আয়া সোফিয়াকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা: তুরস্কের ভেতরে ও বাইরে প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/world-i81388-আয়া_সোফিয়াকে_মসজিদ_হিসেবে_ঘোষণা_তুরস্কের_ভেতরে_ও_বাইরে_প্রতিক্রিয়া
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে অনুমতি পত্রে সই দিয়ে এরদোগান বলেছেন, আয়া সোফিয়াকে তুরস্কের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং মুসলমানদের নামাজের জন্য খুলে দেয়া হবে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ১২, ২০২০ ১৩:৩৩ Asia/Dhaka

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে অনুমতি পত্রে সই দিয়ে এরদোগান বলেছেন, আয়া সোফিয়াকে তুরস্কের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং মুসলমানদের নামাজের জন্য খুলে দেয়া হবে।

এরদোগানের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউনেস্কো, এ অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ এবং গ্রিস, ফ্রান্স, তুরস্ক ও আমেরিকার মতো দেশগুলো জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তরিত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ সত্বেও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ ব্যাপারে বাইরের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগে গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা তুরস্ককে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আঙ্কারা যেন ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলে এবং তাদের উচিত হবে না আয়া সোফিয়ার মতো মানব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলো রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিকে অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও পাশ্চাত্যের সরকারগুলো এমন সময় এরদোগানের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাল যখন ইউরোপীয় দেশগুলোর রাজধানীর মধ্যে এথেন্স একমাত্র রাজধানী  যেখানে কোনো মসজিদ নেই এবং সেখানে মসজিদ ধ্বংসের ব্যাপারে কেউ কোনো কথা বলছে না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তুরস্ক যতদিন পর্যন্ত পাশ্চাত্যের নীতিমালার প্রতি অনুগত থাকবে ততদিন পর্যন্ত নিজেকে পাশ্চাত্য থেকে স্বাধীন প্রমাণের চেষ্টা করলে তা তুরস্ক সরকারের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনবে এবং ভবিষ্যতে আঙ্কারা আরো রাজনৈতিক সংকটে পড়বে। গ্রিসের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এর প্রমাণ।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে এমন সময় উত্তেজনা বেড়েছে যখন ধারণা করা হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন নিয়ে এরদোগান ওই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে তুরস্কের অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞ প্রেসিডেন্ট এরদোগানের এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করে একে এক হাজার বছরের ইতিহাস মুছে ফেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তুরস্কের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও খ্যাতনামা মিডিয়াকর্মী ইয়ালদিরাই ওগুর গত ছয় জুন এক নিবন্ধে লিখেছেন, ১৯৬৫ সালে প্রথম যখন এটিকে গির্জা থেকে মসজিদে পরিণত করা হয়েছিল তখনই তা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। আর বাস্তবতা হচ্ছে আয়া সোফিয়া মসজিদে মুসলমানদের নামাজ পড়ার ইতিহাস মাত্র ৫৫ বছর।

যাইহোক, প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ওই  পদক্ষেপ থেকে এটা বলা যায়, এর মাধ্যমে তিনি হয়তো জাতীয় ঐক্যকে সমুন্নত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এটাকে ভবিষ্যতে পাশ্চাত্য মুসলমানদের বিরুদ্ধেও অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১২