'ইসরাইলের ধ্বংস অনিবার্য'- সর্বোচ্চ ইরানি নেতার এ বক্তব্যের বাস্তবতা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i59084-'ইসরাইলের_ধ্বংস_অনিবার্য'_সর্বোচ্চ_ইরানি_নেতার_এ_বক্তব্যের_বাস্তবতা
ইহুদিবাদী ইসরাইলের ধ্বংস হওয়া যে অনিবার্য তা আবারও বেশ জোর দিয়ে বলেছেন ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।
(last modified 2026-04-22T13:03:21+00:00 )
জুন ১৬, ২০১৮ ১৪:২৭ Asia/Dhaka

ইহুদিবাদী ইসরাইলের ধ্বংস হওয়া যে অনিবার্য তা আবারও বেশ জোর দিয়ে বলেছেন ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।

তিনি বলেছেন, অবৈধভাবে জন্ম-নেয়া ইসরাইল ধ্বংস হবে সব মুসলিম জাতির প্রচেষ্টায় এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তা অনিবার্য। জনাব খামেনেয়ী বলেন, মুসলমানদের ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করা ফিলিস্তিনে অবৈধ ইসরাইল প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। 

গতকাল (শুক্রবার) ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে বিদেশী রাষ্ট্রদূত ও ইরানের সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেছেন, ঐতিহাসিক নানা অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে বৈধতার সংকটে থাকা রাষ্ট্রগুলো টেকে না এবং অবৈধ ইসরাইলের ধ্বংসও অনিবার্য। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, কয়েকটি নতজানু আরব সরকারের উদ্যোগে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা কিংবা বায়তুল মুকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর ইহুদিবাদী সরকারকে বাঁচাতে পারবে না।

তিনি ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে ইরানের পুরনো প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, প্রকৃত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে গণভোট দিয়ে এ সংকটের সমাধান করতে হবে। অদূর ভবিষ্যতে এমনই এক গণভোটে ফিলিস্তিনে প্রকৃত সরকার প্রতিষ্ঠা হবে এবং এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ ইসরাইলের পতন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

লেবাননের জনপ্রিয় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের হামাসের কাছে ইসরাইলের বার বার বিপর্যস্ত হওয়া থেকে এটা স্পষ্ট মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে ইসরাইলকে রুখে দাঁড়ালে ইসরাইল বহু আগেই ধ্বংস হয়ে যেত। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (র) বলেছিলেন, মুসলমান বা আরবরা যদি এক বালতি করে পানি ঢালত তাহলে ইসরাইল ভেসে যেত।  

সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রতি স্বীকৃতি দিয়েছেন। এরপর ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ জোরদার করে এবং মার্কিন সরকার তেল-আবিব থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তর করে ঐতিহাসিক এই শহর তথা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়াকে বাস্তবায়ন করতে। 'শতাব্দির লেনদেন' শীর্ষক মার্কিন ট্রাম্প সরকারের পরিকল্পনাকে বিন সালমান বাস্তবায়ন করছেন বলে সম্প্রতি ইসরাইলের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন। 

বক্তব্য রাখছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা 

 

ইসরাইলের ধ্বংস অনিবার্য জেনেই মার্কিন সরকার ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর মনোবল বাড়াতে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই কারণে একই সময়ে অগণতান্ত্রিক, অজনপ্রিয় এবং রাজতান্ত্রিক ও একনায়কতান্ত্রিক কোনো কোনো আরব সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা প্রকাশ্যেই জোরদার করছে। 

ইসরাইলের ধ্বংস যে অনিবার্য তা কিছুকাল আগে উল্লেখ করেছে কয়েকটি মার্কিন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা। এমনকি সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারও সম্প্রতি বলেছেন, ইসরাইল আর বড় জোর দুই দশক বা দুই যুগ (২৪ বছর) টিকে থাকবে। 

ফিলিস্তিন ইহুদিদের মাতৃভূমি-এমন মিথ্যা প্রচারণার ভিত্তিতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো, বিশেষ করে ব্রিটেন ও মার্কিন সরকারের সহায়তায় ফিলিস্তিনে জবর-দখল আর গণহত্যাসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় ইসরাইল। ইসরাইলের অবৈধ অস্তিত্ব বিস্তারে আপোষকামী কিছু স্থানীয় আরব ও মুসলিম নেতৃবৃন্দের বিশ্বাসঘাতকতাও কাজ করেছিল। 

অন্যদিকে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর ইসরাইল-বিরোধী সংগ্রামের আদর্শিক ও কৌশলগত সামরিক নেতৃত্ব দিতে থাকে ইরান। ফলে গড়ে ওঠে লেবাননের জনপ্রিয় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের ইন্তিফাদা আন্দোলন। ইসরাইলের অপরাজেয় থাকার ঔদ্ধত্যপূর্ণ দাবিকে বার বার ধূলিসাৎ করে দেয় হিজবুল্লাহ এবং পরবর্তীকালে ইরানের সংগ্রামী ইসলামের আদর্শে অনুপ্রাণিত ফিলিস্তিনের সংগ্রামী দল হামাস ও জিহাদ। আর এইসব বিজয়ে সিরিয়ার আসাদ সরকারেরও ছিল সহায়ক ও আপোষহীন ভূমিকা। হামাস গাজা উপত্যকাকে ইসরাইলের নাগপাশ থেকে স্বাধীন করতে সক্ষম হয়। একটি বড় ফিলিস্তিনি দলের আপোষকামী ভূমিকা না থাকলে একইভাবে পশ্চিম তীর ও মুসলমানদের প্রথম কিবলার শহর বায়তুল মুকাদ্দাসকেও এত দিনে গাজার-প্রতিরোধ স্টাইলে মুক্ত করা সম্ভব হত।

ইহুদিবাদ-বিরোধী ইহুদি আন্দোলনের অন্যতম নেতা ড্যাভিড ওয়াইস বলেছেন, ইসরাইলের অস্তিত্ব অবৈধ ও তা ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতেরও খেলাপ। তিনি গাজায় সাম্প্রতিক ইসরাইলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইসরাইলের অস্তিত্বই যে কেবল অবৈধ তা নয়, একইসঙ্গে ইসরাইল জনগণের ওপর জুলুম করছে ও ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে।   # 

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৬