দায়েশের সেই শামীমা: নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার
-
শামীমা বেগম
উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশে যোগ দেয়া শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে ব্রিটিশ সরকার। লন্ডনের এই অবৈধ সিদ্ধান্ত আইনিভাবে মোকাবিলা করবে তার পরিবার। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কাউকে নাগরিকত্ব বাতিল করে রাষ্ট্রহীন করা যায় না। তবে, ব্রিটিশ সরকার দাবি করছে, দেশের নাগরিকত্ব হারালেও রাষ্ট্রহীন হবেন না শামীমা।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শামীমার মায়ের কাছে লেখা এক চিঠিতে শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। নাগরিকত্ব বাতিলের ফলে শামীমা বেগম রাষ্ট্রহীন হবেন না, তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন- এমন যুক্তি থেকেই শামীমার নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা মা-বাবার সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।
তবে শামীমার পরিবারের আইনজীবী বলছেন, শামীমাকে বাংলাদেশ সরকার চেনে না। তিনি বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তারা আইনি লড়াই করবেন। পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির ছাত্রী শামীমা তার স্কুলের দুই বান্ধবী খাদিজা সুলতানা ও আমিরা আবাসের সঙ্গে ২০১৫ সালের ব্রিটেন ছেড়ে সিরিয়া যান। খাদিজা সুলতানা বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আমিরা আবাসের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানা যায় নি।
সম্প্রতি ব্রিটিশ ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকার সাংবাদিক অ্যান্টনি লয়েড সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় একটি শরণার্থী শিবিরে সাক্ষাৎ পান শামীমার। ওই সাংবাদিককে শামীমা বলেন, তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এখন যেকোনো দিন তার সন্তানের জন্ম হতে পারে। এর আগে অপুষ্টি আর রোগে ভুগে তার দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। সাক্ষাৎকারে শামীমা যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানান। ১৯ বছর বয়সী শামীমা গত রোববার এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।#
পার্সটুডে/এসআইবি/২১