প্রিয়জন : 'জালিমদের ধ্বংস অনিবার্য'
শুরুতেই যথারীতি একটি হাদিস। ইমাম জাওয়াদ (আ.) বলেছেন, এক মুসলমান আরেক মুসলমানের ভাই ও বন্ধু। কিন্তু এই বন্ধুত্ব যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হয় তাহলে তা এক সময় শত্রুতায় পরিণত হয়।
বহলুল: আজকের আসরের শুরুতে না, আমি সব বন্ধুকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে চাই। শুভ নববর্ষ। নতুন বছর সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনুক।
জ্বি বহলুল ভাই, আমরাও আপনাকে এবং বন্ধুদেরকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আসরের প্রথমেই যে ইমেইল হাতে তুলে নিয়েছি তা এসেছে বাংলাদেশ থেকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সোনামাসন গ্রামের বরেন্দ্র বেতার শ্রোতা সংঘ থেকে এটি পাঠিয়েছেন ভাই মোঃ আব্দুল মান্নান। চিঠির শুরুতেই এ শ্রোতা ভাই স্বীকার করেছেন, আপনাদের কাছে কবে শেষ চিঠি লিখেছিলাম তা আমার মনে পড়ে না। যাইহোক,অনেক দিন পর আপনাদের লিখলাম। এরপর তিনি আরো জানিয়েছেন, আপনাদের অনুষ্ঠান আমাদের খুব ভালো লাগে তাই লিখলাম।
বহলুল: পুরান শ্রোতাদের চিঠি অনেক পর পেলে সত্যিই মন খুশিতে ভরে ওঠে। আমার মনে হয় চিঠি এখনো শেষ হয়নি?
হ্যাঁ এ ভাই আরো লিখেছেন, আমরা আপনাদের বেতার থেকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ খবর পাই। আমাদের বিশ্বাস আপনারা সঠিক সংবাদ প্রচার অব্যাহত রেখে আপনাদের জনপ্রিয়তাকে শীর্ষে ধরে রাখবেন। চিঠিতে তিনি একটি অভিযোগও করেছেন। লিখেছেন, রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান ভালো শোনা যায় না। মাঝে মাঝে এমন হয় যে, রেডিও সেটটা কানের কাছে এনে কথা শুনতে হয়।
ভাই আব্দুল মান্নান, অনুষ্ঠান শুনতে গিয়ে আপনার কষ্টের কথা শুনে সত্যিই খারাপ লাগছে। অবশ্য এর আগের চিঠিগুলোতে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান ভালো শোনা যায় বলে একাধিক বন্ধু জানিয়েছেন। গত একমাসের মধ্যেই আমাদের একাধিক জানিয়েছেন, শর্টওয়েভে অনুষ্ঠান ভালো শোনা যায়। তারপরও ভাই আমরা আমাদের কারিগরি বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করব।
আর হ্যাঁ ভাই, আপনি কষ্ট করে যদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শোনার চেষ্টা করে তাহলে খুব ভালো হয়। কম্পিউটার বা এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে আমাদের অনুষ্ঠান চমৎকার শোনা যায়। সেখানে অনেকদিনের অনুষ্ঠান জমা করাও থাকে। আপনি ইচ্ছেমতো সময়ে তা শুনতে পারেন। সে যাক, ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন এবং অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত জানাবেন বলে আশা রাখছি।
আসরের এ পর্যায়ে শ্রোতা বন্ধুদের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর দেবো। আপনারা জানেন, সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান কোনোরকম রাখঢাক না করেই ইহুদিবাদী ইসরাইলকে স্বীকৃত দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। পবিত্র মক্কা এবং মদিনা নগরীর কথিত খাদেমদের এমন ন্যক্কারজনক ঘোষণা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ বিশেষ করে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন দানকারী মানুষদের মনে প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রেডিও তেহরানের শ্রোতা বন্ধুদের মধ্যেও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আজ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ঢাকার বন্ধু মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন …
সৌদি যুবরাজ বিন সালমান যে ঘোষণা দিয়েছেন তা ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে পরিষ্কার বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। আর এ কারণেই কি আপনার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে?
এ বক্তব্যের শেষে তিনি রেডিও তেহরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন...
তো ভাই মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ,যে কোনো শ্রোতা বা পাঠক ভাই একই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। আপনারা ফোন নম্বর দিলে রেডিও তেহরান থেকে ফোন করা হবে। বা ইচ্ছা করলে ভয়েস মেইলও পাঠাতে পারেন।
বহলুল: হ্যাঁ আমরা কিন্তু আপনাদের প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় রইলাম। তা আসরের এ পর্যায়ে কি আমরা নজর দেবো....
বহলুল ভাই শুধু নজর দেবো না বরং আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে আছি। হ্যাঁ সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল-শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৯ এপ্রিল। এ খবরে বলা হয়েছে, সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। ইসরাইল ওই ঘাঁটিতে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে যার মধ্যে পাঁচটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয় সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
ফেসবুক গ্রুপে এ খবরে অনেকগুলো মন্তব্য হয়েছে। এর মধ্যে শাহান মারুফের মন্তব্য অনেকেরই নজরে পড়েছে। তিনি লিখেছেন, ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পারা সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য একটি অন্যতম বড় সাফল্য। এদিকে স্ট্রেঞ্জ স্কাইলাইন ছদ্মনামের পাঠক বন্ধু লিখেছেন, না ভাই... এই সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না,পাল্টা আক্রমণ করতে পারাকে মূল সাফল্য বলা যাবে।
আরেক পাঠক বন্ধু আবদুস সালিমের কথায় একই প্রতিধ্বনি শোনা গেল। তিনি লিখেছেন, পাল্টা আক্রমণ করার সময় হয়েছে। আর দেরি নয়। ইটের বদলে সাথে সাথে ইট। কোন কথা নয়। সকল ইহুদিবাদী জালিমের ধ্বংস সামনেই।
বহলুল; হ্যাঁ জালিমদের ধ্বংস অনিবার্য। এদিকে আসরের সময়ে কিন্তু শেষ হয়ে এসেছে।
হ্যাঁ বন্ধুরা,এবার বিদায় নেয়ার পালা। যারা চিঠি লিখছেন,ইমেইল করছেন, ফেসবুকের খবরে নিয়মিত মন্তব্য করছেন এবং প্রিয়জনের আসরে আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন তাদের সবাইকে আবারো বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে আজ এখানেই বিদায় চাইছি।#