জুন ২০, ২০১৭ ১০:৫০ Asia/Dhaka
  • খোদাপ্রেমের অনন্য মাস রমজান (পর্ব-২৫)

রমজানের রোজাসহ যে কোনো ইবাদত-বন্দেগির লক্ষ্য হল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জন। আর খোদার ভালবাসা অর্জনের শর্ত হল ধর্ম বিষয়ে জ্ঞানী ও বিচক্ষণ হওয়া। কুরআনের সুরা ফাতিরের ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: বান্দাহদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে।

প্রত্যেক মু’মিন ব্যক্তির কর্তব্য হল, জগৎ ও জীবন, সৃষ্টি ও স্রষ্টা থেকে শুরু করে মানব-জীবন সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা। যেমন, মৃত্যু, কবর, বেহেশত ও জাহান্নাম তথা পরকাল, একত্ববাদ, ইমান, নবুওত-রেসালত, জিহাদ, তাকদির বা ভাগ্য, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, ইবাদত ও শির্ক, ইতিহাস,  রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক, বৈশ্বিক, সাংস্কৃতিক এবং ব্যক্তিগত বিষয়েও ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিগুলো জেনে নেয়া জরুরি। আর এ জন্যই বিশেষজ্ঞ নন এমন প্রত্যেক মুসলমানকে প্রায়ই ইসলামী বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে এবং নানা বিষয়ে নিজের ধারণাগুলো ইসলাম-সম্মত কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে।  

অজ্ঞতার কারণেই অনেক সরলমনা মুসলমান মনে করেন আল্লাহ মানুষের মতই শোনেন, কাঁদেন, বসেন ও হাঁসেন এবং একই কারণে অনেকে বলেন মানুষ পুরোপুরি স্বাধীন ও তাদের বিষয়ে আল্লাহর কোনো ভূমিকা নেই, আবার অনেকে ভাবেন মানুষের কোনো স্বাধীনতাই নেই- তার সব কাজই হয় আল্লাহর হুকুমে। এ জাতীয় ভুল ও বাড়াবাড়িপূর্ণ বা প্রান্তিক বিশ্বাসের রয়েছে মারাত্মক কুফল। আসলে মানুষের স্বাধীনতা ও পরাধীনতা দু’টোই আপেক্ষিক। তাদের ইখতিয়ার এ দুয়ের মাঝামাঝি। আর আল্লাহর প্রকৃত সত্তার পরিচিতি অর্জন করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। এ জন্যই পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ হযরত মুসা নবীকে বলেছেন, তুমি আমাকে কখনও দেখতে পারবে না। অর্থাৎ আল্লাহ এমন কোনো দৃশ্যমান সত্তা বা অস্তিত্ব নন যে চর্মচোখে বা অন্য কোনোভাবে তাকে দেখা সম্ভব।  তবে আল্লাহর অস্তিত্ব অনুভব করা যায় তাঁর নানা নিদর্শন বা গুণ থেকে। 

আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ) বলেছেন, আল্লাহর পরিচিতি তথা তাঁর মারেফাতই হচ্ছে দ্বিনের সূচনা বা ভিত্তি, আল্লাহর মারেফাতের পরিপূর্ণতা হচ্ছে তাঁর সম্পর্কে ন্যায়সঙ্গতভাবে সাক্ষ্য দেয়া বা সত্যায়ন করা, আর এ সাক্ষ্যের পরিপূর্ণতা হচ্ছে তাঁকে এক বলে বিশ্বাস করা ও সাক্ষ্য দেয়া, আর আল্লাহর একত্বকে পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরা যায় তাঁকে ভুল উপাধি বা পরিচয় থেকে ইখলাস করা তথা পবিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে (সুরা ইখলাস দ্রষ্টব্য), আর তাঁর পবিত্রতার স্বীকৃতির পূর্ণতা হচ্ছে তাঁর সত্তা বহির্ভূত কোনো গুণকে তাঁর সত্তার ওপর আরোপ না করার মধ্যে, কারণ তা করার অর্থ হলো তাঁর সত্তা ও তাঁর গুণকে আলাদা অস্তিত্ব হিসেবে ধরে নেয়া। একটা দৃষ্টান্ত দিলেই এ বিষয়ে আলী (আ)’র বক্তব্য স্পষ্ট হবে। যেমন,   আল্লাহর জ্ঞান ও সত্তাকে আলাদা ধরা হলে তার অর্থ হবে আল্লাহ অতীতে জ্ঞানী ছিলেন না পরে তাঁর সঙ্গে জ্ঞান যুক্ত হয়েছে বা তিনি মানুষের মতই চেষ্টা-প্রচেষ্টার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করেছেন! (নাউজুবিল্লাহ)

হযরত আলী (আ) আরও বলেছেন, আর যে আল্লাহর সত্তায় গুণ আরোপ করে সে আসলে আল্লাহর সঙ্গে ভিন্ন কিছু থাকার বা তাঁর কোনো সঙ্গী থাকার ঘোষণা দেয়, আর যে আল্লাহর সঙ্গী থাকার কথা বলে সে তাঁকে দুইজন বলে ঘোষণা দিল, আর যে আল্লাহকে দ্বৈত সত্তা বলে ঘোষণা দিল সে আল্লাহর একাধিক অংশ বা খণ্ড তথা শরীক আছে বলে মনে করলো, আর যে আল্লাহকে যৌগিক বা একাধিক সত্তার সংমিশ্রণ বললো সে আল্লাহ সম্পর্কে ভুল বুঝলো, আর যে আল্লাহ সম্পর্কে ভুল বুঝলো সে আল্লাহকে ইশারা করলো তথা তাঁকে কোনোভাবে যেমন, স্থান, সময় বা আকার-আকৃতি-গঠন, দিক প্রভৃতির গণ্ডীতে সীমিত করলো, আর যে আল্লাহকে কোনো গণ্ডীতে সীমিত করলো সে আল্লাহকে গণনা করলো। আর যে প্রশ্ন করে আল্লাহ কিসের মধ্যে বা ভেতরে আছেন ? –সে এর মাধ্যমে এটা বোঝালো যে আল্লাহ কোনো কিছুর মধ্যে বা ভেতরে আবদ্ধ আছেন! আর যে প্রশ্ন করে: আল্লাহ কিসের ওপর আছেন? যেমন, আরশ বা চেয়ারের ওপর? - সে এটা বোঝালো যে কোনো কোনো স্থানের ওপরে আল্লাহ নেই!

বিশ্বনবী (সা) এক দীর্ঘ হাদিসে বলেছেন, সহিষ্ণুতাকে যদি কোনো মানুষের আকারে দেখানো যেত তাহলে তা আলীর চেহারায় প্রকাশিত হত।

রমজান মাসের শেষ দশ রাত, বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলো শবে কদরের রাত হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। তাই এই রাতগুলোতে রাত্রি জেগে ইবাদত ও ইসলামী জ্ঞান-চর্চার এবং দান খয়রাতের সুযোগগুলো হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। #

পার্সটুডে/মু.আমির হুসাইন/ মো: আবুসাঈদ/২৫