‘দুর্বল গণতন্ত্রের কারণেই দেশে গুপ্তহত্যা বাড়ছে’
সুপ্রিয় পাঠক! আমাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ ২৩ মে সোমবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঢাকা:
বেগম সম্পাদক নূরজাহান বেগম ইন্তেকাল করেছেন- প্রথম আলো
২ বছরের মধ্যে সড়ক ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন : সেতুমন্ত্রী - যুগান্তর
বিএনপি বন্ধুত্ব চায়, কারো দাসত্ব নয় : গয়েশ্বর- কালের কন্ঠ
সহিংসতার চক্র ভাঙুন: ইইউ- সমকাল
একমাসের মধ্যে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার দাবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন
নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শোক-ইত্তেফাক
পাবনার বেড়ায় চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে- নয়া দিগন্ত
চাঁদা না পেয়ে কৃষককে পেটালো পুলিশ!-মানবকন্ঠ
সরকারি ও নিষিদ্ধ ওষুধ রাখায় তিন ফার্মেসি মালিকের কারাদন্ড-ইনকিলাব
কোলকাতা:
টেট প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ- আনন্দবাজার
শ্রীনগরে দিনেদুপুরে থানার সামনেই খুন ২ পুলিশকর্মী- সংবাদ প্রতিদিন
মোদী, সনিয়াদের টক্করে এগোচ্ছেন মমতা-জয়ারা-এইসময় অনলাইন
সাক্ষীদের মারতে টাকা দিয়েছিল বাপুর শিষ্যরা!- দৈনিক আজকাল
নিট সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্সের ব্যাখ্যা দিতে প্রণবের কাছে আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী -বর্তমান
পাঠক! শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
‘নিখোঁজ’ও ভয়ের সংক্রমণ’ প্রথম আলো
অনুসন্ধানী এবং বিশ্লেষণমূলক প্রথম আলোর প্রতিবেদনটিতে-বাংলাদেশের বর্তমান সমাজের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও করুণ একটা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যারা নিখোঁজ হন ও শেষ পর্যন্ত কোনো খোঁজই মেলে না, তাঁদের পরিবার ও পরিজন সম্ভবত এই দুনিয়ায় সবচেয়ে দুর্ভাগা। নানা কারণেই মানুষ নিখোঁজ হয়। দুর্বৃত্ত চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকে নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁরা হয় হত্যাকাণ্ড অথবা পাচারের শিকারে পরিণত হন। কেউ কেউ নিজেও গৃহত্যাগী হন, পালিয়ে গিয়ে ‘নিখোঁজ’ ব্যক্তিতে পরিণত হন পরিবারের কাছে।
কিন্তু আমাদের দেশে গত কয়েক বছর ‘নিখোঁজ’ও শেষ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে একেবারে গুম হয়ে যাওয়ার যে ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে, এগুলো সেসব থেকে আলাদা। এ ধরনের ঘটনাগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিখোঁজ বা গুম হয়ে যাওয়া পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আর কোনো খোঁজ মিলছে না।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিহিত ও ব্যাখ্যার দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরই এসে পড়ে। এসব অভিযোগ যদি ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে যারা এসব অপকর্ম করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করা।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র ও অধিকারের সূত্রে জানা যাচ্ছে ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে গত ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ বছরে গুম বা নিখোঁজ হয়েছেন ২২০ জন। এঁদের মধ্যে ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ১৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ২০ জন বিভিন্ন সময়ে মুক্তি পেয়েছেন। বাকি ১৪২ জনের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
যে ৩৯ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে, তাঁরা যেভাবেই হোক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডে কোনো বিচার নেই। তবে তাঁদের শোকার্ত পরিবারের অন্তত এইটুকু সান্ত্বনা রয়েছে যে তাঁরা তাঁদের স্বজনকে নিজেদের মতো করে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে দাফন বা সৎকার করতে পেরেছেন। সেখানে গিয়ে তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ বা প্রার্থনা করার সুযোগ টুকু অন্তত পান। বাকি ১৪২ জনের পরিবারের কথা ভাবুন। তাঁরা কী তাঁদের স্বজনদের ফিরে আসার আশা ছেড়ে দিয়েছেন? কোনো কিছু নিশ্চিত না হওয়ার আগে কী কোনো দিন আশা ছেড়ে দেওয়া সম্ভব? যে পরিবারগুলো এই কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে, তারা কী ভাবে তা সহ্য করে টিকে আছে কে জানে! এদিকে দৈনিক যুগান্তরে খবরে বলা হয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দুর্বল গণতন্ত্রের কারণেই দেশে গুপ্তহত্যা বাড়ছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার বদলালে উল্টে যায় রিপোর্ট!-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
বাংলাদেশে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে ভোগান্তি এবং বাণিজ্যের নানা কথা রয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এ বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
স্ত্রীর গাইনী সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন নগরীর কাউনিয়া প্রধান সড়কের বাসিন্দা সানাউল ইসলাম। চিকিৎসক তার স্ত্রীর রোগ নির্নয়ের জন্য চারটি পরীক্ষা করতে দিলেন। গত ১২ মে তিনি সবগুলো পরীক্ষা করালেন নগরীর সাউথ এ্যাপোলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। শতভাগ নিশ্চিত হতে পরদিন একই পরীক্ষা ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করান তিনি। এরপর দুটি রিপোর্ট নিয়ে যান বরিশালের একজন গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের এক সহযোগি অধ্যাপকের প্রাইভেট চেম্বারে।
চিকিৎসক সবগুলো রিপোর্ট ওলোট-পালট করে দেখার সময় বিড়বিড় করে কি যেন বলছিলেন। সামনের চেয়ারে বসে রোগী ও তার স্বামী বিষয়টি খেয়াল করে শুনলেন- ডাক্তার বলছেন, দুটোর রিপোর্ট দুরকম।এখন কোনটা যে বিশ্বাস করি! এ নিয়ে চিকিৎসকের দ্বিধাদ্বন্ধ দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন রোগী ও তার স্বামী। শেষ পর্যন্ত একটি রিপোর্টকে মোটামুটি আস্থায় নিয়ে রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দেন ওই চিকিৎসক। এটা একটা ঘটনা। এভাবে প্রতিনিয়ত ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট দেখেও অনুমানের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করতে হচ্ছে নগরীর চিকিৎসকদের। রোগীর সু-চিকিৎসার জন্য রোগ নির্নয় করা জরুরি।
পাঠক ! বাংলাদেশের পর এবার ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খবরের চুম্বক অংশ তুলে ধরছি।
কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের, পাকিস্তানকে এড়িয়ে ইরানে বন্দর-আনন্দবাজার
খবরটিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দিনের কূটনৈতিক দৌত্য সাফল্যের মুখ দেখল সোমবার। ভারত ও ইরানের মধ্যে নতুন বন্দর তৈরির ব্যাপারে চূড়ান্ত স্বাক্ষর হল। ইরানের ছাবাহারে ওই বন্দর তৈরি হবে।
ঐতিহাসিক এই চুক্তির পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘‘ভারত এবং ইরান নতুন বন্ধু নয়, আমাদের দোস্তি ইতিহাসের মতোই প্রাচীন।’’ পাশাপাশি, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘‘ইরান ও ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতার এক বড় প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছে ছাবাহার।’’ ইরানের দক্ষিণ উপকূলে এই ছাবাহার। এটাই প্রথম বিদেশি বন্দর যেখানে ভারত বিনিয়োগ করেছে। প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার এখানে বিনিয়োগ করার কথা।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৩