ইরান কি ট্রাম্পের জন্য 'ভিয়েতনাম' হয়ে উঠছে?
পার্সটুডে- যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এখনও হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের পথ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মনে হচ্ছে এই নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। এই সপ্তাহে ইরান বেশ কয়েকটি জাহাজ জব্দ করেছে এবং মার্কিন অবরোধ ভেঙেছে। প্রশ্ন উঠেছে ইরান কি ট্রাম্পের জন্য ভিয়েতনামের চোরাবালির পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছে?
না, ইরান এখনও “আরেকটি ভিয়েতনাম” হয়ে ওঠেনি।
এখানে মার্কিন স্থলবাহিনীর অসহনীয় হতাহতের ঘটনা ঘটছে না, সাপ্তাহিক মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে কোনো শিরোনাম হচ্ছে না, এবং আমেরিকার রাস্তায় কোনো বিশাল যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভও হচ্ছে না। আর, পরাজিত লিন্ডন বেইনস জনসনের পরিবর্তে, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গর্বের সাথে দাবি করছেন যে তিনি মাত্র কয়েক মাস ধরে এই যুদ্ধে আছেন এবং তিনি যদি ভিয়েতনামে থাকতেন, তাহলে সেখানে খুব দ্রুত জিতে যেতেন। কিন্তু তেহরান ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর যে চাপ সৃষ্টি করছে, তা হঠাৎ করেই ভিয়েতনামে জনসনকে বিভ্রান্ত করা চাপের মতোই মনে হচ্ছে। বিশেষ করে, এই পরিস্থিতি উত্তর ভিয়েতনামের কিংবদন্তি নেতা হো চি মিনের জেদ ধরে রাখা সফল কৌশলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করে-যা প্রেসিডেন্ট মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি করবেন না বলে জোর দিয়েছিলেন-তেহরান হো চি মিনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করছে বলেই মনে হচ্ছে।
মার্কিন ফরেন পলিসির মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ইরান এখনও হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের পথ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মনে হচ্ছে তারা এই নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে। এই সপ্তাহে তারা বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক করেছে এবং মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে গেছে। কার্গো ট্র্যাকিং কোম্পানি ভার্টেক্সাকে উদ্ধৃত করে ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরানের সাথে যুক্ত প্রায় ৩৪টি তেল ট্যাঙ্কার এই অবরোধ এড়িয়ে গেছে। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির পরিচালক কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে স্বীকার করেছেন যে ইরানের কাছে এখনও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন রয়েছে। একই সময়ে, সিবিএস ২২শে এপ্রিল জানিয়েছে যে ৮ই এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরুর সময় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার মজুদের প্রায় অর্ধেক অক্ষত ছিল, সেইসাথে প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটাতে ব্যবহৃত বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর নৌবাহিনীর প্রায় ৬০ শতাংশও অক্ষত ছিল। এই সংখ্যাগুলো প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেটের দাবিগুলোকে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করে; হেগসেট সেই ব্যক্তি যিনি যুদ্ধবিরতি শুরুর দিনে ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন ছিল যুদ্ধক্ষেত্রের এক ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত বিজয়। #
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন