মসুলে চলছে অভিযান: পালিয়ে আসা দায়েশ সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তিত ইউরোপ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনার জুলিয়ান কিং সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরাকি সেনাবাহিনী উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের কবল থেকে মসুল শহর দখল করতে সক্ষম হলে ইউরোপকে দায়েশ সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কর্মকর্তা জার্মান দৈনিক ডে ওয়াল্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, দায়েশ যদি ইরাকের মসুল শহর হাত ছাড়া করে তাহলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে ইউরোপে গিয়ে তাদের সহিংস তৎপরতা চালাতে পারে। তিনি দায়েশের ইউরোপে আসার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত বিপদজনক অভিহিত করে বলেন, এ অবস্থায় তাদের সহিংস কর্মকাণ্ড মোকাবেলার জন্য ইউরোপকে অবশ্যই প্রস্তুতি নিতে হবে।
ইরাকের সেনা ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী দায়েশের কবল থেকে মসুল শহর মুক্ত করার জন্য ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা নিজেদের নিরাপত্তার ভবিষ্যত অন্ধকার দেখতে পাচ্ছেন। কারণ দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগদানকারী ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা নিজ দেশে ফিরে গেলে সেখানেও তারা সহিংস কর্মকাণ্ড চালাতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্যারিসে এবং চলতি বছরের মার্চে ব্রাসেলসে ও জার্মানিতে বেশ ক'বার যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে ইরাক থেকে পালিয়ে আসা দায়েশ সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারে না ইউরোপ।
ইউরোপের নিরাপত্তা কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মহাদেশের হাজার হাজার নাগরিক দায়েশের মতো উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোতে যোগ দিয়েছে। এ ছাড়া, গত জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুলিশ বা 'ইউরোপোল'এর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যারা যোগ দিয়েছে তাদের মধ্যে ৪৩০০ জন হচ্ছে ইউরোপের নাগরিক। ইউরোপের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা ও কর্মকর্তারা দায়েশ সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে খুব বেশি চিন্তিত পড়েছে। অথচ ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো ইউরোপের বৃহৎ দেশগুলো, আমেরিকা এবং তাদের মিত্র কয়েকটি আরব দেশ মিলে দায়েশ সৃষ্টি করেছে এবং তারাই ইরাক ও সিরিয়াকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইউরোপ বর্তমানে দুই ধরণের বিপদের সম্মুখীন। প্রথমত, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক ও সিরিয়া থেকে আসা লাখ লাখ শরণার্থীর ঢল সামলাতে হচ্ছে ইউরোপকে যা কিনা এ যাবতকালে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়ত, ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে আসা ইউরোপীয় নাগরিকরা বিরাট আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে যারা কিনা ইউরোপে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটাতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষ করে ফ্রান্স ভাবতেই পারেনি তারা এতদিন ধরে যে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে লালন পালন ও সবরকম সাহায্য সহযোগিতা করে এসেছে তারাই এক সময় ইউরোপের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বাস্তবতা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদের বীজ ইউরোপীয় সরকারগুলোই বপন করেছিল আজ তারই ফল ভোগ করতে হচ্ছে তাদেরকে।
অতীত অভিজ্ঞতাও দেখা গেছে, যে সরকারই সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে এক সময় এই সন্ত্রাসীরা তাদের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর সন্ত্রাসীদেরকে ভালো ও মন্দ এই দুই ভাগে ভাগ করেছে। এরই পরিণতিতে ইউরোপ আজ নিজ এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলার আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে। পাশ্চাত্য এবং আরব দেশগুলো দায়েশের মতো সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার পরিবর্তে উল্টো তাদেরকে নিজ স্বার্থ পূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
যাইহোক, ইরাক ও সিরিয়ায় একের এক পরাজিত হওয়ার ফলে দায়েশের ইউরোপীয় নাগরিকরা নিজ দেশে ফিরতে শুরু করায় ইউরোপও অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে অনেকেরই আশঙ্কা। #
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১৮