ইরান বিরোধী নৌ-জোট গড়ার মার্কিন প্রস্তাব ভেস্তে যাওয়ার রহস্য
ইরানের ওপর চাপ জোরদারের লক্ষ্যে মার্কিন সরকার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-জোট গড়ে তোলার যে আহ্বান জানিয়েছে কয়েক সপ্তাহ পরও তাতে তেমন কেউ সাড়া দেয়নি। বরং বিশ্বের বহু দেশ, এমনকি ইউরোপীয় জোটও এর বিরোধিতা করেছে।
ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্লোরেন্স পার্লি বলেছেন, ইউরোপীয় জোট পারস্য উপসাগরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন নৌ-জোটে শরিক হবে না। তিনি বলেছেন, ইউরোপের দেশগুলো পারস্য উপসাগরে বাণিজ্য জাহাজগুলোকে প্রহরা দেয়ার প্রস্তাবিত মার্কিন অভিযানে যোগ দেয়ার বিরোধী।
গত কয়েক মাসে পারস্য উপসাগরে উস্কানিমূলক কিছু মার্কিন পদক্ষেপের কারণে বেশ উত্তেজনা দেখা দেয়। এ অঞ্চলে মার্কিন সেনা উপস্থিতি জোরদার ও ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন ড্রোনের অনুপ্রবেশ ছিল এমনই দুই পদক্ষেপ। ইরান ওই মার্কিন ড্রোনকে বিধ্বস্ত করলে আমেরিকার মিত্র ব্রিটেন ইরানের একটি তেল ট্যাংকারকে জিব্রাল্টার প্রণালীতে বেআইনিভাবে আটক করে। জবাবে সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে হরমুজ প্রণালীতে ব্রিটেনের একটি তেল-ট্যাংকার আটক করে ইরান।
এ অবস্থায় পারস্য উপসাগরে বাণিজ্য জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেয়ার অজুহাত দেখিয়ে প্রস্তাবিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন নৌ-জোটে শরিক হতে বিশ্বের ৬০টি দেশের কাছে আবেদন জানায় মার্কিন সরকার। আসলে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি আরব সরকারগুলোর কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় এবং এ অঞ্চলে ইসরাইলের উপস্থিতির পরিবেশ সৃষ্টি ও আরব-ইসরাইল ঘনিষ্ঠতার ব্যবস্থা করাই এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য।
কয়েক সপ্তাহ পর গতকাল পর্যন্ত ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে কেবল ব্রিটেন, বাহরাইন ও অস্ট্রেলিয়া সাড়া দিয়েছে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলোও মার্কিন এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলেছে, এই পদক্ষেপ ইউরোপের শান্তি ও গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।
অবশ্য ইউরোপিয় জোটের প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, ইউরোপ এক নিরাপত্তা প্যাকেজের আওতায় এমন এক নৌ-জোট গড়ে তুলতে চায় যেখানে দেশগুলো স্বেচ্ছায় তথ্য বিনিময় করবে। ট্রাম্পের নৌ-জোট গড়ার ডাক ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে মোগেরিনির প্রস্তাবিত নৌ-জোটে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটা এখন দেখার বিষয়।
ইউরোপীয় জোট বা ইইউ থেকে এই মহাদেশের সবচেয়ে বড় নৌ-শক্তি ব্রিটেনের বের হওয়ার উদ্যোগ নিয়ে লন্ডন ও ইইউ'র মধ্যে দ্বন্দ্ব জোরদারের প্রেক্ষাপটে মোগেরিনির এই প্রস্তাব ওয়াশিংটন ও লন্ডনের উস্কানিমূলক আর জলদস্যুসুলভ আচরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে কিনা তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।
ইরান বলে আসছে স্থানীয় দেশগুলোই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যথেষ্ট এবং মূলত ইরানই হরমুজ প্রণালীসহ এই উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।