‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মস্কো-তেহরান-বেইজিং জোটকে শক্তিশালী করেছে’
https://parstoday.ir/bn/news/world-i159622-ইরানের_বিরুদ্ধে_যুদ্ধ_মস্কো_তেহরান_বেইজিং_জোটকে_শক্তিশালী_করেছে’
পার্সটুডে- রাই আল-ইয়াউম অনলাইন সংবাদপত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাবের অন্যতম পরিণতি হিসেবে তেহরানের পাশাপাশি মস্কো ও বেইজিংয়ের কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করেছে।
(last modified 2026-05-24T05:48:29+00:00 )
মে ২৪, ২০২৬ ১১:৪৬ Asia/Dhaka
  • ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মস্কো-তেহরান-বেইজিং জোটকে শক্তিশালী করেছে’
    ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মস্কো-তেহরান-বেইজিং জোটকে শক্তিশালী করেছে’

পার্সটুডে- রাই আল-ইয়াউম অনলাইন সংবাদপত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাবের অন্যতম পরিণতি হিসেবে তেহরানের পাশাপাশি মস্কো ও বেইজিংয়ের কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করেছে।

তাসনিমের বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের সাথে যুদ্ধের আন্তর্জাতিক পরিণতি সম্পর্কে দৈনিকটি নিরোণাম করেছে, “ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ কীভাবে মস্কো ও বেইজিংকে কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছে?”

শিরোনামের প্রবন্ধে লেখা হয়েছে, রাশিয়া ও চীন উভয়ই উপলব্ধি করেছে যে এই অঞ্চলে যা ঘটছে তা কেবল ইরানের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যের সাথেও সম্পর্কিত। রাশিয়া মনে করে ইরানকে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা কার্যত ইউরেশিয়া এবং এই অঞ্চলে মস্কোর পশ্চিমা-বিরোধী প্রভাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তিকে দুর্বল করবে।  

চীনের জন্য, ইরানকে অস্থিতিশীল করা সরাসরি দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের পথ এবং পারস্য উপসাগরের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ, যার ওপর বেইজিং অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে নির্ভরশীল।

সুতরাং, পুতিনের বেইজিং সফরকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কৌশলগত প্রতিক্রিয়া বলে মনে হচ্ছে। মস্কো বোঝে যে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর পশ্চিমা আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ব্যাপক মার্কিন পরিকল্পনার কাঠামোর মধ্যে ওয়াশিংটন তার বৈশ্বিক অগ্রাধিকারগুলো পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে যার মধ্যে রয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনকে নিয়ন্ত্রণ করা, ইউরোপে রাশিয়াকে দুর্বল করা এবং এই অঞ্চলে ইরানকে ঘিরে ফেলা।

তাই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আমেরিকার অনেক হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে এবং হিতে বিপরীত হয়েছে। রাশিয়া-চীন-ইরান অক্ষকে ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে, এটি তিন পক্ষকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। পশ্চিমা চাপ তীব্র হওয়ার সাথে সাথে মস্কো ও বেইজিং ক্রমশ নিশ্চিত হচ্ছে যে, এই সংঘাত আর বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নিয়ে নয় বরং স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একমেরু ব্যবস্থার বিপরীতে একটি বহুমেরু বিশ্বের দিকে নিয়ে যাবে।

মস্কো ও বেইজিং তাদের সহযোগিতাকে আর একটি অস্থায়ী কৌশলগত জোট হিসেবে দেখে না, বরং ক্রমবর্ধমান মার্কিন চাপ মোকাবেলার জন্য এটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অপরিহার্যতা হিসেবে বিবেচনা করে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে চীনকে প্রয়োজন, অন্যদিকে চীনেরও রাশিয়াকে প্রয়োজন জ্বালানির উৎস এবং মার্কিন প্রভাবকে ভারসাম্য দিতে সক্ষম একটি ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক অংশীদার হিসেবে।

এই সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে, ইরান মূলত মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে একটি কৌশলগত সংযোগস্থলে পরিণত হয়। রাশিয়া তেহরানকে এই অঞ্চলে মার্কিন প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা রেখা হিসেবে দেখে, অন্যদিকে চীন ইরানকে মধ্য এশিয়া ও এই অঞ্চলের জন্য জ্বালানি ও বাণিজ্য পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করে।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।