ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইসলামি নিরাপত্তা জোট গঠন নিয়ে ইরান-তুরস্ক আলোচনা
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160990-ইসরায়েলের_বিরুদ্ধে_ইসলামি_নিরাপত্তা_জোট_গঠন_নিয়ে_ইরান_তুরস্ক_আলোচনা
পার্সটুডে: ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাঁর তুর্কি সমকক্ষের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলে বহিরাগত শক্তির সামরিক উপস্থিতি অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।
(last modified 2026-07-03T11:44:19+00:00 )
জুলাই ০৩, ২০২৬ ১৭:৩২ Asia/Dhaka
  • ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবনে রেজা (ফাইল ছবি)
    ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবনে রেজা (ফাইল ছবি)

পার্সটুডে: ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাঁর তুর্কি সমকক্ষের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলে বহিরাগত শক্তির সামরিক উপস্থিতি অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবনে রেজা এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের আঞ্চলিক পরিস্থিতি, ২৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন এবং তেহরান ও আঙ্কারার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

২৭ জুনের যুদ্ধবিরতি ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। এতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইবনে রেজা বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা এবং বন্ধুপ্রতিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধে তেহরান এই সমঝোতা গ্রহণ করেছে। তবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে প্রতিপক্ষের প্রতি আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং চুক্তির যেকোনো লঙ্ঘনের জবাব যথোপযুক্তভাবে দেওয়া হবে।”

ইবনে রেজা গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের কারণেই ইসরায়েল তার অস্থিতিশীলতামূলক নীতি চালিয়ে যেতে পারছে এবং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

তিনি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন বাস্তবিক ঐক্য ও সংহতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এ ধরনের নীতি অব্যাহত রাখা প্রতিরোধ করে।

ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশরসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে নিয়ে একটি ইসলামি নিরাপত্তা জোট গঠন করা উচিত।

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এ অঞ্চলের দেশগুলোকেই। বিদেশি শক্তির উপস্থিতি শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থই নয়, বরং অবিশ্বাস, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে দেয়।”

ইবনে রেজা সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ গঠনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটের পথ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের লেবাননের হিজবুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে নতুন ফ্রন্ট খোলার বিষয়ে দেয়া বক্তব্য পুরো অঞ্চলকে নতুন নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা আঞ্চলিক দেশগুলোর দ্বারাই পরিচালিত হওয়া উচিত—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা একটি অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক বিষয় এবং বহিরাগত শক্তির ওপর নির্ভর করে কখনোই টেকসই স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, তেহরান ও আঙ্কারার মধ্যে প্রতিরক্ষা, সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হলে সম্মিলিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি নতুন ও টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে তুরস্ক এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি, সামরিক কমান্ডার, বেসামরিক নাগরিক এবং বিশেষ করে মিনাব শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত স্কুলশিশুদের শাহাদাতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতি আঙ্কারার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

গুলের বলেন, “সংলাপ, সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, তুরস্ক প্রতিবেশী দেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে।

তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুসহ নানা ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আঙ্কারা প্রস্তুত।

গুলের আরও বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমন্বয়ই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ। উত্তেজনা হ্রাস, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে যেকোনো উদ্যোগকে তুরস্ক সমর্থন করবে।

আলোচনার শেষে দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন। #
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/০৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।