সিরিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে ইরানের অবদান অনস্বীকার্য: রাশিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/world-i68432-সিরিয়ায়_সন্ত্রাস_বিরোধী_যুদ্ধে_ইরানের_অবদান_অনস্বীকার্য_রাশিয়া
২০১১ সালের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অনুকূলে নেয়ার জন্য সিরিয়ার ওপর বিদেশি মদদে সহিংসতা চাপিয়ে দেয়া হয়। আমেরিকা, সৌদি আরব ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা সিরিয়ায় উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে লেলিয়ে দেয়ার কাজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এ অবস্থায় সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে দামেস্ক ইরানের কাছে সহযোগিতা চায়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯ ১৪:০২ Asia/Dhaka
  • সিরিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে ইরানের প্রতি রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে (ছবিতে প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গে করমর্দন করছেন তার রুশ সমকক্ষ পুতিন)
    সিরিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে ইরানের প্রতি রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে (ছবিতে প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গে করমর্দন করছেন তার রুশ সমকক্ষ পুতিন)

২০১১ সালের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অনুকূলে নেয়ার জন্য সিরিয়ার ওপর বিদেশি মদদে সহিংসতা চাপিয়ে দেয়া হয়। আমেরিকা, সৌদি আরব ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা সিরিয়ায় উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে লেলিয়ে দেয়ার কাজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এ অবস্থায় সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে দামেস্ক ইরানের কাছে সহযোগিতা চায়।

সিরিয়ার বৈধ সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ইরান দেশটিতে সামরিক উপদেষ্টা পাঠায় এবং সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।  পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি তাদের আরব মিত্র দেশগুলো এবং ইহুদিবাদী ইসরাইল ইরানের এই ভূমিকা মেনে নিতে পারেনি।

কিন্তু সিরিয়ার অপর মিত্র রাশিয়া ইরানের এই ভূমিকার প্রশংসা করেছে এবং সমর্থন জানিয়েছে।  এ সম্পর্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া বিষয়ক এক বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, ইরান ও তুরস্ককে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ জয়ের উপায় খুঁজে বের করছে মস্কো।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

সিরিয়ায় সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা প্রকাশ্যে বলে এসেছে। পাশাপাশি এসব দেশ আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথে অন্যতম অন্তরায় ইরানের সামরিক উপদেষ্টাদের সিরিয়া থেকে সরিয়ে আনার দাবি জানায়। কিন্তু বাশার আসাদ সরকার পাশ্চাত্যের এ দাবির কঠোর বিরোধিতা করে। সিরিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মিকদাদ এ সম্পর্কে বলেন, আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ইরানের সামরিক উপদেষ্টারা সিরিয়ায় অবস্থান করছে।

অন্যদিকে রাশিয়া ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে সিরিয়ার সমর্থনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে এবং জঙ্গি অবস্থানগুলোতে রুশ বিমান হামলায় সন্ত্রাসীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ অবস্থায় সিরিয়া থেকে ইরানি সামরিক উপদেষ্টাদের বের করে দেয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে ইহুদিবাদী ইসরাইল রাশিয়াকে রাজি করানোর ব্যাপক চেষ্টা চালায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সিরিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা বিবেচনা করে রাশিয়া তাতে রাজি হয়নি।

মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্লাদিমির ইভানভ রাশিয়ার সোচিতে সম্প্রতি ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, এই শীর্ষ বৈঠক প্রমাণ করেছে সিরিয়া সংকট নিরসনে ইরানের ভূমিকা উপেক্ষা করা যাবে না বরং তেহরানকে এক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক শক্তি হিসেবে মেনে নিতে হবে।

তার এ বক্তব্যের সূত্র ধরে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিরিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেশটির পুনর্গঠনসহ অন্যান্য কাজেও ইরানকে সংশ্লিষ্ট করতে হবে। ইরানের সহযোগিতা ছাড়া সিরিয়ায় কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলেই তাদের অভিমত।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৭