আমিরাতের যুবরাজ আল-জাজিরা টিভি ভবনে বোমা ফেলতে বলেছিলেন আমেরিকাকে
আবুধাবির যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন জায়িদ কাতারের আল-জাজিরা টেলিভিশন ভবনের ওপর বোমা বর্ষণ করতে মার্কিন সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মার্কিন সরকার যখন ২০০৩ সালে ইরাকে হামলার পরিকল্পনা করছিল তখন এই আহ্বান জানান আবুধাবির যুবরাজ। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে তার টেলিফোন সংলাপ থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
একটি কূটনৈতিক ক্যাবল-বার্তার বরাত দিয়ে লন্ডনের সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ এ খবর দিয়েছে। ওই বার্তায় বলা হয়েছে, মুহাম্মাদ বিন জায়িদ হাসতে হাসতে মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড হ্যাসকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তার বাবা শেখ জায়িদ ও কাতারের আমির শেখ হামাদ আল সানির একটি সংলাপের কথা। ওই সংলাপে হামাদ আবুধাবির যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন জায়িদ সম্পর্কে তার বাবার কাছে অভিযোগ করেন যে জায়িদ আলজাজিরার ওপর বোমা ফেলতে মার্কিন সরকারের কাছে অনুরোধ করেছে। আর এ সময় মুহাম্মাদ বিন জায়িদের বাবা শেখ জায়িদ অবজ্ঞার ভঙ্গিতে উত্তর দেন: আপনি কি তাকে অভিযুক্ত করছেন?
২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন চলার সময় মুহাম্মাদ বিন জায়িদ সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন যে এই আগ্রাসনের ব্যাপারে আরব বিশ্বের জনমতকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে যদি যুদ্ধটি কার্যকর ও স্বল্পস্থায়ী হয়, কিন্তু আরব বিশ্বের জনমত কাতারের আলজাজিরা টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সংবাদগুলোর মাধ্যমে মারাত্মকভাবে বিক্ষুব্ধ হতে পারে। তিনি এই টেলিভিশনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে দোহার ওপর চাপ প্রয়োগের ও প্রভাব খাটানোর পরামর্শও দেন মার্কিন সরকারকে। কাতারিরা কেন জনমত প্রজ্বলনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তা তার কাছে রহস্যময় বলেও আবুধাবির যুবরাজ মন্তব্য করেছিলেন।
এইসব কথা থেকে বোঝা যায় যে আলজাজিরা টেলিভিশন নিয়ে কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কয়েক দশক ধরেই শত্রুতা চলে আসছে। আর সম্প্রতি কাতরের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধেরও অন্যতম লক্ষ্য হল আলজাজিরাকে বন্ধ করে দেয়ার দাবি বাস্তবায়ন। কাতার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইরান এবং মুসলিম ব্রাদারহুড বা ইখওয়ানুল মুসলিমিন ও সংগ্রামী ফিলিস্তিনি দল হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করারও দাবি তুলেছে সৌদি-নেতৃত্বাধীন অবরোধকারী দেশগুলোর জোট। এ জোটে রয়েছে বাহরাইন, আরব আমিরাত ও মিশর। সম্প্রতি কাতার-বিরোধী সৌদি জোট দোহার সরকারকে বলেছে, কাতারে তুর্কি সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে এবং সম্পর্ক কমিয়ে আনতে হবে ইরানের সঙ্গে। কাতার এইসব দাবিকে অবাস্তব বলে নাকচ করে দিয়েছে।
কাতার হামাস ছাড়াও দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের কট্টর শত্রু লেবাননের হিজবুল্লাহকেও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।#
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/৩০