্ত ও বেআইনি। ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপরও আলোচনার সাফল্য নির্ভরশীল বলে জানান বাকায়ি।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসমাইল বাকায়ি বলেন, ‘পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতায় শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া নিবিড় আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে অসংখ্য বার্তা ও খসড়া বিনিময় হয়েছে।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও লিখেছেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় আলোচনার মূল বিষয়গুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে ও এই অঞ্চলে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান।’
যুক্তরাষ্ট্রকে সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বান জানিয়ে ইসমাইল বাকায়ি লিখেছেন, ‘এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর। পাশাপাশি তাদের অতিরিক্ত ও বেআইনি দাবি থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপরও এটি নির্ভরশীল।’#
পার্সটুডে/এমএআর/১২