লন্ডনস্থ ইরানি দূতাবাসের বিবৃতি
মার্কিন-ইসরায়েলি অপরাধযজ্ঞের ব্যাপারে নিরবতা নৈতিক দেউলিয়াত্ব: ইউরোপীয় পরিষদের প্রতি ইরান
-
লন্ডনস্থ ইরানি দূতাবাস
পার্সটুডে: ব্রিটেনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস বলেছে, সম্প্রতি ইউরোপিয় পরিষদ প্রধান আঞ্চলিক ঘটনা-প্রবাহ সম্পর্কে যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে মার্কিন ও ইসরায়েলি অপরাধযজ্ঞের ব্যাপারে এই পরিষদের নিরবতা ইউরোপকে নেতৃত্ব দানের ক্ষেত্রে সংস্থাটির নৈতিক দেউলিয়াত্বই তুলে ধরেছে।
লন্ডনস্থ ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, যখন ইউরোপের মিলিয়ন মিলিয়ন বিবেকবান মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধ-অপরাধের নিন্দা জানিয়েছে তখন ইউরোপীয় পরিষদ প্রধান অ্যান্টনিও ক’স্তা ইসরায়েল শব্দটিও মুখে আনেননি বরং ইরানকে দোষী হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন।
এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ক’স্তার এই আচরণ কূটনীতি নয়, এটি নৈতিক দেউলিয়াত্ব ও কপটতা বা ভণ্ডামি। আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতা ভুলে যান; এটি হাস্যকর অবস্থা। ইউরোপের নেতৃত্ব সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিরব থেকেছে। এটি সত্যিই লজ্জাজনক।‘
ইউরোপীয় পরিষদ প্রধান ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি অক্ষের অপরাধযজ্ঞের কোনও নিন্দা না জানিয়েই কূটনৈতিক সমাধানকে চলমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ বলে আবারও উল্লেখ করে এক বিবৃতি দিয়েছেন। অ্যান্টনিও ক’স্তা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ৫ সপ্তাহ পর এটা স্পষ্ট যে কেবল একটি কূটনৈতিক সমাধানই এই সংকটের শেকড়গুলোর অবসান ঘটাতে পারে।
তিনি আরও বলেছেন, যেমনটি সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোন-সংলাপে বলেছি, ইউরোপিয় জোট চায় ইরান তার আশপাশের দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করুক এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাধীনভাবে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার পরিবেশ তৈরি করুক।
ইউরোপীয় পরিষদ প্রধান আরও বলেছেন, উত্তেজনা জোরদার যুদ্ধ-বিরতি ও শান্তি বয়ে আনবে না; কেবল সংলাপ, বিশেষ করে আঞ্চলিক শরিক দেশগুলোর নেতৃত্বে বর্তমানে যে প্রচেষ্টাগুলো চলছে তা এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারে।
তার এই বক্তব্যে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং বিশেষ করে পাকিস্তানের একটি প্রস্তাবের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে যে প্রস্তাবে দুই ধাপে ৪৫দিনের একটি যুদ্ধ-বিরতি ও আলোচনার কথা বলা হয়েছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন