জোড়া সেঞ্চুরি করেও হেরে গেল ইংল্যান্ড: ঘুরে দাঁড়াল পাকিস্তান
https://parstoday.ir/bn/news/world-i70937-জোড়া_সেঞ্চুরি_করেও_হেরে_গেল_ইংল্যান্ড_ঘুরে_দাঁড়াল_পাকিস্তান
জো রুট ও জস বাটলারের সেঞ্চুরির পরও পাকিস্তানের কাছে ১৪ রানে হেরে গেল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বাজে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা পাকিস্তান এ ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
জুন ০৩, ২০১৯ ২০:০২ Asia/Dhaka
  • জোড়া সেঞ্চুরি করেও হেরে গেল ইংল্যান্ড: ঘুরে দাঁড়াল পাকিস্তান

জো রুট ও জস বাটলারের সেঞ্চুরির পরও পাকিস্তানের কাছে ১৪ রানে হেরে গেল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বাজে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা পাকিস্তান এ ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল।

আজ (সোমবার) নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে টস হেরে ব্যাটিং করে ৩৪৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে পাকিস্তান। ৩৪৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৯ উইকেটে হারিয়ে ৩৩৪ রানে থেমেছে ইংল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপে এটা স্বাগতিকদের প্রথম হার, পাকিস্তানের প্রথম জয়।

পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটিতে ১৪.১ ওভারে ৮২ রান করেন দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে মঈন আলীর বলে স্ট্যাম্পিং হন ফখর। তার আগে ৪০ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৩৬ রান করেন পাকিস্তানের এ ওপেনার।

এরপর ক্রিস ওকসের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন ইমাম-উল-হক। মঈন আলীর বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন পাকিস্তানের এ ওপেনার। সাজঘরে ফেরার আগে ৫৮ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৪৪ রান করেন ইমাম-উল।

ম্যাচসেরা মোহাম্মদ হাফিজ

তৃতীয় উইকেটে ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালান বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজ। এই জুটিতে তাড়া ৮৮ রান যোগ করেন। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ফিফটি তুলে নেন বাবর আজম। পাকিস্তানের এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি তুলে নেয়ার পর মঈন আলীর তৃতীয় শিকারে পরিণত হন। তার আগে ৬৬ বলে ৪টি চার ও এক ছক্কায় ৬৩ রান করেন বাবর আজম।

চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের সঙ্গে ৮০ রানের জুটি গড়েন হাফিজ। এই জুটিতে ক্যারিয়ারের ৩৮তম ফিফটি তুলে নেন সাবেক এ অধিনায়ক। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন হাফিজ। কিন্তু ৬২ বলে ৮টি চার ও দুই ছক্কায় ৮৪ রান করে আউট হয়ে ফেরেন হাফিজ।

এরপর সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারায় পাকিস্তান। শেষ দিকে সরফরাজ আহমেদের ৪৪ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে গড়া ৫৫ রানের সুবাদে ৮ উইকেটে ৩৪৮ রান করে পাকিস্তান।

ইংল্যান্ডের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন মইন আলি ও ক্রিস ওকস। এছাড়া ২টি উইকেট নেন মার্ক উড।

জো রুটের সেঞ্চুরি বিফলে যায়

৩৪৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।  ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়কে সাজঘরে ফেরান শাদাব খান। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফিফটি তুলে নেয়া ইংল্যান্ডের এ ওপেনারকে মাত্র ৮ রানে ফেরান শাদাব। দলীয় ১২ রানে জেসন রয়ের উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যাওয়া ইংল্যান্ড খেলায় ফেরার আগে ফের বিপদে। ওয়াহাব রিয়াজের গতির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন জনি বেয়ারস্টো। আগের ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া এ ইংলিশ ওপেনার ফেরেন ৩১ বলে ৩২ রান করে।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক ইয়ন মরগান। মোহাম্মদ হাফিজের অফ স্পিনে বোল্ড তিনি। ১৮ বলে ৯ রান করেই সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ অধিনায়ক। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত করেন বেন স্টোকস। ৮৯ রান ও বল হাতে দুই উইকে শিকারের পাশাপাশি দুর্দান্ত একটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচ সেরা হন। আগের ম্যাচে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখানো বেন স্টোকসকে উইকেটে সেট হওয়ার আগেই সাজঘরে পাঠান শোয়েব মালিক। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ৮৬ রানে ৩ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

১১৮ রানে জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, ইয়ন মরগান ও বেন স্টোকসের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন জো রুট-জস বাটলার। এই জুটিতে তাড়া ১৩০ রান করেন।

ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একাই লড়াই করেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৯৭ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। তবে সেঞ্চুরির পরই আউট হয়ে ফেরেন রুট। শাদাব খানের লেগ স্পিনের শিকার হওয়ার আগে ১০৪ বলে ১০টি চার ও এক ছক্কায় ১০৭ রান করেন রুট।

জনি বেয়ারস্টো উইকেটে নেয়ার পর উল্লাসে মেতে ওঠেন ওয়াহাব রিয়াজ

জো রুটের বিদায়ের পর লড়াই চালিয়ে যান পর জস বাটলার। মোহাম্মদ আমিরকে বাউন্ডারি হাঁকানোর মধ্য দিয়ে ৭৫ বলে শতরান পূর্ণ করেন বাটলার। বিশ্বকাপের চলমান আসরে জো রুটের পর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেন তিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাটলারের এটা নবম সেঞ্চুরি।

সেঞ্চুরির করার পর ঠিক পরের বলেই ক্যাচ তুলে দেন বাটলার। আমিরের গতির বলে ওয়াহাব রিয়াজের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ৭৬ বলে ৯টি চার ও দুটি ছক্কায় ১০৩ রান করেন বাটলার।

সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দ্রুতই সাজঘরে ফিরে যান তিনি। ব্যক্তিগত ১০৩ রানে মোহাম্মদ আমিরকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ওয়াহাব রিয়াজের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। শেষ দিকে পরপর দুই বলে মঈন আলী (১৯) ও ক্রিস ওকসকে (২১) ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান ওয়াহাব রিয়াজ।

১ রান করা জফরা আর্চারকে রিয়াজের ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন আমির। এরপর আদিল রশিদ ২ ও মার্ক উড ৬ রান করে অপরাজিত থাকলেও জেতাতে পারেননি।

পাকিস্তানের হয়ে ওয়াহাব রিয়াজ ৩টি, মোহাম্মদ আমির ও শাদাব খান দুটি করে এবং মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিক একটি করে উইকেট লাভ করেন।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৪ রান ও এক উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পান মোহাম্মদ হাফিজ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩