দায়েশকে ঠেকানোর কথা বলে ফের আফগানিস্তানে মোতায়েন হচ্ছে মার্কিন সেনা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i36098-দায়েশকে_ঠেকানোর_কথা_বলে_ফের_আফগানিস্তানে_মোতায়েন_হচ্ছে_মার্কিন_সেনা
আমেরিকা ও ন্যাটো জোট আফগানিস্তানে তাদের সামরিক উপস্থিতি আবারো জোরদার করার জন্য এখন দায়েশ সন্ত্রাসীদের তৎপরতাকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
এপ্রিল ১২, ২০১৭ ১৪:১৯ Asia/Dhaka

আমেরিকা ও ন্যাটো জোট আফগানিস্তানে তাদের সামরিক উপস্থিতি আবারো জোরদার করার জন্য এখন দায়েশ সন্ত্রাসীদের তৎপরতাকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করছে।

আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে নতুন করে আমেরিকার ২০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং আরো দেড় হাজার সেনা পাঠানো হবে। আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন সেনা ও ন্যাটো জোটের অধিনায়ক জন নিকোলসন সম্প্রতি আরো পাঁচ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এদিকে, পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড হিলও সেদেশের সেনা প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজোয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। ওই সাক্ষাতে তিনি দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেছেন। 

ধারণা করা হচ্ছে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে নতুন করে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। এ বিষয়টি কয়েকটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আমেরিকা আফগানিস্তানকে তাদের সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করার চেষ্টা করছে যাতে ওই দেশটিকে উগ্রপন্থার বিস্তার ও সন্ত্রাসী উৎপাদনের কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা যায়। দ্বিতীয়ত, আমেরিকা চায় এই ঘাঁটি ব্যবহার করে চীন ও রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং আশেপাশের সব দেশের ওপর গোয়েন্দা নজরদারী করতে। তৃতীয়ত, আফগানিস্তানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য চীন ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক তৎপরতার কারণেও আমেরিকা পাল্টা সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পদক্ষেপ নিয়েছে।

কোনো কোনো গণমাধ্যম তালেবানের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আফগানিস্তানের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, রাশিয়া ওই দেশটিতে সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ কারণে আফগানিস্তানের কোনো কোনো রাজনৈতিক দল তালেবানের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতারও তীব্র বিরোধিতা করেছে। সম্প্রতি রুশ রাষ্ট্রদূতও এ কথা স্বীকার করেছেন। এ অবস্থায় আফগানিস্তানে রাশিয়ার প্রভাব ঠেকানোর জন্য আমেরিকাও সেনা উপস্থিতি জোরদারের পদক্ষেপ নিয়েছে।

২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে আমেরিকা ও ন্যাটো বাহিনীর এক লাখ ৩০ হাজার সেনা আফগানিস্তানে মোতায়েন ছিল। কিন্তু ওই বিশাল সেনা উপস্থিতি সত্বেও আমেরিকা আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে এবং বিদেশি সেনা উপস্থিতি ওই দেশটির নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সম্প্রতি মার্কিন সেনা উপস্থিতির বিরোধিতা করে বলেছেন, তারা যদি ইতিবাচক কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে তাহলে দায়েশ সন্ত্রাসীদের উদ্ভব ঘটবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের তৎপরতার বিষয়টিকে নতুন করে সেনা উপস্থিতির অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করছে আমেরিকা ও ন্যাটো বাহিনী। অথচ এর আগে মার্কিন কমান্ডাররা জানিয়েছিলেন, তালেবানরা তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু নয়। আফগানিস্তানে মার্কিন কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হয়েছে, তারা কেবল সেদেশের সংকটকে পরিচালিত করতে চাইছে এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা তাদের লক্ষ্য নয়।#               

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১২