এপ্রিল ১২, ২০১৬ ১৫:২৮ Asia/Dhaka

পাঠক! ১২ এপ্রিল মঙ্গলবারে কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ ও আমি নাসির মাহমুদ। তো শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রথম আলো অনলাইন: তেলের দাম কমিয়ে সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি হলে এ খাতটি মুখ থুবড়ে পড়বে।

ইত্তেফাক অনলাইন: তেজগাঁওয়ে একটি পোশাক কারখানা হেলে পড়ার আশঙ্কা

যুগান্তর অনলাইন: রডের বদলে বাঁশ, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইনকিলাব অনলাইন: জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

মানবজমিন অনলাইন: বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

নয়া দিগন্ত অনলাইন: - আতিউর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন: বাংলাদেশে সমুদ্র বন্দর স্থাপন করতে চায় ভারত'/ ১৬ দিন পর ফিরল তনুর ভাইয়ের বন্ধু সোহাগ

ভারতের বাংলা দৈনিকের শিরোনাম:

আনন্দবাজার অনলাইন: রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার শর্ত ঘোষণা করে দিলেন অনুব্রত!

সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন: বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচন- কাঠগড়ায় কমিশন

বর্তমান অনলাইন: ভোট পড়ল ৮০ শতাংশ -অভিযোগের পাহাড়, কমিশন জানিয়ে দিল, বুথ দখল হয়নি

আজকাল অনলাইন: মন্দিরে অগ্নিকাণ্ড- ষষ্ট অভিযুক্ত গ্রেফতার

শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ভারতের -সবচেয়ে আলোচিত খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ:

‘৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সরকারের দাবি অবাস্তব’

এ শিরোনামটি দৈনিক মানবজমিন ও ইত্তেফাক অনলাইনের। আর প্রথম আলো লিখেছে-সরকার ঘোষিত জিডিপিতে বিভ্রান্ত না হতে বিএনপির আহ্বান।খবরটিতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপির ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে সরকারের দাবিকে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু দেশের বিনিয়োগ ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে। এই বিনিয়োগ দিয়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অবাস্তব। আজ সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, এটা অলীক। জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় টিকে থাকাই সরকারের উদ্দেশ্য। বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার যে ৭.০৫ প্রবৃদ্ধি দাবি করছে তা সঠিক নয়। এটা উদ্দেশ্য মূলক। সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোকে চাপ দিয়ে এ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করেছে।

তবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ হবে। প্রকৃত হিসাবে এটা আরও বাড়বে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএস তাদের হিসেবে জানিয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবার ৭ শতাংশের বেশি। বিবিএস বলছে, এবারই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ঘরে যাবে। আর মাথাপিছু আয় হবে ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার। এখন তা ১ হাজার ৩১৬ ডলার।

এদিকে, বিশ্বব্যাংকের কঠোর সমালোচনায় পরিকল্পনামন্ত্রী- শিরোনামের খবরে দৈনিক প্রথম আলোতে বলা হয়েছে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস নিয়ে বিশ্বব্যাংকের কঠোর সমালোচনা করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশ্বব্যাংক সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতিবেদন বিশ্বাস করে না। তারা নানা সময়ে নানা মত দেয়। মুস্তফা কামাল বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে বিশ্বব্যাংক আগে বলেছিল। পরে আবার বলল, ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে।

মান নেই সরকারি কাজে: বাঁশ দিয়ে হয় ভবন নির্মাণ

বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। এ সম্পর্কে দৈনিক যুগান্তরের শিরোনাম রডের বদলে বাঁশ, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনের শুরু এভাবে, ভালো ইট বালু সুরকির ব্যবহার নেই। কমিশন ভাগাভাগি। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কাথাচুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন গত অর্থবছরে নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর বা এলজিইডি। ৩৭ লাখ টাকায় ভবন নির্মাণের কাজ করেছেন ঠিকাদার মো. জুয়েল মিয়া। উদ্বোধনের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সূচি নির্ধারণের আগেই খসে পড়া শুরু হয় ভবনের পলস্তারা। উদ্বোধনের আগে স্থানীয়রা দেখতে পান এক তলা ভবনের পিলার, মেঝে, দেয়াল, ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল। পরে তাড়াহুড়া করে ঠিকাদারকে দিয়ে ফাটল ঢেকে দেন এলজিইডির কর্মকর্তারা। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক দিন যেতে না যেতেই দেখা যায় সেই ফাটল। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর খসে পড়ে ছাদ ও দেয়ালের পলস্তারা।

আগের ঘটনার মতো আরো বেশ কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

সেখানে বলা হয়েছে, কোনোরকম রাখঢাক ছাড়াই সরকারি টেন্ডারে চলছে দুর্নীতি। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের এ যৌথ অপকর্মই যেন প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে গত মাসের শুরুতে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা পৌর ভবনের পাশে উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কার‌্যালয়ের নতুন পাঁচ তলা ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় ইন্টারন্যাশনাল আড়াই কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে। কিন্তু ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করতে দেখতে পায় স্থানীয়রা। বিষয়টি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।

এর আগে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত মাসেই সরকারি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি জড়িতদের শাস্তির বিধান করতে বলেছেন। এর এক সপ্তাহের মাথায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রকৌশলীদের আন্তরিকতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এত কিছুর পরও টেন্ডারে অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি, রাজনীতির অপপ্রয়োগ ও নিয়োজিতদের দক্ষতার অভাবে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন বৈধ, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিয়ে সংরক্ষণের নির্দেশ : হাইকোর্ট

এটি ইত্তেফাকের শিরোনাম। আর নয়া দিগন্ত লিখেছে- বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ।

খবরটিতে বলা হয়েছে, আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রমের ওপর হস্তক্ষেপ করেনি হাইকোর্ট। আদালত কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। ফলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। মঙ্গলবার সৈয়দ মোহম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সার্কুলার জারি করে বলা হয় মোবাইল ফোনের সিম রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ফিঙ্গার প্রিন্ট (আঙ্গুলের ছাপ) দিতে হবে। আর সার্কুলারের ভিত্তিতে মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের সিম রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্টিক পদ্ধতি অবলম্বন করে আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এভাবে ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করা বেআইনি দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী এসএম এনামুল হক।

আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ১৪ মার্চ রুল জারি করে। আজ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেয় হাইকোর্ট।

এবারে একটি মর্মান্তিক খবর।খবরের শিরোনাম- বৈশাখে জামা না পেয়ে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা।

বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন জামা না পেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে পাবনার বেড়া উপজেলার বনগ্রাম উত্তরপাড়ার অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্র শাহীন (১৪)। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন জানান, দরিদ্র পরিবারের সন্তান শাহীন। বাবা দিন মজুরির কাজ করে তার পড়াশুনার খরচ চালায়। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন পোষাক কেনার জন্য শাহীন বাবার কাছে বায়না ধরে। শাহীনের বাবা তার পোশাকের জন্য ৫শ টাকা দিলেও তার মন ওঠেনি। ভোর রাতে অভিমান করে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

এটি কোন্ সংস্কৃতি যে জামা না পেয়ে আত্মহত্যা করতে হবে অষ্টম শ্রেণির একজন ছাত্রকে। আমাদের মূল্যবোধ তাহলে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে এমন অভিমত পর্যবক্ষেকমহলের!

এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের দ্বিতীয় দফা বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে দৈনিক আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদন তুলে ধরছি। প্রতিবেদনের শিরোনামটি এরকম-হিংসা কি শুধু রক্তেই দেখা যায়?-অঞ্জন বন্দোপাধ্যায়ের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশঙ্কাকে অনেকটা সত্যি প্রমাণ করেই দ্বিতীয় পরীক্ষার দিনে নির্বাচন কমিশন যত গর্জেছিল তত বর্ষাল না। দিনভর বিভিন্ন জায়গা থেকে বোমা-বারুদ-রক্ত-হিংসা-সন্ত্রাস হুমকির নানা খবর আসতে থাকলেও দিনের শেষে নির্বাচন কমিশন জানাল, মোটের উপর শান্তিপূর্ণ থেকেছে সোমবারের ভোট। এটা সত্যি এ বারের নির্বাচন এখনও পর্যন্ত অনেকটাই কম রক্তাক্ত।

সে দিক দিয়ে সাফল্যের দাবি অযথার্থ নয়। হিংসা কি শুধু রক্তেই দেখা যায়? বিহার, উত্তরপ্রদেশের থেকে একটি সম্পূর্ণ আলাদা পথ ধরে পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘ দিন ধরেই রক্তপাতহীন নির্বাচনী হিংসা দেখে এসেছে। সেই হিংসায় কোনও অস্ত্রের ঝনঝনানির দরকার পড়ে না। শুধু ভোটের আগের রাতে হিমশীতল কোনও এক কণ্ঠ গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিরোধী সমর্থকদের উদ্দেশে বলে আসে, ভোট দিতে যাওয়ার ফলটা ভাল হবে না। সেখানে সেই হিংসার ব্যতিক্রম ঘটল না এ বারেও।#

গাজী আবদুর রশীদ