‘ভারতকে মোকাবেলায় বৃহত্তর সার্ক গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান’
-
ফাইল ফটো
আট সদস্যের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্কের ওপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ মোকাবেলা করতে বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক জোট তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন।
আমেরিকা সফররত পাকিস্তানের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান সিনেটর সৈয়দ মুশাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এরইমধ্যে একটি বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ার উদ্ভব হতে শুরু করেছে। এতে চীন, ইরান ও প্রতিবেশী মধ্য-এশিয়ার দেশগুলো রয়েছে।”
তিনি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সংযোগকারী প্রধান অর্থনৈতিক রুট হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া, চীনসহ স্থলবেষ্টিত মধ্য-এশীয় দেশগুলোর জন্য গোয়াদার বন্দর সবচেয়ে কাছের উষ্ণ পানির বন্দর হবে বলে মনে করেন তিনি।
মুশাহিদ হোসেন বলেন, “আমরা চাই এই ব্যবস্থায় ভারতও যুক্ত হোক।” তবে ডন বলছে, “পাক সিনেটরের এ প্রস্তাব ভারতের গ্রহণ করার সম্ভাবনা খুব কম কারণ সার্কের দেয়া সুবিধা নিয়েই দিল্লি স্বস্তিতে আছে।”
গত মাসে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে ভারত সার্কে নিজের প্রভাব ব্যবহার করে। ভারত ঘোষণা করে, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে দেশটি যোগ দেবে না। সার্কভুক্ত তিন দেশ- আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান এই সম্মেলন বর্জনে অংশ নেয় এবং এর ফলে সম্মেলনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। যে জোটে পাকিস্তান একসময় প্রধান ভূমিকা পালন করত সেখানে পাকিস্তান এখন অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।
ডনের এ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে- “সার্কভুক্ত আটটি দেশের মধ্যে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ ভারতের শক্তিশালী মিত্র এবং চারদিকে ভারতবেষ্টিত ভুটানও নয়াদিল্লির কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে না। মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ভালো হলেও দেশগুলো ভারতকে মোকাবেলা করার মতো যথেষ্ট বড় নয়।”
পাকিস্তান একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা খুঁজছে, এই বিষয়ে নিশ্চিত করতে গিয়ে এক শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, “দৃশ্যত, এই সম্মেলন বর্জনের কারণে পাকিস্তানকে বর্তমান পরিস্থিতি সমাপ্তি টানতে বাধ্য করছে যে, সার্ক সবসময়ই ভারত দ্বারা প্রভাবিত হবে। তাই তারা এখন বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ার কথা বলছেন।”
অন্য এক কূটনীতিকের মতে, “পাকিস্তান আশা করছে, যখনই ভারত কোনো সিদ্ধান্ত তার ওপর চাপিয়ে দিতে চাইবে তখন এই নতুন ব্যবস্থাপনাই তাকে রণকৌশলী হওয়ার জন্য আরো বেশি জায়গা করে দেবে।”
ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় জোট চীনের পক্ষেও মানানসই কারণ এশিয়া অঞ্চলে ভারতের দ্রুত বেড়ে চলা প্রভাব নিয়ে চীনও উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, ইরানকে এই নতুন ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসা এবং মধ্যএশিয়ার দেশগুলোকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে চীন গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১২