ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন: সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
-
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন
পার্সটুডে: সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিণতি 'বাস্তব'এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন।
ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুটি বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন: ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং হ্রাস পাওয়া গোলাবারুদের মজুত। কিন্তু বিষয়টি শুধু মূল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পণ্যের সহজলভ্যতা এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমেরিকার জনগণের জন্য এর পরিণতি বাস্তব।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট একটি সমাধানের পথ খুঁজছেন। আমি আশা করি তিনি একটি পথ খুঁজে পাবেন। একটি চুক্তিতে পৌঁছাতেই হবে। কিন্তু ইরান সুবিধা অর্জন করেছে এবং তা ব্যবহার করবে।
সাবেক পেন্টাগন বিশ্লেষক মাইকেল মালুফও আল-মায়াদিনকে বলেছেন, ট্রাম্প ওবামা চুক্তির চেয়ে ভালো কোনো চুক্তি পাবেন না এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও তার জলসীমায় সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে।
মালুফ আরও বলেন: সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এবং এটি তেল আবিবের হাতের একটি হাতিয়ার, এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং মার্কিন বিশ্লেষক জন মের্শেইমার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপ কোনোভাবেই আমেরিকার পক্ষে যাবে না। হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতার কথা উল্লেখ করে মের্শেইমার জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিপর্যয়কর ব্যর্থতা, আমরা আমাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারিনি এবং ইরান হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে ও এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।
এই বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের একমাত্র কারণ হলো ইরানের ওপর বোমা হামলা কার্যকর হয়নি। তিনি আরও বলেন, ইরানিরা এই চাপও প্রতিহত করবে। নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন