জুলাই ২৩, ২০১৬ ১৬:৫৩ Asia/Dhaka

অন্তকর্ণের সমস্যার জন্য অনেকেই শুনতে পান না। ককলিয়ার ইমপ্লান্ট বা বিশেষ ধরণের শ্রবণ যন্ত্র অপারেশনের মাধ্যমে বসিয়ে দেয়া হলে তারা শতভাগ কানে শুনতে পাবেন। অবশ্য এ যন্ত্রটি মোটেও সস্তা নয়। বেশ দামি এ যন্ত্রের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ একান্তভাবেই জরুরি। এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন কোলকাতার ডেসিবল ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক   ডা. চন্দন সাহা। 

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে একবার জেনে নিই ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট কাকে বলে এবং কেন এর প্রয়োজন হয়?  ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি পদ্ধতি এক অভিনব চিকতিসা পদ্ধিতির নাম। যারা কানে শোনেন না কিম্বা একেবারেই কম শোনেন তাদের চিকিতসা করা হয় এই সার্জারীর মাধ্যমে। ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যার একটি অংশ সার্জেনরা অপারেশন করে কানের ভেতর বসিয়ে দেন যা আমৃত্যু কার্যকর থাকে। বাকি অংশটুকু কানের পেছনে লাগিয়ে শব্দ শোনা যায় প্রায় একেবারেই স্বাভাবিকের মতো। কানে শোনার ক্ষেত্রে যাদের জন্মগত সমস্যা রয়েছে তাদের বেলায় ১০ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট করলে কানে ভালো শুনতে পাবে।

তাছাড়া যাদের বয়স বেশি তারাও অপারেশন করালে ভালো শুনতে পাবেন। তবে ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট যন্ত্রের নাম মোটেও কম নয়। তাই এ যন্ত্রটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত।

রেডিও তেহরান: ডা. চন্দন সাহা আলোচনার শুরুতেই জানতে চাইবো ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট নামক দামি যন্ত্রটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের কি করতে হবে?

ডা. চন্দন সাহা: ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট নামক যন্ত্রটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে যন্ত্রটিকে শুকনো রাখা। কোনোভাবে যেন এটাতে পানি না যায় এবং আঘাত না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় খেলা করার সময় যন্ত্রটি মাটিতে পড়ে গেল বা শক্ত কিছুর সঙ্গে আঘাত লাগল। এধরনের বিষয় থেকে যন্ত্রটিকে বাঁচাতে হবে। ককলিয়ার ইমপ্লান্টের সাথে আরো বেশ কিছু  জিনিষপত্র দেয়া থাকে যাতে  তারা এই যন্ত্রটিকে সুরক্ষা করতে পারে। যাতে করে এই যন্ত্রটি পড়ে না যায় সেজন্য কিছু অ্যাকসেসরিসও দেয়া হয়। সেইসব অ্যাকসেসরিসগুলো অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।

তাছাড়া যন্ত্রটিকে রাখার সময় ভালো করে একটা কাপড় দিয়ে মুছে ড্রাই এইড নামের যে বক্স যাকে ড্রাইয়ার বলে তার মধ্যে প্রতিদিন রাখা উচিত। আমাদের দেশে গরমের সময় প্রচণ্ড আদ্রতা ও ঘামের জন্য মেশিনারিজের ক্ষতি হয় বা ইনফরমেশনও ক্ষতি হয় সেজন্য ঘাম হলে আমরা যেমন চশমা মাঝে মাঝে মুছি।  ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্টকেও য কয়েক ঘন্টা পর একটা কাপড় দিয়ে মুছে আবার কানে লাগিয়ে নেয়া উচিত।

রেডিও তেহরান: রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যন্ত্রটির কোনো বদলানো বা পরিবর্তনের দরকার আছে কি ?

ডা. চন্দন সাহা: এর মধ্যে কিছু কিছু জিনিষ আছে যেগুলো পাল্টাতে হয়। যেমন –মাইক্রোফোন প্রোটেক্টর প্রতি দু'মাস পর পর পরিবর্তন করতে হয়। ব্যাটারী যখন চার্জ হয় তখন অবশ্যই ভোল্টেজের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভোল্টেজ যেন উঠানামা না করে। যদি বিদ্যুত লাইনে ভোল্টেজ উঠানামা করে সেক্ষেত্রে  ভোল্টেজ স্টাবলাইজার যার মধ্যে রেগুলেটর আছে সেগুলোর মাধ্যমে ব্যাটারী চার্জ করা উচিত। এর ফলে ব্যাটারীর আয়ু অনেক বেড়ে যায় এবং ক্ষতিও কম হয়।

রেডিও তেহরান: ককলিয়ার ইমপ্লান্টেরকে ভালো রাখতে হলে তাতে যেন  পানি না লাগে এবং যন্ত্রটিকে শুকনো রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তা আপনার আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম। এছাড়া এ যন্ত্র ভালো রাখার জন্য আর কিছু  করার আছে কি?

ডা. চন্দন সাহা: এছাড়া, আর একটা জিনিষ বেশ গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে যাতে এর মধ্যে ধুলাবালি কম যায় সে জন্যে সপ্তায় অন্তত একদিন নরম একটা ব্রাশ দিয়ে যন্ত্রের বিভিন্ন জায়গা পরিস্কার করা। যন্ত্রের বাইরে যে প্রসেসর থাকে সেটার মাইক্রোফোন, ব্যাটারী কন্ট্রাক্ট এবং ট্রান্সমেটিং কয়েল এগুলোর চারপাশ ভালো করে ব্রাশ আপ করে দেয়া উচিত।

রেডিও তেহরান: ককলিয়ার ইমপ্লান্টের 'র দু’টো অংশ হয় একটা কানের বাইরে লাগানো থাকে আর অপর অংশটি কানের ভেতরে স্থাপন করা হয়ে থাকে। এখন কানের ভেতরের অংশটিকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন আছে কি?

ডা. চন্দন সাহা: বিশেষত সেটার কোনো অসুবিধা হয় না। তবে হাইলি ফিজিক্যাল কন্ট্রাক্ট যে  গেমসগুলো যেমন রাগবি বা ফুটবল- এই ধরনের গেমগুলোকে  এভয়েড করতে বলবো। আর যদি এ ধরনের গেমস খেলা কারো পেশা হয় সেক্ষেত্রে প্রোটেকটিভ হেড পরে খেলা উচিত।

রেডিও তেহরান: ডা. চন্দন সাহা, কানের ইনফেকশান বা সক্রমণ কিম্বা কানের ব্যথা হলে তার কোনো প্রভাব কি ককলিয়ার ইমপ্লান্টের 'র ওপর পড়বে?

ডা. চন্দন সাহা: কানের ইনফেকশন থেকে এটাকে অবশ্যই সেভ রাখতে হবে। ককলিয়ার ইমপ্লান্ট থাকলে বিশেষত কানের ইনফেকশন, কানে ব্যথা যেগুলো ছোট বাচ্চাদের হয় এবং যেগুলো পরবর্তীতে পুঁজ হতে পারে,  কোনোভাবেই এগুলো যেন না হয়। কানে ব্যথা হলে সঙ্গেই সঙ্গেই যেন ইএনটি ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া হয় এবং কানের ব্যথা বা সর্দি লাগাকে যেন বিশেষভাবে কেয়ার নেয়া হয়।

রেডিও তেহরান: সবশেষে আমরা জানতে চাইবো ককলিয়ার ইমপ্লান্টের কতদিন টিকতে পারে?

ডা. চন্দন সাহা: সাধারণভাবে ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত এটা ভালোভাবে কাজ করবে। আমি আমার একজন রোগীকে দেখছি প্রায় বার বছর পর্যন্ত চলছে। তার বিশেষ কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু এই যন্ত্রটির এত আপগ্রেডেশন হয় যে রোগী ৬ থেকে ৮ বছর পর  বাইরের অংশটাকে আপগ্রেড করে নেয়। তবে যারা কোনো পরিবর্তন বা আপগ্রেড করতে না চান তারা ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত এটা নিবিঘ্নে ব্যবহার করতে পারবেন।# 

পার্সটুডে/মূসা রেজা/আশরাফুর রহমান/২৩