রোহিঙ্গা হত্যা সম্পর্কে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তি: স্বাগত জানালেন সুচি
https://parstoday.ir/bn/news/world-i51345-রোহিঙ্গা_হত্যা_সম্পর্কে_মিয়ানমার_সেনাবাহিনীর_স্বীকারোক্তি_স্বাগত_জানালেন_সুচি
মিয়ানমার সরকারের উপদেষ্টা ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপরাধযজ্ঞে জড়িত থাকার ব্যাপারে সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন সেনাবাহিনী কেবল আইন বাস্তবায়ন করেছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ১৪, ২০১৮ ১৫:৪৩ Asia/Dhaka

মিয়ানমার সরকারের উপদেষ্টা ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপরাধযজ্ঞে জড়িত থাকার ব্যাপারে সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন সেনাবাহিনী কেবল আইন বাস্তবায়ন করেছে।

অং সান সুচি এর আগে অবশ্য মজলুম রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নানা সময় বক্তব্য দিয়েছেন। অং সান সুচি সেসময় মুসলিম হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন জানানোয় আন্তর্জাতিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার ব্যাপক সমালোচনা করেছে।

মিয়ানমার সরকার, উগ্র বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনী সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে নিজ মাতৃভূমি থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে বিতাড়িত করেছে। অং সান সুচি অত্যন্ত গর্বের সাথে ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানান। এ কারণে তিনি উগ্র বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনীর সন্তুষ্টি লাভ করেছেন। যদিও রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার রক্ষা ও হত্যাকাণ্ড বন্ধে সুচি পদক্ষেপ নেবেন বলে আন্তর্জাতিক সমাজ আশা করেছিল।

লন্ডনের রাজনৈতিক বিষয়ক বিশ্লেষক রিয়াজ কারিম বলেছেন, "রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চলছে তার সঙ্গে সেব্রেনিৎসায় মুসলিম গণহত্যার মিল রয়েছে।"

যাইহোক, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের অপরাধযজ্ঞের বিষয়ে নীরবতা সবচেয়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সমাজ মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যার বিষয়টি শিকার করলেও তা বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এ কারণে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচি প্রকাশ্যে মুসলিম গণহত্যার প্রতি সমর্থন জানানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে মুসলিম গণহত্যায় ইসরাইলের সমর্থন সুচিকে আরো বেপরোয়া করে তুলেছে।

ইরাকের রাজনৈতিক বিষয়ক বিশ্লেষক আবু এহসান খাকানি বলেছেন, অসহায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি সমর্থন জানানো আন্তর্জাতিক সমাজের দায়িত্ব। কিন্তু দুঃখের বিষয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ কোনো সংস্থাই অপরাধযজ্ঞ বন্ধে পদক্ষেপ নেয়নি। কারণ রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে ইসরাইল।

আন্তর্জাতিক সমাজ যদি মুসলিম গণহত্যার বিষয়টি তদন্তের জন্য মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাহলে নিঃসন্দেহে অসংখ্য গণকবরের সন্ধান মিলবে। আর এটাই সেদেশে অপরাধযজ্ঞের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জড়িত থাকার প্রমাণ যা কিনা মিয়ানমারের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

যাইহোক, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপরাধযজ্ঞে জড়িত থাকার ব্যাপারে সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তিকে স্বাগত জানিয়ে সুচি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।#  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪