৪০ হাজার আইএস-সন্ত্রাসী সিরিয়ায় ঢুকেছিল তুর্কি সহায়তায়: এরদোগানকে ওয়াশিংটন
https://parstoday.ir/bn/news/world-i74666-৪০_হাজার_আইএস_সন্ত্রাসী_সিরিয়ায়_ঢুকেছিল_তুর্কি_সহায়তায়_এরদোগানকে_ওয়াশিংটন
বিশ্বের ১১০টি দেশ থেকে আসা তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘দায়েশ’ বা ‘আইএস’-এর ৪০ হাজার সদস্যকে সিরিয়ার যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল তুরস্ক। দায়েশ বা কথিত আইএস বিরোধী বহুজাতিক জোটের সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি বার্ট ম্যাকগোর্ক (Burt McGork) এই তথ্য দিয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ২২, ২০১৯ ১০:৩৬ Asia/Dhaka
  •  ৪০ হাজার আইএস-সন্ত্রাসী সিরিয়ায় ঢুকেছিল তুর্কি সহায়তায়: এরদোগানকে ওয়াশিংটন

বিশ্বের ১১০টি দেশ থেকে আসা তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘দায়েশ’ বা ‘আইএস’-এর ৪০ হাজার সদস্যকে সিরিয়ার যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল তুরস্ক। দায়েশ বা কথিত আইএস বিরোধী বহুজাতিক জোটের সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি বার্ট ম্যাকগোর্ক (Burt McGork) এই তথ্য দিয়েছেন।

আল আরাবিয়া টেলিভিশন এক রিপোর্টে জানিয়েছে, ম্যাকগোর্ক এক সেমিনারে বলেছেন, আইএস গোষ্ঠীর জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দিতে বিশ্বের ১১০টি দেশ থেকে ৪০ হাজার আইএস জঙ্গি সিরিয়ায় ঢুকেছিল এবং এদের সবাই যুদ্ধ করতে সিরিয়ায় ঢুকেছিল তুরস্কের ভেতর দিয়ে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে তুরস্কের বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণ করে তারা সিরিয়ার দিকে যেত।

তিনি আরও বলেছেন, “সিরিয়ায় দায়েশের স্বঘোষিত ‘খেলাফত’ গড়ে তোলা হয়েছিল তুর্কি সীমান্তের পাশে এবং আমরা এ কারণে তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। আমি নিজে অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে তুরস্কে বেশি সফর করেছি যাতে সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সীমান্ত বন্ধ করে দিতে তুর্কি কর্মকর্তাদের উৎসাহ দেয়া যায়, কিন্তু তারা সীমান্ত বন্ধ করেননি। তারা বলতেন, আমরা সীমান্ত বন্ধ করে দিতে পারি না। কিন্তু যখন কুর্দিরা সীমান্তের এক বিশাল অঞ্চলের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে তখন তুরস্ক দেয়াল তুলে সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।” 

মার্কিন এই কর্মকর্তা এমন সময় তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের সঙ্গে তুরস্কের সহায়তার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করলেন যখন সম্প্রতি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান তার দলের এক সভায় বলেছেন, সন্ত্রাসী  আইএস গোষ্ঠীর আবির্ভাব ছিল পশ্চিমা দেশগুলোর ষড়যন্ত্র এবং তারাই হত্যার এই যন্ত্র আবিষ্কার করেছে ও তার নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে রেখেছিল।

মার্কিন সরকার এখনও দায়েশকে সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বলেও তুর্কি প্রেসিডেন্ট এর আগে উল্লেখ করেছিলেন।

ইরাকে গণহত্যা চালায় দায়েশ সন্ত্রাসীরা

পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বার্ট ম্যাকগোর্ক এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে দায়েশ বা আইএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে জন্ম দিয়ে ও সিরিয়া আর ইরাকে লেলিয়ে দিয়ে পাশ্চাত্য যদি বড় পাপ করেও থাকে তাহলে সেই বড় পাপ সংঘটন তুরস্কের ব্যাপক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব হত না। আর তাই এই বিশাল পাপের বড় ধরনের শরিক হয়েও তুরস্কের ‘ধোয়া তুলসি পাতা হওয়ার’ বা ফেরেশতার মত নিষ্পাপ হওয়ার দাবি করাটা খুবই হাস্যকর! তিনি অবশ্য মার্কিন সরকার বা পাশ্চাত্যের পাপকে ছোট করে দেখাতে ও এক্ষেত্রে তুরস্কের পাপই বড় ছিল বলে তুলে ধরতে গিয়ে দাবি করেছেন যে, আমরা তো তুরস্ককে সীমান্ত বন্ধ করতে বলেছিলাম কিন্তু তুরস্ক তা করেনি!

মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বার্ট ম্যাকগোর্ক ছাড়াও এর আগে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বীকার করেছিলেন যে দায়েশ বা আইএস মূলত মার্কিন পরিকল্পনার ফসল এবং এর সদস্যরা ওয়াশিংটন ও তুরস্কসহ ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক সহযোগী সরকারগুলোর সহায়তায় সিরিয়ায় ঢুকেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে, ওয়াশিংটনই আইএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি তুরস্ক উত্তর সিরিয়া থেকে বেশিরভাগ মার্কিন সেনা সরে যাওয়ার সুযোগে কুর্দি গেরিলাদের দমনের নামে সিরিয়ার এই অঞ্চলে সেনা পাঠিয়ে কথিত নিরাপদ-অঞ্চল সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়ায়  দায়েশ সন্ত্রাসীরা আবারও মাথা চাড়া দেয়ার সুযোগ পাবে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। সিরিয়ার কুর্দি গেরিলাদের জেলখানাগুলোতে আটক দায়েশ সন্ত্রাসীরা তুর্কি অভিযানের সুযোগে তুরস্কের মধ্য দিয়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। অবশ্য তুর্কি সরকার বলেছেন, তারা দায়েশ সন্ত্রাসীদের পালানোর সুযোগ দেবেন না।

দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসহ সিরিয়ার বহু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তুর্কি সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা, বিশেষ করে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, অর্থ ও অস্ত্রের যোগান পেয়ে আসছে বলে নানা সংবাদ মাধ্যমে প্রামাণ্য খবরা-খবর প্রকাশিত হয়েছে।

দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইরাক ও সিরিয়ায় পরাজিত হয়ে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেলেও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। #

 

পার্সটুডে/এমএএইচ/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।