চীনের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া অপরিহার্য হয়ে উঠবে: নয়াদিল্লিকে বেইজিং
চীনের রাষ্ট্রীয় দৈনিক গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়েছে, চীন যুদ্ধ চায় না তবে চীনা ভূমিতে ভারতীয় সেনারা যদি দীর্ঘদিন অবস্থান করতে চায় তবে বিষয়টি অন্যরকম হবে। ‘ইন্ডিয়া মিসজাজেজ চায়না’স হোপ ফর পিস’ বা ‘চীনের শান্তির প্রত্যাশা নিয়ে ভারতের ভুল ধারণা’ শীর্ষক নিবন্ধে এ মন্তব্য করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, সোমবার(গতকাল) টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, চীন যুদ্ধের ঝুঁকিতে যাবে না বলেই যুক্তিসঙ্গত ভাবেই নিশ্চিত হয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। যুদ্ধবাজ কথাবার্তা বলা সত্ত্বেও এমনকি ‘সীমিত পরিসরের’ যুদ্ধে যাবে না চীন।
গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, অবশ্যই চীন যুদ্ধ চায় না এবং শান্তি ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করে। চীন ও ভারত পাশাপাশি থাকবে বলেও প্রত্যাশা করে। কিন্তু চীনা ভূখণ্ডে যদি ভারতীয় সেনারা যদি দীর্ঘদিন অবস্থান করতে চায় তবে বিষয়টি অন্যরকম হবে।
১৯৬২ সালে চীন-ভারত সীমান্তে নয়াদিল্লি উসকানি দিয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের জওহরলাল নেহেরুর সরকারের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে চীন পাল্টা আঘাত হানবে না। সে সময়ে চীন অভ্যন্তরীণ গোলযোগ এবং প্রাকৃতিক অনেক বিপর্যয় পার হয় এসেছে। বেইজিং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে বৈরিতা চলছিল এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক শীতল হতে শুরু করছিল।
অভ্যন্তরীণ এবং কূটনৈতিক টানাপড়েন সত্ত্বেও ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীনের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে ব্যর্থ হয়েছিল নেহেরু সরকার।
৫৫ বছর পরও ভারত সরকার আগের মতোই বোকামিপূর্ণ আচরণ করছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে শিক্ষা অর্ধশতকও টিকে নি। সাধারণ ভাবে কোনো সরকারই শক্তিশালী প্রতিবেশীকে চটাতে চায় না। এখন ভারতের সবাই জানেন যে অন্য দেশের ভেতর ঢুকেছে তাদের সেনাবাহিনী। যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে চীনা গণমুক্তি ফৌজকে পরাজিত করতে পারবে না তাদের সেনাবাহিনী।
এতে আরো বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি যদি সত্যিই মনে করে থাকে কোনো অবস্থায়ই সামরিক পদক্ষেপ নেবে না চীন, তা হলে বুঝতে হবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমর বিজ্ঞানের ভিত্তিতে এমন বিশ্লেষণ করা হয় নি।
এতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি অব্যাহত ভাবে উপেক্ষা করতে থাকে নরেন্দ্র মোদি সরকার তাহলে চীনের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া অপরিহার্য হয়ে উঠবে।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/৮