প্রিয়জন: ‘রেডিও তেহরানের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা শ্রোতাদের মন কেড়ে নেয়’
শ্রোতাবন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। প্রতি সপ্তাহ'র মতো আজও চিঠির ঝাঁপি নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আছি আমি গাজী আব্দুর রশীদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।
আশরাফুর রহমান: বরাবরের মতোই একটি হাদিস শুনিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে চাই। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "মজলুম ব্যক্তির ফরিয়াদ আল্লাহতায়ালার নিকট কবুল হয় এমনকি সে ব্যক্তি নিজে যদি পাপপঙ্কিল, অনৈতিক বা উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনও করে থাকে। কারণ সে যে পাপকার্য করে তার পরিণতি সে নিজেই ভোগ করবে।"
আকতার জাহান: খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস শুনলাম। আমরা সবাই জুলুম থেকে বিরত থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করব- এ আশাবাদ ব্যক্ত করে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে।
ঈদে মিলাদুনবী উপলক্ষে রংধনু আসরে প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে বেশকিছু ইমেইল আমাদের কাছে পৌঁছেছে। একটি মেইলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থেকে মনীষা রায় লিখেছেন, "রেডিও তেহরানের সবগুলো পরিবেশনার মধ্যে 'রংধনু' পরিবেশনাটি যেন আমার হৃদয়কে আকাশের রংধনুর মত সাত রঙে রাঙিয়ে দিয়েছে। রংধনু অনুষ্ঠানটি ছোটদের জন্য হলেও এখান থেকে বড়রাও শিক্ষা পেয়ে থাকে। আট থেকে আশি সব বয়সীরা ভক্তি, শ্রদ্ধা, নৈতিকতা, সকল জীবকে ভালোবাসা সর্বোপরি মূল্যবোধের শিক্ষা পায় এখানে।
গাজী আব্দুর রশীদ: মনীষা রায় আরও লিখেছেন, "গত ২১ অক্টোবর 'পবিত্র ঈদে মিলাদুনবী' উপলক্ষে প্রচারিত রংধনুর বিশেষ অনুষ্ঠান আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। ছোট্টবন্ধু অয়ন, তাসমিয়া, ইরফান ও অনাহিতার আবৃত্তি খুবই ভালো লেগেছিল। সবচেয়ে ভালো লেগেছে শিশু শিল্পী রাইশার কণ্ঠে কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে' গানটি। এটি আমার হৃদয় ছুঁয়ে দিয়েছে।"
আশরাফুর রহমান: একই অনুষ্ঠান সম্পর্কে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারীর শাপলা শর্টওয়েভ লিসেনার্স ক্লাব থেকে আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার লিখেছেন, "প্রিয় তেহরান বেতার থেকে গোটা বছরে অনেক বিশেষ অনুষ্ঠানই শুনেছি, সাথে রংধনুও কম নয়। তবে ২১ অক্টোবরের রংধনু ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক অনবদ্য পরিবেশনা। বিশেষের বিশেষত্বকেও যেন হার মানিয়েছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশেষভাবে গ্রন্থিত 'রংধনু আসর'টিকে কোন্ বিশেষণে বিশেষায়িত করব তার উপযুক্ত ভাষা আমার জানা নেই। সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবাসার কারণ হিসেবে ছোট্ট বন্ধুদের যৌক্তিক অনুভূতি আমার মন ছুঁয়ে গেছে।"
আকতার জাহান: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার নওপাড়া থেকে নিজামুদ্দিন শেখ রংধনুর বিশেষ অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে তার মতামত তুলে ধরেছেন এভাবে- "আমার প্রিয় রংধনু আসরে কবিতা ও গানের সুরের মূর্ছনায় বিভোর হয়ে গিয়েছিলাম। অয়ন, তাসমিয়া ও ইরফানুল হক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা)-কে ভালোবাসার কারণ যেভাবে ব্যক্ত করল তা শুনে আমি ভীষণভাবে অভিভূত হয়েছি। অয়নের 'শানে খায়রুল বাশার', তাসমিয়ার 'এল বিশ্ব নবী' এবং অনাহিতার শেখ সাদির ফার্সি কবিতা আবৃত্তি আমাকে মুগ্ধ করেছে। ইরফানুল হকের কণ্ঠে আরবি নাতে রাসূলটি ছিল চমৎকার। হৃদয়স্পর্শী এই অনুষ্ঠান শুনতে শুনতে কখন যে সময় শেষ হলো বুঝতেই পারিনি।"
গাজী আব্দুর রশীদ: ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে পরিবেশিত রংধনু আসর সম্পর্কে চমৎকার মতামতের জন্য মনীষা রায়, আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার, নিজামুদ্দিন শেখসহ আরও যারা চিঠি লিখেছেন, মন্তব্য করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
আশরাফুর রহমান: কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, "আমি রেডিও তেহরানের একজন নিয়মিত শ্রোতা। মূলতঃ ইরানকে জানার জন্য এবং ইসলামি বিষয়গুলো অনুধাবণের জন্য আমি রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনি। নানা বৈচিত্রময় অনুষ্ঠান থেকে ইরান সম্পর্কে যেমন অনেক কিছু জানতে পারছি, তেমনি ইসলামি অনুষ্ঠানগুলো থেকে অনেক ইসলামি বিষয়ও জানতে পারছি। অনুষ্ঠান শুনতে শুনতে মনে অনেক প্রশ্ন জাগে। তেমনি একটি প্রশ্ন ইরানের দ্বীপ নিয়ে। প্রশ্নটি হল: ইরানে মোট কতটি দ্বীপ আছে? সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোট দ্বীপের নাম কি? ইরানের সবচেয়ে ছোট দ্বীপটিতে কি মানুষ বসবাস করে? করে থাকলে কতজন?
আকতার জাহান: ইরানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫ হাজার ১৪৪টি দ্বীপ আছে। সবচেয়ে বড় দ্বীপের নাম কেশ্বম। তবে সবচেয়ে ছোট দ্বীপ কোন্টি তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। ক্বেশম দ্বীপের আয়তন দেড় হাজার বর্গ কিলোমিটারেরও বেশী। এই দ্বীপের প্রস্তরময় উপকূল প্রায় দুইশ দুই কিলোমিটার দীর্ঘ। ক্বেশম দ্বীপের আয়তন সিঙ্গাপুর বা বাহরাইনের তুলনায় আড়াইগুণ বড়। দৈর্ঘে ১২০ কিলোমিটার আর প্রস্থে স্থানবিশেষে ১০ থেকে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার।
গাজী আব্দুর রশীদ: শাহাদত ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো। আশা করি কৌতুহল মিটেছে।
শ্রোতাবন্ধুরা, আসরের এ পর্যায়ে আমরা বাংলাদেশের এক শ্রোতাবোনের সঙ্গে কথা বলব। প্রথমেই তার পরিচয় জানা যাক।
আকতার জাহান: ভারতের আসামের বড়পেটা জেলার কান্দুলিয়া থেকে আব্দুস সালাম সিদ্দিক পাঠিয়েছেন পরের মেইলটি।
তিনি লিখেছেন, "গত ২৭ অক্টোবর রেডিও তেহরান থেকে প্রচারিত স্বাস্থ্যকথা অনুষ্ঠানে থাইরয়েড ও হরমোনজনিত কারণে বিভিন্ন সমস্যা ও তাঁর লক্ষণসমূহ, থাইরয়েডজনিত রোগের কারণ, নিরাময়ের উপায়, খাদ্যাভাস, করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে ইরানে গবেষণারত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদ জনাব হেদায়েতুল্লাহ সাজুর চার পর্বের আলোচনার শেষ পর্ব প্রচারিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি থেকে আমি বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছি। ঘরে বসে এভাবে জটিল রোগের কারণ, লক্ষণ, নিরাময়ের উপায় নিয়ে সুন্দর পরামর্শ ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করায় রেডিও তেহরানকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"
গাজী আব্দুর রশীদ: ভাই আব্দুস সালাম সিদ্দিক, স্বাস্থ্যকথা অনুষ্ঠান থেকে উপকৃত হয়েছেন জেনে ভালো লাগল। আশা করি আমাদের অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্পর্কেও মতামত জানাবেন।
সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশ-এর সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মোঃ চাঁন মিয়া পাঠিয়েছেন এই মেইলটি। প্রিয়জন অনুষ্ঠানে তার সাক্ষাৎকার প্রচার হওয়ায় ধন্যবাদ জানাতেই এই চিঠিটি লিখেছেন চাঁন মিয়া ভাই। তিনি লিখেছেন, "এটি ছিল রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগে দেয়া আমার প্রথম সাক্ষাৎকার। রেডিও তেহরানে প্রচারিত প্রতিটি অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু যেমন সত্য, তেমনি বাস্তব। এ বেতারের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা শ্রোতাদের মন কেড়ে নেয়, যেন স্টুডিওতে বসে শ্রোতাদের সাথে সরাসরি আড্ডা, যেখানে শ্রোতারা মন খুলে কথা বলতে পারে আকাশে ওড়া নিরিবিলি আবাবিল পাখির মতো।"
আশরাফুর রহমান: প্রিয়জনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পাশাপাশি রেডিও তেহরান সম্পর্কে চমৎকার মূল্যায়নের জন্য চাঁন মিয়া ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
২৫ অক্টোবরের প্রিয়জন সম্পর্কে মতামত জানিয়ে এই মেইলটি পাঠিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে বিধান চন্দ্র সান্যাল। তিনি লিখেছেন, "২৫ অক্টোবরের প্রিয়জন অনুষ্ঠানটি বছরের অন্যতম সেরা অনুষ্ঠান। হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর বাণী দিয়ে শুরু হওয়া ওইদিনের প্রিয়জনে মোঃ চাঁন মিয়ার সাথে আলাপচারিতা দারুণ উপভোগ্য ছিল। অনুষ্ঠানের শেষাংশ কাজী নজরুল ইসলামের লেখা নাতে রাসুল অনুষ্ঠানকে এক আলাদা মাত্রা দিয়ে দেয়। প্রিয়জন অনুষ্ঠান শেষ হতে না হতেই তা ওয়েবসাইটে আপলোড করার মধ্য দিয়ে রেডিও তেহরানের শ্রোতাবান্ধব নিষ্ঠা ও ঐকান্তিকতার পরিচয় মেলে।"
আকতার জাহান: শ্রোতাদের চিঠিপত্রের জবাবের আসর প্রিয়জন শ্রোতাবান্ধব হবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে। তো চিঠি লিখার জন্য বিধান চন্দ্র সান্যাল আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আসরের পরের মেইলটি এসেছে বাংলাদেশের রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার সৈয়দপুর থেকে। আর পাঠিয়েছেন এ, টি, এম, আতাউর রহমান রঞ্জু।
তিনি লিখেছেন, রংধনু আসর আমার প্রিয় অনুষ্ঠানগুলোর অন্যতম। ধন্যবাদ রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগকে- সুন্দর আয়োজনের মাধ্যমে রংধনু অনুষ্ঠানটি ভালোভাবে শ্রোতাদের মনঃপুত করে ফুটিয়ে তোলার জন্য। রেডিও তেহরানের সকল উপস্থাপক, উপস্থাপিকা, কলাকুশলীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠিটি শেষ করেছেন তিনি।
গাজী আব্দুর রশীদ: রংধনু আসর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত এ চিঠিটির জন্য রঞ্জু ভাইকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তো শ্রোতাবন্ধুরা, দেখতে দেখতে আমরা অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। এ পর্যায়ে রয়েছে একটি নাতে রাসূল। কাজী নজরুল ইসলামের লেখা নাতটি গেয়েছেন শিল্পী ইশরাক হোসাইন ও সাদমান সাকিব।
আশরাফুর রহমান: আপনারা নাতে রাসূলটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদাই নিই প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।