এপ্রিল ১৩, ২০১৬ ১৫:৪৭ Asia/Dhaka

পাঠক! ১৩ এপ্রিল বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ ও আমি নাসির মাহমুদ। তো শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রথম আলো অনলাইন: আ.লীগের কেউ না ওলামা লীগ: আ.লীগ/আগামী বাজেট হবে অসৎ ব্যবসায়ীদের জন্য আতঙ্কের

ইত্তেফাক অনলাইন: ‘তনু হত্যা নিয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে’-সেতুমন্ত্রী

যুগান্তর অনলাইন: নির্দলীয় সরকার ছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচনে যাবে না বিএনপি

ইনকিলাব অনলাইন: অসহ্য গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত

মানবজমিন অনলাইন: জানমালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ গুলি করছে: সিইসি/ দিনাজপুরে মুক্তিপনের ৩০ লাখ টাকা না পেয়ে ৪ বছরের শিশুকে হত্যা

নয়া দিগন্ত অনলাইন: সাবেক প্রতিমন্ত্রী টুকুর রিভিউ আবেদন খারিজ-

বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন: 'তনু হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে'-সেতুমন্ত্রী/ টিআইবির স্বচ্ছতা নিয়ে জয়ের প্রশ্ন

ভারতের বাংলা দৈনিকের শিরোনাম:

আনন্দবাজার অনলাইন: চূড়ান্ত অসম্মানের মুখে দাঁড়িয়ে এ রাজ্যের আম নাগরিক

সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন: দ্বিতীয় দফায় দ্বিগুণ কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে

বর্তমান অনলাইন: বাংলা ভাগ হতে দেব না’

সাহস ভালো, দুঃসাহস ভালো নয়, নাম না করে মোদিকে আক্রমণ মমতার

আজকাল অনলাইন: শ্লীলতাহানিতে ‘অভিযুক্ত সেনা’ ! উত্তপ্ত কাশ্মীর-চলছে কার্ফু

শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ভারতের -সবচেয়ে আলোচিত খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ:

তৃতীয় ধাপের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ক্ষোভ ও অভিযোগ ছাপা হয়েছে ইত্তেফাকে। পরবর্তী ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী তাণ্ডব শুরু করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন বলেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে ৪৫ জন নিহত ও পাচঁশতাধিক লোক আহত হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে গ্রাম-গঞ্জের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পরেছে। তারা সশস্ত্র মহড়া দিয়ে সারাদেশে বিএনপি কর্মী ও ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যেতে হুমকি ধামকি আগের মতোই অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে নির্বাচনে পুলিশের গুলি চালানো নিয়ে নানা কথা হয়েছে বিভিন্নমহলে। তবে আজকের মানবজমিনের একটি খবরে এ সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকীব উদ্দিন বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি করছে । বুধবার দুপুরে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গোলযোগ ও সহিংসতা রোধে করণীয় নির্ধারণে আইন- শৃঙ্খলাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলপকালের তিনি এ মন্তব্য করেন

‘খুনি ধরা পড়ে অস্ত্র যায় কোথায়’

বাংলাদেশ প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিবেদনের ভাষ্য এরকম যে, রাজধানীর কূটনৈতিক জোন হিসেবে পরিচিত গুলশানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার, রংপুরে জাপানি কোনিও হোশি এবং মাগুরায় মায়ের পেটে থাকা শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোতে ব্যবহার করা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি র‌্যাব কিংবা পুলিশ। আর এ অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারায় মামলাগুলোর অভিযোগপত্রও (চার্জশিট) পুলিশ আদালতে দাখিল করতে পারছে না।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) নূরুল হুদা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, তদন্ত কর্মকর্তা অনেক কষ্ট করে আসামি গ্রেফতার করেন। মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে চার্জশিট দেন। তবে ব্যবহূত অস্ত্রটি উদ্ধার করে চার্জশিটে ব্যালাস্টিক প্রতিবেদনের বিষয়টি উল্লেখ না করা হলে বিবাদীপক্ষ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকে। মামলার রায় নিজেদের পক্ষে নেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রায়ই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহূত হলেও তা উদ্ধার হয় না। তবে বিশ্লেষকমহলের প্রশ্ন- কেন অস্ত্র উদ্ধার হয় না’ কারণ আসলে কি !

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও নিজের দুর্বলতা:স্বধীন নয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

এ শিরোনামটি দৈনিক প্রথম আলোর। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি যাওয়া নিয়ে যখন দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে তখন প্রথম আলোর এ প্রতিবেদনটি মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও নিজের দুর্বলতা—দুই কারণেই স্বাধীনভাবে চলতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে খুব একটা যেতে দেখা যায় না কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

তারপরও গত সাত বছরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের শীতল সম্পর্ক। এতে ব্যাংক খাতে সুশাসন তথা দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেছেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বেশি দেখা গেছে। তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতিকে যদি অফিসে নিয়ে আসা হয়, তাও আবার আর্থিক খাতে, আমি বলব এটা দুঃখজনক এবং অর্থনীতির জন্য ক্ষতির কারণ।’

অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীন রাখার জন্য নানা ধরনের আইনকানুন করা হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে জবাবদিহি করার জায়গাটি। বাংলাদেশে অনুপস্থিত দুটোই।

এবার দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত দুর্নীতি বিষয়ক দুটো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তুলে ধরব।

‘ত্রাণের ৬০ কোটি টাকার ঢেউটিন কেনায় অদ্ভুত সব কারবার’

এ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ৬০ কোটি টাকার ঢেউটিন কিনছে সরকার। পাঁচটি লটে কেনা চার হাজার ১০৯ টন ঢেউটিন কেনার দরপত্র (টেন্ডার) নিয়ে অদ্ভুত সব কারবার ঘটেছে। এসব কারবারের মধ্যে রয়েছে- দরপত্রে অংশ নেয়া দুই লটের কোম্পানিগুলো একই ব্যাংক ও শাখা থেকে ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়েছে। এছাড়া, টেন্ডারে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর উদ্ধৃত দর কাছাকাছি। অন্যদিকে মোট মূল্যও প্রাক্কলিত দরের কাছাকাছি। অর্থাৎ বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটা দিয়ে বিনামূল্যের ঢেউটিন কেনা হচ্ছে। দরপত্র প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নেগোসিয়েশন ছাড়া এভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া হওয়ার কথা নয়। সব কিছুই ম্যানেজ করে করা হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে শিক্ষাভবনে ত্রিমুখী লড়াই’

প্রতিবদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শত কোটি টাকার কাজের টেন্ডার নিয়ে শিক্ষাভবনে চলছে ত্রিমুখী লড়াই। সোমবার এ তিন পক্ষ প্রকাশ্যে সংঘর্ষেও জড়িয়েছে। শিক্ষাভবন সূত্র বলছে, শিক্ষাভবনের প্রায় ১০০ কোটির টাকার টেন্ডার নিয়ে এই সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ। শিক্ষা ও শিক্ষা প্রকৌশল ভবনের এই টেন্ডারের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মহড়া দিচ্ছিল ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিনটি অংশ।

সবশেষে তনু হত্যা সম্পর্কিত সরকারের বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি খবর।

খবরটির বক্তব্য এরকম যে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তনু হত্যা নিয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিচার হবেই।’ আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। সরকারের এ অবস্থান অবশ্যই ভালো। তবে এর আগে এ ধরণের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা বলা হয়েছে কিন্তু দৃশ্যত মানুষ তার ফল পায়নি বলেই জনমনে একটা সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকমহল।#

গাজী আবদুর রশীদ