ট্রাম্পের বাহুল্য অভিযোগ; দায়েশ-বিরোধী লড়াইয়ের কৃতিত্ব দাবি
-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো বাহুল্য অভিযোগ করেছেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান পরমাণু বোমা বানানোর চেষ্টা করছে। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ নিশ্চিত করার পরও ট্রাম্প এ দাবি করলেন।
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প তার ভাষায় বলেন, ইরানের পথ ধরে যেসব দেশ পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে চায় তাদের পথ আটকে দিতে হবে। কোরিয় উপদ্বীপকে পরমাণু মুক্ত করার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তার প্রশাসন গর্বিত বলে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দাভোসে দেয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প ইরানকে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করে তেহরানের সঙ্গে লড়াই করতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।
ট্রাম্প এমন একটি দেশের প্রেসিডেন্ট যে দেশের কাছে রয়েছে হাজার হাজার পরমাণু অস্ত্র এবং বিশ্বে একমাত্র আমেরিকাই মানব সভ্যতার বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এরপরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিত্তিহীনভাবে মাঝেমধ্যেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তবে ইরান সবসময় এ অভিযোগ নাকচ করে আসছে। ২০১৫ সালে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতার মধ্যদিয়েও প্রমাণিত হয়েছে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল।
দাভোসে দেয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প আরো দাবি করেন, সিরিয়া ও ইরাকের উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের কাছ থেকে প্রায় একশ ভাগ ভূমি মুক্ত করা হয়েছে এবং এ কাজ করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ট্রাম্পের এই দাবিও সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও মিথ্যা। কারণ দায়েশ সৃষ্টি ও তাদের ক্ষমতাধর করে তুলতে মার্কিন সরকার অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং বছরের পর বছর ধরে দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে সন্ত্রাসী এ গোষ্ঠীকে সিরিয়া ও ইরাক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সুবিধা করে দিয়েছে। এমনকি, ইরাক ও সিরিয়ায় প্রচণ্ড বিপর্যয়ের মুখে দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে মার্কিন বাহিনী হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
এছাড়া, দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো নমুনা দেখা যায় নি বরং সিরিয়া ও ইরাকে মার্কিন হামলায় বহুসংখ্যক বেসামরিক লোকজন মারা গেছে। উগ্র এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাটে-ময়দানে লড়াই করেছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী, লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ও রুশ বাহিনী। ইরান সেখানে সামরিক পরামর্শ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/২৬