শত্রুদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে পাকিস্তানের শিয়া ও সুন্নি নেতাদের আহ্বান
https://parstoday.ir/bn/news/world-i66770-শত্রুদের_ষড়যন্ত্র_ব্যর্থ_করে_দিতে_পাকিস্তানের_শিয়া_ও_সুন্নি_নেতাদের_আহ্বান
পাকিস্তানের শিয়া ও সুন্নি ধর্মীয় নেতারা ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
ডিসেম্বর ২২, ২০১৮ ১৬:৫৪ Asia/Dhaka

পাকিস্তানের শিয়া ও সুন্নি ধর্মীয় নেতারা ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

পাকিস্তানের নেহজাতে ইসলামি দলের নেতা আল্লামা সাইয়্যেদ সাজেদ আলী নাকাভি লাহোরে জামায়াত ইসলামি দলের অন্যতম নেতা আহমাদ সালমান বালুচের সঙ্গে সাক্ষাতে ঐক্যবদ্ধ থেকে ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দুই নেতা মুসলিম উম্মাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে শিয়া ও সুন্নি ধর্মীয় নেতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের এ দুই প্রখ্যাত শিয়া ও সুন্নি আলেমের সাক্ষাত এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, মুসলমানদের অভিন্ন শত্রু ওয়াহাবিরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেপাহে সাহাবা ও লস্করে জাংভির মতো উগ্রগোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে সৌদি ওয়াহাবিরা পাকিস্তানে মুসলিম সম্প্রীতি ধ্বংসের পায়তারা করছে। অথচ পাকিস্তানের শিয়া ও সুন্নি মুসলমানরা সবসময়ই একে অপরের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে এবং তারা একে অপরের ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতিনীতির প্রতি সম্মান দেখায়। বিশেষ করে নবী বংশের আহলে বাইতগণের প্রতি পাকিস্তানের সুন্নি মুসলমানদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আছে এবং তারা নিজ সন্তানদের নাম আহলে বাইতের ইমামদের সঙ্গে মিল রেখে নাম করণ করেন। এ থেকে বোঝা যায় পাকিস্তানে যেসব সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনা ঘটছে তা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়া ঘটনা।

 গত ৮০'র দশক থেকে পাকিস্তানে সৌদি ওয়াহাবি মতবাদের ব্যাপক বিস্তার শুরু হয় এবং বর্তমানে ওয়াহাবিদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা আফগানিস্তানের সরকার ও জনগণের জন্যও বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের আল আলম টিভি চ্যানেল জানিয়েছে সাবেক মার্কিন সিনেটর বব গ্রাহাম উগ্র ও সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে সৌদি আরবের ভূমিকার ব্যাপারে বলেছেন, "পাকিস্তানের সুন্নি নামধারী উগ্র ওয়াহাবি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সৌদি সমর্থনের বিষয়টিকে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করে আসছে পাক সরকার। এমনকি সৌদি আরব উগ্র এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়মিত অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছে।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সৌদি আরব সফরে যান। সেখান থেকে তিনি ব্যাপক অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়ায় পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কারণ এ অর্থ সাহায্য দেয়ার বিনিময়ে সৌদি আরব পাকিস্তানে ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারের সুযোগ পাবে। এ কারণে পাকিস্তানের শিয়া ও সুন্নি ধর্মীয় নেতারা উগ্র সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ আহ্বান শুধু যে পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের জন্য কল্যাণকর তাই নয় একই সঙ্গে তা সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অনেক বড় বার্তা। পাকিস্তানের জনগণ সাম্প্রদায়িকতার বিরোধী এবং তারা এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

যাইহোক, পাকিস্তানের ইসলামি দলগুলো সবসময়ই শত্রুর ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক করে আসছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারাও বহুবার সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার জন্য শিয়া ও সুন্নি ধর্মীয় নেতাদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের জামায়াত ইসলামি দলের নেতার সঙ্গে নেহজাতে ইসলামি দলের নেতার সাক্ষাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।#

পার্সটুড/এমআরএইচ/২২