ইরানি পণ্য সামগ্রী: ন্যানো টেকনোলজিতে ইরানের অগ্রসরতা
আপনারা জানেন যে কিছুদিন আগে ইরানে ন্যানো ফাইবার বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এই ন্যানো ফাইবার তৈরির মেশিনের সাহায্যে যে কার্পাস জাতীয় সূতা তৈরি হয়।
সাধারণ ফিল্টারে ন্যানো ফাইবার যোগ করে ফিল্টারেশন সিস্টেমে কাজে লাগানো হয়। নাকে পরার মাস্ক কিংবা সুয়ারেজ সিস্টেমে এই ন্যানো প্রযুক্তির প্রয়োগের ফলে ফিল্টারেশনের যে কাজ তার কার্যক্ষমতা ব্যাপক বেড়ে যায়। ইরানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারিগরি প্রযুক্তিতে এই ন্যানো টেকনোলজির প্রয়োগ করার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অনেক কমে গেছে। ইরান এরইমধ্যে এই ন্যানো টেকনোলজি বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করেছে। নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া তার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ন্যানো টেকনোলজিতে ইরানের অগ্রগতির কথা বলছিলাম আমরা। ইরানের প্রকৌশলীরা ন্যানো প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করে একটি যন্ত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। ওই যন্ত্র পানি ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক কাজে লেগেছে। বিশেষ করে নতুন ওই প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে খুব কম খরচে খাবারের পানি পরিশোধন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী আজকাল পণ্য সামগ্রী সরবরাহের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে প্যাকেজিংয়ের ভূমিকাও। বিশেষ করে উৎপন্ন পণ্য সামগ্রী বিক্রি ও সরবরাহের ক্ষেত্রে প্যাকেজিং এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে। উন্নত প্যাকেজিং সিস্টেম এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্য পণ্যের ভেতর বাইরের কোনো রোগজীবাণু প্রবেশ করতে পারে না। যার ফলে খাদ্যমান অটুট থাকে এবং খাবারের সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
সাধারণ প্যাকেজিং সিস্টেমের চেয়ে উন্নত বা স্মার্ট প্যাকেজিংয়ে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ন্যানো টেকনোলজির প্রয়োগের বিষয় তো রয়েছেই তার বাইরেও রাসায়নিক, উষ্ণতা ও ব্যাকটেরিয়া মুক্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও রয়েছে। ইরানি গবেষকরা একইসঙ্গে মাইক্রোবিয়াল ন্যানো সেলুলয়েড এবং ন্যানো পার্টিক্যাল অক্সাইড ব্যবহার করে এক ধরনের ন্যানো কম্পোজিট ফিল্ম বা খাদ্য প্যাকেজিং ফিল্ম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই ফিল্মটি ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। পুড়ে যাওয়া কিংবা ক্ষতস্থান জীবাণুমুক্ত করার ক্ষেত্রেও ন্যানো ফিল্ম কাজে লাগানো হয়।
প্যাকেজিং শিল্প ইরানি গবেষকদের আরো একটি অর্জন হলো পলিমেরিক কার্বোহাইড্রেটস স্টার্সে ন্যানো পার্টিক্যালস প্রয়োগ করা এবং ন্যানো কম্পোজিট প্লাস্টিক তৈরি করা যা পরিবেশকে দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি খাদ্য সামগ্রিকে দীর্ঘসময় নিরাপদ ও সতেজ রাখে। এই ন্যানো কম্পোজিট প্লাস্টিক খাবারের সংবেদনশীল পুষ্টিকর উপাদানগুলোকে অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতি থেকেও সুরক্ষা দেয়। মহাকাশ শিল্প বেশ জটিল ও অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি কারিগরি প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি একটি দেশের গৌরব, সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে। আজকাল বিভিন্ন দেশ চেষ্টা করছে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন বানাতে। ইরান এই শিল্পে অকল্পনীয় অগ্রগতি লাভ করেছে।
প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রশস্ত্র নির্মাণ করা ছাড়াও ইরানের মহাকাশ শিল্প গবেষকরা আরও বহু রকমের উড়োযান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে চালক বিহীন বিমান, হালকা বিমান, বেশ হালকা বিমান এবং অতি হালকা বিমান। বিমান চালনা প্রশিক্ষণসহ ট্রাফিক কন্ট্রোল করা এবং সীমান্ত রক্ষায় এগুলোর ব্যবহার খুবই কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ইরানের জ্ঞান ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর কর্মতৎপরতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হলো মাইক্রো-ইলেক্ট্রনিক। সার্জারি রোবট তৈরি, এম এস রোগীদের জন্য নতুন নতুন ওষুধ তৈরি, মোবাইল ফোনের জন্য নতুন প্রজন্মের সিম-কার্ড তৈরি যা বিভিন্ন প্রকারের স্মার্ট কার্ডে ব্যবহার উপযোগী, দূর নিয়ন্ত্রিত চালক বিহীন ডুবোজাহাজ যেগুলো পানির গভীরতা নির্ণয় করাসহ ছবি তোলা ইত্যাদি আরও বহু কাজে ব্যবহৃত হয়, থ্রি-ডি স্ক্যানার নির্মাণ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কাজ করা হচ্ছে মাইক্রো-ইলেক্ট্রনিক ক্ষেত্রে। বিগত কয়েক বছর ধরে ইরানি বিজ্ঞানীরা মাইক্রো-ইলেক্ট্রনিক ক্ষেত্রে এই কাজগুলো সফলতার সঙ্গে করে যাচ্ছে। আরও বহু রকমের সাহায্যকারী রোবটও থৈরি করছে ইরান। বিশেষ করে যেসব দুর্গম এলাকায় মানুষের পক্ষে কাজ করা দুরূহ সেসব এলাকায় রোবট কাজ করে। ভূমিকম্প কবলিত এলাকায় রোবটের সাহায্য খুবই কার্যকর।
যাই হোক বন্ধুরা! ইরানের জ্ঞান ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত পণ্য সামগ্রি রপ্তানি করার জন্য করিডোর প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। এই করিডোর প্রতিষ্ঠিত হলে বিশ্ববাজারে ইরানের এইসব পণ্য ছড়িয়ে যাবার পথ সুগম হবে। #
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/ মো:আবু সাঈদ/ ২৯
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন