‘হিমালয় অঞ্চলে বিপজ্জনকভাবে যু্দ্ধের মুখোমুখি চীন-ভারত’
চীন ও ভারত হিমালয় অঞ্চলে বিপজ্জনকভাবে যু্দ্ধের মুখোমুখি হয়েছে বলে আশংকা ব্যক্ত করেছে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট।
চীনের সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে গত দু’মাস ধরে হিমালয় অঞ্চলে মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে পরমাণু শক্তিধর দেশদু’টি। চীন যে এলাকায় সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করেছে সেটি ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশ ভুটানের বলে দাবি করা হচ্ছে।
অবশ্য ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দেয়া বিবৃতিতে এ বিবাদ আলোচনার মাধ্যমে নিরসনের কথা বলেছেন। কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে চীন ডোকালামের ওই এলাকায় রাস্তা নির্মাণের অধিকারের কথা বলছে। ওই এলাকার ভূমি নিজের বলে দাবি করছে।
সংকট শুরুর পর থেকেই প্রায় দৈনিকই ওই এলাকায় ভারতের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশের’ নিন্দা জানিয়ে আসছে চীন। পাশাপাশি দাবি করছে নয়াদিল্লি যদি শান্তি চায় তবে যেন ওই এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে।
চীন-ভারত ২২২০ মাইল অভিন্ন সীমান্তে দু’দেশের সেনারা অনেকবারই অনুপ্রবেশ এবং ধস্তাধস্তি করেছে। অবশ্য গত প্রায় অর্ধ শতক ধরে এ সীমান্তে কোনো দেশই একটি গুলিও ছোঁড়েনি।
এ সত্ত্বেও চলমান সংকটকে উদ্বেগজনক হিসেবে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। দেশ দু’টির মধ্যে যখন সম্পর্কের অবনতি ঘটছে তখন এ সংকট দেখা দিয়েছে। চীন এ ঘটনাকে তার ভৌগলিক অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে। এ ছাড়া এবারই প্রথম এ জাতীয় ঘটনায় তৃতীয় দেশ জড়িয়ে পড়েছে। আর এটি হলো হিমালয়ের ক্ষুদ্র রাজতান্ত্রিক দেশ ভুটান।
চীন-ভারত অভিন্ন সীমান্তের অন্যান্য এলাকায়ও এ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। মঙ্গলবার ভারতের স্বাধীনতা বার্ষিকীর দিনটিতেই জম্মু ও কাশ্মিরের লাদায়ের কাছে চীন-ভারতের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
লন্ডনের রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেসে ইন্সটিটিউটের শশাঙ্ক জোশই বলেছেন, উত্তেজনা বাড়বে না এমনটি মনে করলে কেবলমাত্র আত্মতুষ্টি হয়ত পাওয়া যাবে। এ সংকটকে ৩০ বছরের মধ্যে চীন ও ভারতের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/১৭