কাবুলে পাকিস্তানের ২ তালেবান কমান্ডারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে রহস্য ঘনীভূত
-
ফাইল ছবি
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানি তালেবানের দুই সাবেক শীর্ষস্থানীয় নেতার হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশ দু’টিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের একটি গোয়েন্দা সূত্র এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে যে, শত শত বিস্ফোরণ ও আত্মঘাতী হামলার হোতা ওই দুই তালেবান কমান্ডার গত সপ্তাহে কাবুলে নিহত হয়েছে।
তবে তারা কেন কাবুলে গিয়েছিল এবং কে বা কারা তাদেরকে হত্যা করেছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান তাদের দুই নেতার নিহত হওয়ার খবর ও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা দাবি করেছে, মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত পাকিস্তানি তালেবান এ খবর গোপন রেখেছিল।
নিহতদের একজন হলেন শেখ খালিদ হাক্কানি যিনি এক সময় তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের উপ-প্রধানের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি এই গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় পরামর্শ সভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলা এবং ২০১৪ সালে পেশোয়ারের একটি স্কুলে ভয়াবহ হামলার দায়ে অভিযুক্ত। স্কুলের ওই হামলায় প্রায় দেড়শ মানুষ নিহত হয় যাদের বেশিরভাগই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।
কাবুলে নিহত দ্বিতীয় ব্যক্তির নাম কারি ইউসুফ ইউনুস। তিনি পাকিস্তানি তালেবানের সামরিক কমান্ডার ছিলেন। পাকিস্তানের একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি তাদের গোষ্ঠীর নেতার নির্দেশে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিকা প্রদেশ থেকে কাবুলে গিয়েছিলেন।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, কাবুলের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের কাছে ওই দুই তালেবান নেতার লাশ পাওয়া যায়।
পাকিস্তানি তালেবান নেতারা সাধারণত কাবুল সফর করেন না। আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গেও পাকিস্তানি তালেবানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে ধারণা করা হয়। তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান সাধারণভাবে তাদের তৎপরতা ও হামলা পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ রাখে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের তালেবানকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। এবার নতুন করে এই অভিযোগ মাথাচারা দিয়ে উঠতে শুরু করেছে যে, আফগানিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগও হয়ত পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তবে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান পরস্পরের তালেবানকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করছে।
তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের একটি সূত্র দাবি করেছে, কাবুলে তাদের দু’জন নেতার হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাত থাকতে পারে।
নিহত দুই নেতার লাশ পাকিস্তানি তালেবানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তারা গত সোমবার আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে বড় ধরনের দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আফগান সরকার এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।#
পার্সটুডে/এমএমআই/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।