ইউরোপে রাজনৈতিক ভূমিকম্প; ট্রাম্পের মিত্রদের একে একে পতন ঘটছে
https://parstoday.ir/bn/news/world-i158492-ইউরোপে_রাজনৈতিক_ভূমিকম্প_ট্রাম্পের_মিত্রদের_একে_একে_পতন_ঘটছে
পার্সটুডে- হাঙ্গেরির রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি বৈশ্বিক সমীকরণে গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র ভিক্টর ওরবানের পরাজয় যুদ্ধ, জনমত এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে বিদেশি সমর্থনের ওপর নির্ভর করার অকার্যকারিতার প্রভাবেরই প্রতিফলন।
(last modified 2026-04-15T04:06:37+00:00 )
এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১০:০৩ Asia/Dhaka
  • ট্রাম্পের মিত্ররা একে একে সরে যাচ্ছে
    ট্রাম্পের মিত্ররা একে একে সরে যাচ্ছে

পার্সটুডে- হাঙ্গেরির রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি বৈশ্বিক সমীকরণে গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র ভিক্টর ওরবানের পরাজয় যুদ্ধ, জনমত এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে বিদেশি সমর্থনের ওপর নির্ভর করার অকার্যকারিতার প্রভাবেরই প্রতিফলন।

পার্সটুডে জানিয়েছে, পিটার মাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হাঙ্গেরির সংসদীয় নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণকে পাল্টে দিয়েছে। প্রায় ৭২% ভোট গণনা শেষে, ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ভিক্টর ওরবান পরাজয় স্বীকার করে নেন এবং তার প্রতিপক্ষকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। আপাতদৃষ্টিতে এই ঘটনাটি একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ের গভীরতর ঘটনাপ্রবাহেরই প্রতিফলন।

ওরবানের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে বিবেচনায় নিলে এই নির্বাচনের গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে যায়। তিনি ২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রার্থীতাকে সমর্থনকারী প্রথম ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে একজন ছিলেন এবং তখন থেকেই আমেরিকার ডানপন্থী আন্দোলনগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এমনকি এই নির্বাচনের সময়েও, ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং হাঙ্গেরির রাজনৈতিক অঙ্গনে জে.ডি. ভ্যান্সের মতো ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি এই সম্পর্কগুলোর উচ্চ পর্যায়ের ইঙ্গিত দিয়েছে।

যুদ্ধ এবং জনমতের উপর এর প্রভাব

এই নির্বাচনগুলোর ফলাফল সমসাময়িক বৈশ্বিক ঘটনাবলী ভোটারদের চিন্তাভাবনা গঠনে একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এই অঞ্চলে, বিশেষ করে ইরানের সাথে সম্পর্কিত সাম্প্রতিক সংঘাত ও ব্যাপক উত্তেজনা, সেইসাথে লেবাননের গণহত্যা, বৃহৎ শক্তিগুলোর নীতির প্রতি জনমতের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে ইউরোপে, জনমত এই সংঘাতগুলোর পরিণতি সম্পর্কে আরও সচেতন হয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এর প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এই প্রতিক্রিয়াগুলো কেবল রাজপথের বিক্ষোভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং নির্বাচন এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলেছে।

রাজনীতি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আমেরিকার উপর নির্ভর করার নেতিবাচক ফল

এই ঘটনাপ্রবাহের অন্যতম প্রধান বার্তা হলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমেরিকার উপর নির্ভর করার নেতিবাচক ফল। ট্রাম্পের দেওয়া অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি, যার মধ্যে হাঙ্গেরির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য “আমেরিকার সমস্ত অর্থনৈতিক শক্তি” ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতিও ছিল। কিন্তু তারপরও তা নির্বাচনের ফলাফলের উপর কোনো নির্ণায়ক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে।

অরবান ভেবেছিলেন যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে মিত্রতা তার অবস্থানকে স্থিতিশীল করতে পারে, তাই তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বিষয়েও এই সম্পর্ক দ্বারা প্রভাবিত নীতি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়েছে যে এই পন্থা কেবল ব্যর্থই হয়নি, বরং জনপ্রিয় সমর্থনেরও পতন ঘটিয়েছে।

আন্তঃআঞ্চলিক প্রভাব এবং পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

হাঙ্গেরির ঘটনাপ্রবাহ শুধু এই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এবং এটি ইউরোপ এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক গতিধারাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

অন্যদিকে, জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪৫% কমে গেছে; এই বিষয়টি ভবিষ্যতের মার্কিন নির্বাচনেও প্রভাবিত করতে পারে। অথচ স্পেনের মতো কিছু ইউরোপীয় দেশে মার্কিন নীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়ার কারণে নেতাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।