প্রিয়জন : "সৌদি - ইসরাইলি শয়তানির কঠিন জালে আটকা পড়েছে মুসলিম দেশগুলো"
প্রথমে তুলে নিচ্ছি বাংলাদেশ থেকে আসা একটি চিঠি। মুনশীগঞ্জ জেলার লৌহজঙ্গের খেতের পাড়া গ্রাম থেকে এটি পাঠিয়েছেন শ্রোতা ভাই বাদল শেখ।
তিনি লিখেছেন, নানা কারণে অনেক দিন যাবত অনুষ্ঠান শোনা সম্ভব হয় নি। এরপর তিনি বইপুস্তক এবং ম্যাগাজিন সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
বহলুল: ওয়েবপেইজ জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছি আমরা। এ ছাড়া, কিছু সমস্যার কারণে বইপুস্তক এবং ম্যাগাজিনের মতো কোনো কোনো কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রয়েছে।
হ্যাঁ, এ বিষয়টি আপনার মতো পুরনো শ্রোতা ভাইয়ের নিশ্চয়ই নজরে পড়েছে। আর আমাদের কাছে সব শ্রোতা ভাইয়ের গুরুত্ব সমান। বয়স, ধর্ম এ সব কিছুর কারণে কারো সঙ্গে আমরা বৈষম্য করি না। যাই হোক, চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন আর সম্ভব হলে ইন্টারনেটে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনবেন বলে আশা করছি।
এরপরের চিঠিও এসেছে বাংলাদেশ থেকে। রাজশাহী জেলার শেখপাড়া থেকে এটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানর শ্রোতা ভাই আব্দুর জুব্বার। চিঠিতে রেডিও তেহরানের ভাইবোনসহ সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, আসুন একবার আমের ভর মওসুমে ঘুরে যান আমাদের এলাকা। আচ্ছা ইরানে কি আম পাওয়া যায়?

ইরানে আম পাওয়া যায়। বাংলাদেশে যখন ভরা মৌসুম থাকে তখনই ইরানে আম পাওয়া যায়। আর এ সব আম আসে ইরানের বাইরে থেকে আমদানি হয়ে। বেশি ভাগ ক্ষেত্রে এ সব আম পাকিস্তান কিংবা ভারত থেকে আমদানি করা হয়। তবে বাংলাদেশে বা পশ্চিমবঙ্গে যেমন ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙা, আম্রপালি, হিমসাগর, ফজলি, চোষা ইত্যাদি নানা জাতের, নানা স্বাদের আম পাওয়া যায়, ইরানে তেমনটি পাওয়া যায় না। এখানে এক বা দুই ধরনের আম পাওয়া যায়। এ ছাড়া, তেহরানে এখনো কাঁচা আম নজরে পড়েনি।
আর হ্যাঁ ভাই, বাংলাদেশে আম উৎপাদনের অন্যতম বড় এলাকা রাজশাহী থেকে আপনি আমের মৌসুমে আম খাওয়ার যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তা বড়ই লোভনীয়। কিন্তু কি করি বলুন। আমরা যদি সবাই আম খেতে চলে আসি তাহলে অনুষ্ঠান চলবে কি করে! যাই হোক, আমরা আপাতত পাকিস্তানি বা ভারতীয় আম খেয়েই স্বাদ মেটাই। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এবারে হাতে তুলে নিচ্ছি ভারত থেকে আসা একটি চিঠি। পশ্চিমবঙ্গের,উত্তর দিনাজপুরের বাঁশথুপি, থেকে এ চিঠি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই ডা. মৌলবি মোহাম্মদ হানিফ। এ শ্রোতা ভাই লিখেছেন, সৌদি আরব এবং ইসরাইলের শয়তানির কঠিন জালে আটকা পড়েছে মুসলিম দেশগুলো। এ অবস্থায় রুখে দাঁড়ানোর পথ কেবল পাওয়া যাবে কালেমার বাণীতে। আসুন আমরা সবাই কালেমার বাণীতে নিজেদের মুক্তির পথ খুঁজি।
বহলুল: সত্যিই বলেছেন ভাই। আপনার কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে নিয়মিত রেডিও তেহরান শুনছেন এবং তা হৃদয়ঙ্গম করছেন। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।
আসরের এ পর্যায়ে নজর দেবো রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকে রেডিও তেহরান গ্রুপের খবরে যে সব মন্তব্য হয়েছে সে দিকে। ভবিষ্যতের প্রতিটি যুদ্ধে ইসরাইল পরাজিত হবে: হিজবুল্লাহ শিরোনামের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৪ আগস্ট। এ খবরে বলা হয়েছে, লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ তেল আবিবকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতের প্রতিটি যুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইলের পরাজয় হবে ২০০৬ সালের পরাজয়ের চেয়ে অনেক বেশি শোচনীয়।
এ খবরটি স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুকে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। ফাহমিদা নুর লিখেছেন ইনশাআল্লাহ! ইসরাইলের ধ্বংস অনিবার্য.. অন্যদিকে কাজি সুজন লিখেছেন, ইনশাল্লাহ হবে। এই দুই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিনিধিত্বকারী বক্তব্য উঠে এসেছে।
এদিকে হাতিয়ার হিসেবে ‘সামরিক হুমকি’ সেকেলে হয়ে গেছে: ইরান শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৪ আগস্ট। এ খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের স্বাধীনচেতা দেশগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার দিন শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলায় হামলা চালানোর হুমকি দেয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুকের এ খবরে অনেকগুলো মন্তব্য হয়েছে। এর মধ্যে রোকন আহমদ লিখেছেন, আমেরিকার এই আধিপত্য আর কত সহ্য করবে বিশ্ববাসী? কতগুলো দেশ আবার তাদের গোলামে পরিণত হয়েছে!
এদিকে মার্কিন সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি প্রত্যাখ্যান করল লাতিন আমেরিকা- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৩ আগস্ট। এ খবরে বলা হয়েছে, ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো। সংঘর্ষে জর্জরিত ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে এ সব দেশ সমালোচনা করতে দ্বিধা না করলেও মার্কিন হুমকির মুখ দেশটির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে তারা। এ খবরে ইমোটিন দিয়ে মন্তব্য করেছেন পুরনো পাঠক ভাই কুতবী। হাসি ও ব্যাঙ্গের একটি ইমোটিন দিয়েছেন তিনি।
বহলুল: এ ভাই বেশির ভাগ খবরেই মন্তব্য করেন ইমোটিন দিয়ে। ধন্যবাদ ভাই।

এবারে ইরান সংক্রান্ত একটি খবর। 'সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আমেরিকার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার প্রথম দেশ ইরান' শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৪ আগস্ট। খবর বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে ইরানই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ভেটেরানস টুডে'র সম্পাদক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার জিম ডাব্লিউ ডিন।
যে ধরণের খবরে পাঠকবন্ধুরা উজ্জীবিত বোধ করেন এটি তার অন্যতম। ফেসবুক গ্রুপের মন্তব্যগুলোর দিকে নজর দিলেই এটি পরিষ্কার হয়ে উঠবে। মো আজহার রুবেল লিখেছেন, প্রতিরোধ শুরু। অন্যদিকে নাজমুল হাসান রায়হান লিখেছেন, এরই নাম ইরান,এক কথায় আমেরিকার যম। আমেরিকার বিরুদ্ধে তারাই প্রথম অবরোধ দিলো,ইতিহাসে ইরানই প্রথম এ কাজ করলো। সময়ের অভাবে বাকি মন্তব্য নিয়ে আজ আর আলাপ করা হলো না।
হ্যাঁ, সত্যিই সময়ের অভাবে পড়েছি মানে আসরের সময় শেষ হয়ে এসেছে। আমরা সবাই সত্যের পথে থাকবো এ আহ্বান জানিয়ে আজ এখানেই বিদায় চাইছি।#