ইন্দোনেশিয়ায় বাড়ছে উগ্র সন্ত্রাসবাদ: চিন্তিত সরকার
বিশ্বের সবচেয়ে মুসলিম জনবহুল দেশ ইন্দোনেশিয়ায় উগ্র তাকফিরি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এ কারণে দেশটির সরকার সম্ভাব্য বিপদ মোকাবেলায় এখনই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত লুহাত বানসার পাঞ্জাইতান বলেছেন, উগ্রবাদ মোকাবেলায় জাকার্তা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি এ ক্ষেত্রে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। একটি হচ্ছে জাতীয় ঐক্য ও অপরটি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। এ দু'টি বিষয়ের ওপর সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঠেকানো অনেকখানি নির্ভর করছে। ইন্দোনেশিয়ার এ কর্মকর্তা এমন সময় সেদেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা ও তাদের শেকড় উপড়ে ফেলার ওপর গুরুত্বারোপ করলেন যখন সেদেশের শত শত উগ্র ব্যক্তিত্ব ইরাক, মালয়েশিয়া, সিরিয়া ও ফিলিপাইনে তৎপর দায়েশ সন্ত্রাসীদের কাতারে যোগ দিয়েছে এবং সেইসব দেশের সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধযজ্ঞ চালাচ্ছে।
সমগ্র ওই অঞ্চলে অর্থাৎ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে ধর্মের নামে উগ্রবাদের বিস্তার এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, ইন্দোনেশিয়া সরকারের উদ্বেগ থেকেই তা উপলব্ধি করা যায়। বিশেষ করে সিরিয়ার সেনাবাহিনী কৌশলগত আলেপ্পো শহর দায়েশ সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে মুক্ত করার পর পলায়নরত সন্ত্রাসীরা নিজ নিজ দেশে ফিরে আসছে। এর ফলে অন্যান্য মহাদেশের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি সৃষ্টির ব্যাপক আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো সম্প্রতি তেহরান সফরকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এবং প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির সঙ্গে সাক্ষাতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় তার দেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন। প্রকৃতপক্ষে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতির কোনো বিকল্প নেই।
সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া সরকারের উদ্বেগ বাড়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সন্ত্রাসী হামলায় দেশটির বেশ ক'জন নাগরিক নিহত হয়েছে। এ অবস্থায় ওই অঞ্চলসহ সারা বিশ্বের দেশগুলো যখন সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সত্যিকারের পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে কেবল তখনই সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি দেশকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলো যদি অত্যন্ত সচেতনতার সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসে তাহলে মুসলিম দেশগুলোতে ন্যায়বিচার কায়েম, ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব। তাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত ইন্দোনেশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। #
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১৬