তুর্কি শিক্ষকদের বহিষ্কারাদেশ: পাক সরকারের সিদ্ধান্ত আটকে দিল আদালত
https://parstoday.ir/bn/news/world-i26563-তুর্কি_শিক্ষকদের_বহিষ্কারাদেশ_পাক_সরকারের_সিদ্ধান্ত_আটকে_দিল_আদালত
পাক-তুর্ক স্কুল কর্মচারিদের পাকিস্তান থেকে বহিষ্কারের সরকারি আদেশ স্থগিত করেছে পেশোয়ার হাইকোর্ট। পাক-তুর্ক স্কুলে কর্মরত ১০০ তুর্কি শিক্ষক ও তাদের পরিবারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। এর কয়েকদিন পরেই পেশোয়ার হাইকোর্ট সরকারকে এ পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলেছে। পাশাপাশি পাক সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছে।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
নভেম্বর ২৩, ২০১৬ ২১:৩৯ Asia/Dhaka
  • পাক-তুর্ক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
    পাক-তুর্ক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পাক-তুর্ক স্কুল কর্মচারিদের পাকিস্তান থেকে বহিষ্কারের সরকারি আদেশ স্থগিত করেছে পেশোয়ার হাইকোর্ট। পাক-তুর্ক স্কুলে কর্মরত ১০০ তুর্কি শিক্ষক ও তাদের পরিবারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। এর কয়েকদিন পরেই পেশোয়ার হাইকোর্ট সরকারকে এ পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলেছে। পাশাপাশি পাক সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছে।

ভিসার মেয়াদ না বাড়ানোর বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্কুলের এক ছাত্রের মা-বাবা ও শিক্ষকরা মামলা দায়ের করেন। এরপর আজ (বুধবার) বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি ও বিচারপতি ইকরামুল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ জারি করে।

ইসলামাবাদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সাম্প্রতিক সফরের সময় সরকারি এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তুর্কি প্রেসিডেন্ট তখন বলেছিলেন, পাকিস্তানে ফতেহউল্লাহ গুলেন পরিচালিত স্কুল পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এসব স্কুলের শিক্ষককে তুরস্কে ফেরত পাঠাতে হবে।

আজকের শুনানির সময়, আবেদনকারীর আইনজীবী কাজী মোহাম্মদ আনোয়ার যুক্তি দেন যে, সরকার তুর্কি স্কুলের তিনদিনের মধ্যেই স্কুল ত্যাগ ছাড়তে বলেছে। তিনি বলেন, “এই নোটিশ এমন সময় জারি করা হয়েছে যখন কোর্স অসমাপ্ত রয়ে গেছে এবং এসব স্কুল শিক্ষককে বহিষ্কারের কারণে পেশোয়ারসহ সারাদেশে হাজার হাজার ছাত্রের মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া, তুর্কি শিক্ষকরা শান্তিপূর্ণ মানুষ। তারা তুরস্কে বা পাকিস্তানে কোনো অপরাধ করেন নি।” কাজী আনোয়ার আবেদন করেন, আদালত যেন কেন্দ্রীয় সরকারের এই বহিষ্কার আদেশ স্থগিত করে দেয় এবং তুর্কি শিক্ষক ও তাদের পরিবারের বহিষ্কারের পদক্ষেপ বন্ধ করে। বেঞ্চ তাদের অনুরোধ আমলে নেয় এবং পাক-তুর্ক স্কুলের শিক্ষকদের বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করে।

পাক-তুর্ক স্কুলটি পরিচালনা করেন আমেরিকায় স্বেচ্ছা-নির্বাসনে থাকা তুরস্কের ধর্মীয় ও বিরোধী নেতা ফতেউল্লাহ গুলেন। তার বিরুদ্ধে এরদোগান সরকার গত জুলাইয়ে সংঘটিত ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান পরিচালনার অভিযোগ তুলেছে তবে গুলেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ইসলামাবাদ, লাহোর, কোয়েটা, করাচি, হায়দ্রাবাদ, খায়েরপুর ও জামশিরে গুলেন নেটওয়ার্কের ২৮টি স্কুল ও কলেজ রয়েছে। সেখানে ১,২০০ পাকিস্তানি কর্মচারি ও ১৩৪ জন তুর্কি কর্মকর্তা রয়েছেন যারা প্রাক-স্কুল থেকে এ লেভেল পর্যন্ত ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া করাচ্ছেন।#

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/২৩