জুন ২২, ২০১৭ ২১:৩৬ Asia/Dhaka

গত কয়েক পর্বে আমরা মহান আল্লাহর ভালবাসা অর্জনের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে তাঁর শেষ নবী ও রাসুলের ভালবাসা অর্জন এবং সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ এই রাসুলের ভালবাসা অর্জনের শর্ত হিসেবে তাঁরই পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা ও তাঁদের আনুগত্যের গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলেছি।

আজও এ বিষয়ে কয়েকটি হাদিস তুলে ধরছি:  তাবরানী তাঁর কাবীর গ্রন্থে এবং রাফেয়ী তাঁর মুসনাদে অবিচ্ছিন্ন সনদে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, “রাসূল (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি এজন্য আনন্দিত যে, সে চায় আমার মত জীবন যাপন করতে, আমার মত মৃত্যুবরণ করতে ও আমার প্রতিপালকের চিরস্থায়ী বেহেশতে বাস করতে সে যেন আলীকে ভালবাসে এবং আলীকেই তার অভিভাবক বলে জানে, সে যেন আলীর বন্ধুকেও বন্ধু বলে জানে ও আমার পর আমার আহলে বাইতের অনুসরণ করে। কারণ তাঁরা আমার সর্বাধিক আপন এবং তাঁরা আমার অস্তিত্ব হতে অস্তিত্ব লাভ করেছে, আমার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকেই তাঁরা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভ করেছে। ধ্বংস আমার সেই উম্মতের জন্য যারা তাদের তথা আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্বকে মিথ্যা মনে করে এবং আমার ও তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে কর্তন করে। আল্লাহ আমার শাফায়াতকে তাদের জন্য হারাম করুন।

রাসূল (সাঃ) তাঁর এক খুতবায় বলেছেন, “হে লোকেরা! মর্যাদা, সম্মান ও অভিভাবকত্বের পদমর্যাদা রাসূল (সাঃ) ও তাঁর বংশধরদের জন্য। সুতরাং অন্যদের অন্যায় দাবী ও বক্তব্য যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে।” 

রাসূল (সা) এক সময় এও বলেছেন, “আমার উম্মতের প্রতিটি প্রজন্মের সময়ই আমার বংশধর হতে কোন না কোন সুবিচারক ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি থাকবে। তাঁরা বিভ্রান্ত ব্যক্তিদের সৃষ্ট বিকৃত চিন্তা ও দীন ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ডের অপনোদন করবে এবং ধর্ম হতে অজ্ঞ ব্যক্তিদের ভ্রান্ত ব্যাখ্যাগুলোকে দূর করবে। জেনে রাখো, তোমাদের ইমাম ও নেতৃবর্গ তোমাদের প্রতিপালকের কাছে আদর্শ ব্যক্তি, তাই কাকে নিজের ইমাম ও নেতা মনোনীত করে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে সে বিষয়ে চিন্তা করো।”রাসূল (সাঃ) আরও বলেছেন, “আমার আহলে বাইতের ইমামগণ হতে পেছনে পড়ো না, তাদের বিষয়ে গাফেল ও অসচেতন হয়ো না তাহলে তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। তাদেরকে কোন বিষয়ে শিক্ষাদান করতে যেও না, তারা এ বিষয়ে তোমাদের চেয়ে বেশি জ্ঞাত।”রাসূলে খোদা (সা) আরও বলেছেন, “আমার আহলে বাইতকে দেহের মধ্যে মাথার মতো ও মাথার মধ্যে চোখের মতো মনে কর। জেনে রেখো, চোখ ছাড়া মাথা সুপথ বা হেদায়েতপ্রাপ্ত হতে পারে না।’ 

বিশ্বনবীর (সা) হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে তার যুগের ইমাম বা নেতাকে চিনলো না সে জাহিলিয়্যাতের মৃত্যু বরণ করবে’। অর্থাৎ তার মৃত্যু হবে অমুসলিম বা কাফিরের মত। তাই মুসলমানদের উচিত সঠিক নেতৃত্বকে খুঁজে নেয়া। আসলে সঠিক ও সত্যিকারের নেতার আনুগত্যের ওপরই নির্ভর করছে মুসলমানদের সাফল্য এবং ইহকাল ও পরকালের মুক্তি।

ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের একটি বড় দিক হচ্ছে এই ধর্ম মুসলমানদেরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সংগ্রাম ও জিহাদ করতে বলে। ইসলাম বলে না যে অন্যায়ভাবে কেউ এক চড় মারলে তুমি তার জন্য অন্য গালটিও পেতে দাও। প্রতিটি অন্যায্য আঘাত, অবমাননা ও অসম্মানজনক কথার জন্য শাস্তি বা জরিমানার বিধান রয়েছে ইসলামে যদিও ইসলাম ক্ষমাশীলতাকেও গুরুত্ব দেয়। একজন পিতাও অন্যায্যভাবে তার সন্তানকে, স্ত্রীকে বা অন্য কাউকে প্রহার করতে পারে না, হত্যা তো দূরের কথা। কেউ এমন কাজ করলে তাকে আঘাতের তীব্রতা বা ধরন অনুযায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটা তো গেলো ব্যক্তিগত অপরাধের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান। কিন্তু কখনও কখনও কোনো দেশ বা জাতি অন্যায়-অবিচার, বৈষম্য-বঞ্চনা বা আগ্রাসনের শিকার হলে ইসলাম সেক্ষেত্রে সম্মিলিত সংগ্রাম বা প্রতিরোধের নির্দেশ দেয়।

পবিত্র কুরআনে সুরা নিসার ৭৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন, তোমাদের কি হয়েছে যে তোমরা কেন আল্লাহর পথে লড়াই করছ না অসহায় নারী,পুরুষ ও শিশুদের রক্ষার জন্যে? যারা বলে হে আমাদের প্রতিপালক! জালেমের এই জনপদ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার কর। তোমার কাছ থেকে কাউকে আমাদের অভিভাবক কর এবং তোমার কাছ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠাও ৷" (৪:৭৫)

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি বা সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। (আলে ইমরান-১১০) পবিত্র কুরআনের এ দুই আয়াতের আলোকে একজন মুসলমান কী মজলুম ফিলিস্তিনি জাতির ব্যাপারে নীরব থাকতে পারে? পাশ্চাত্যের মদদপুষ্ট ইহুদিবাদী ইসরাইল নানা ভিত্তিহীন অজুহাত ও কল্প-কাহিনীর দাবির ভিত্তিতে ফিলিস্তিন জবরদখল করে সেখানে প্রতিষ্ঠা করেছে ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র। ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারা লাখ লাখ ফিলিস্তিনি ও আরব মুসলমানকে হত্যা করেছে এই বিষফোঁড়াকে রক্ষা করতে। 

শুধু তাই নয় ইহুদিবাদী ইসরাইল লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোর করে তাড়িয়ে দিয়েছিল তাদের ঘর-বাড়ি থেকে। আজও ইসরাইলি সন্ত্রাসের ভয়ে নিজ দেশে ফিরতে পারছে না অন্তত ৫০ লাখ ফিলিস্তিনি। ফিলিস্তিন ছাড়াও  ইসরাইল দখল করে রেখেছে জর্দান, লেবানন ও সিরিয়ার একাংশ। মুসলমানদের প্রথম কিবলাও বন্দী হয়ে আছে ইসরাইলি দখলদারিত্বের নাগপাশে ৫০ বছর ধরে।

রমজানের শেষ শুক্রবার হচ্ছে বিশ্ব কুদস্ দিবস। মুসলমানদের প্রথম কিবলা আলআকসা মসজিদ ও পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের জবরদখল ও পুরো ফিলিস্তিনকে ইসরাইলের নাগপাশ থেকে মুক্ত করার জন্য বিশ্বব্যাপী গণ-সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনীর আহ্বানে চালু হয়েছে এই দিবস। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর প্রথম চালু হয় এই দিবস। সেই থেকে প্রতি বছর কুদস দিবসের শোভাযাত্রা ও সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। 

ইমাম খোমেনী (র.) বলেছিলেন, কুদস‌্ দিবস হচ্ছে ইসলামের দিবস। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আরব দেশগুলোর মানুষ যদি এক বালতি করে পানি ঢালত তাহলে ইসরাইল ভেসে যেতো। ইসলামী ঐক্যের জন্য বিশ্ব কুদস্ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।

বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে হানাহানি এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির আলোকে বিশ্ব কুদস্ দিবসের গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বলে মনে করা যায়। কারণ, ইসলামের শত্রুরা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে গোত্রীয় ও ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করে মুসলমানদেরকে পারস্পরিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করছে এবং একদল সরলমনা, অজ্ঞ ও প্রতারক লোকদের সহায়তায় এক্ষেত্রে অনেকাংশে সফল হয়েছে। ইসলামের প্রচার-প্রসারকে রুখে দেয়া, মুসলিম জাতিগুলোর জাগরণ, ইসরাইল-বিরোধী প্রতিরোধ দুর্বল করা ও  ফিলিস্তিন সংকটকে ভুলিয়ে দেয়ার জন্য এইসব ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত ছড়ানোর চেষ্টা করা  হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

৭০-৮০ বছর আগে ফিলিস্তিনের মাত্র দুই শতাংশ বা তারও কম সংখ্যক নাগরিক ছিল ইহুদি। তাও তারা ছিল আরব ইহুদি। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনের মদদে সেখানে সারা বিশ্ব থেকে ইহুদিদের পাঠানো হতে থাকে মুহাজির হিসেবে। ব্রিটেন ও সৌদি ওয়াহাবি রাজবংশের সহযোগিতায়, বিশেষ করে ইসরাইল গঠনের বিষয়ে তুর্কি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ব্রিটেনের মাসোহারাপ্রাপ্ত গুপ্তচর প্রথম সৌদি রাজা আবদুল আজিজ সৌদের অনাপত্তি সংক্রান্ত মুচলেকার আলোকে ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র গঠন করা হয় ১৯৪৮ সালে। ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি ওয়াহাবি রাজ-সরকারের গোপন সহযোগিতা আজও অব্যাহত রয়েছে।

 ইহুদিদের প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টির জন্য ইহুদিবাদীরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারকে দিয়ে জার্মান ইহুদিদের ওপর গণহত্যা চালায়। এই বিশ্ব যুদ্ধে কোটি কোটি খ্রিস্টান ও মুসলমান নিহত হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমা প্রচার-মাধ্যমগুলো ইহুদি নিধনের খবর খুব বেশি মাত্রায় ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করে। বলা হয় যে সে সময় হিটলার ইউরোপে ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা করেছিলেন। কিন্তু সে সময় সারা বিশ্বে ইহুদির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ লাখ। যাই-হোক, হিটলারের অপরাধের দায় কেনো বহন করবে আরব বা ফিলিস্তিনি মুসলমানরা? বলা হয় ইহুদিবাদীরা প্রথমে  উগান্ডায়, লিবিয়ায় ও এমনকি ইরানের ভূমিতেও ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটি গঠন করতে চেয়েছিল। কিন্তু এসব স্থানে তারা সুবিধা করতে পারেনি। অবশ্য ইহুদিবাদীরা ফিলিস্তিনে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর মিশরের নীল নদ থেকে ফোরাত পর্যন্ত ইসরাইলকে বিস্তৃত করার ষড়যন্ত্র পাকাতে থাকে। এরই ভিত্তিতে তারা মিশরের সিনাই এবং সিরিয়া ও লেবাননের নানা অঞ্চল দখল করে বিভিন্ন সময়ে। ইসরাইল ১৯৬৭ সালে দখল করে পশ্চিম তীর ও গাজা এবং আলআকসা মসজিদসহ বায়তুল মোকাদ্দাস শহরের পূর্বাঞ্চল। এ শহরের পশ্চিমাঞ্চল তারা ১৯৪৮ সালেই দখল করেছিল। 

জাতিসংঘের ঘোষণার আলোকে ১৯৪৮ সালেই ইসরাইলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। কিন্তু ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্র শক্তি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঠেকিয়ে রেখেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণা অনুযায়ী পশ্চিম তীর ও গাজা এবং পূর্ব বায়তুল মোকাদ্দাসে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে। সিরিয়ার গোলান মালভূমিতেও একই কারণে ইসরাইলি দখলদারিত্ব অবৈধ। কিন্তু পশ্চিমা মদদের কারণে দাম্ভিক ইসরাইল জাতিসংঘের নির্দেশকে অগ্রাহ্য করে আসছে। পশ্চিমা মদদে ইসরাইল বিপুল সংখ্যক পরমাণু বোমারও অধিকারী হয়েছে। তাই ইসরাইল কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয় গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যও এক বড় হুমকি।

ইসরাইল যখনই প্রবল গণজাগরণ ও প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখোমুখি হয় তখন বেসামাল হয়ে শান্তি আলোচনার কথা বলে। কিন্তু এরপর শান্তি আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ করে ও শান্তির সব শর্ত লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের ওপর আগ্রাসন, যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ ও দখলদারিত্ব চাপানোর কাজ কয়েক গুণ জোরদার করে।

ইসরাইলের এইসব ধোঁকাবাজি আজ বিশ্বের সবার কাছে স্পষ্ট হলেও ফিলিস্তিনের একটি আপোষকামী গ্রুপ এবং সৌদি সরকারসহ একদল আরব ও মুসলিম সরকার ইসরাইলকে বার বার এইসব প্রতারণা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে তাদের গদি রক্ষার পশ্চিমা আশীর্বাদ বজায় রাখার স্বার্থে ।  মার্কিন সরকার যুদ্ধবাজ ও দখলদার ইসরাইলকে ইহুদি জাতির প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সম্প্রতি ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাসকে তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে তথা জেরুজালেমে সরিয়ে আনার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে ইহুদিবাদীরা প্রায়ই আল-আকসা মসজিদে হামলা চালাচ্ছে এবং এর আশেপাশে ধ্বংসাত্মক খননকাজ চালিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসসহ নানা ইসলামী স্থাপনার ইসলামী পরিচিতি বিলুপ্ত করতে চাইছে।

ইসরাইল কখনও শান্তি-প্রক্রিয়া  ও আলোচনাকে গুরুত্ব দেয়নি। হামাস ও হিজবুল্লাহর মত সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে প্রচণ্ড মার খাওয়ার পরই ইসরাইল তার দখলদারিত্বকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সীমিত করতে বাধ্য হয়। হামাস ও হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ আন্দোলন জন্ম নেয় ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সংগ্রামী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই।

তাই ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামই হচ্ছে মুসলমানদের জন্য মুক্তির সবচেয়ে ভালো পন্থা। অবশ্য ইসলামী ইরান একটি শান্তি-প্রস্তাবের কথাও বলে আসছে। আর তা হলো, ফিলিস্তিনের আদি অধিবাসীদের নিয়ে সেখানকার স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি নির্ধারণের বিষয়ে একটি গণভোট করা। বহিরাগত ইহুদিরা এই গণভোটে অংশ নিতে পারবে না। ইরানের যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক এই প্রস্তাবে কান দিচ্ছে না তথাকথিত গণতন্ত্রকামী পাশ্চাত্য! তাই বাকি রইলো কেবল সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ। আর বিশ্ব কুদস দিবসই হতে পারে এর পরিপূরক মনস্তাত্ত্বিক সংগ্রাম ও জুলুম-বিরোধী বিশ্ব ইসলামী ঐক্যের এক বড় সোপান। মহান আল্লাহই সংগ্রামী মুমিনদের বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্ব-কুদস দিবসের ফলে সৃষ্ট সচেতনতার কারণে ইসরাইলি পণ্য-বর্জন ও অবরুদ্ধ গাজা আর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের কাছে  ত্রাণ-সাহায্য পাঠানোসহ নানা ধরনের ইসরাইল-বিরোধী তৎপরতা জোরদার হচ্ছে। #

পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/২৩