এপ্রিল ১৪, ২০১৬ ১৬:০১ Asia/Dhaka

পাঠক! ১৪ এপ্রিল বৃহষ্পতিবার কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ ও আমি নাসির মাহমুদ। তো শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মানবজমিন অনলাইন: স্বাগত ১৪২৩ বাংলা বর্ষ -নবচেতনায় স্নাত হোক ধরা- এব উৎসবে আনন্দে পহেলা বৈশাখ/ শাহবাগে সমকামীদের মিছিলের চেষ্টা, আটক ৪

প্রথম আলো অনলাইন: গভর্নর নিয়োগের নীতিমালা নেই, সরকারের পছন্দই সব

ইত্তেফাক অনলাইন: ‘নববর্ষ উদযাপনের বিরোধীতাকারীদের কঠোর সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

যুগান্তর অনলাইন: ছাত্রলীগের ৭ ক্যাডারকে অস্ত্রসহ আটকের পর ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ/ তারানা হালিমকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি

ইনকিলাব অনলাইন: বৈশাখে ঘুরতে এসে লাশ হয়ে ফিরল দুই যুবক

নয়া দিগন্ত অনলাইন: বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা বিচার-বহির্ভূত হত্যা ও গুম : যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন: 'নতুন বছরে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পাবে'-খালেদা জিয়া

ভারতের বাংলা দৈনিকের শিরোনাম:

সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন: তৃতীয় পর্বের পর পালাবে বিরোধীরা: মমতা

বর্তমান অনলাইন: জোট নিয়ে নীরব সোনিয়া, আক্রমণ মোদি-মমতাকে

আজকাল অনলাইন: জোর ধাক্কা, এ বার মমতাকেই শোকজ করল কমিশন

শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ভারতের -সবচেয়ে আলোচিত খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ:

মুক্তচিন্তার নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বিকৃত রুচি: প্রধানমন্ত্রী

এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। এ খবরে বলা হয়েছে- মুক্তচিন্তার নামে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া বিকৃত রুচি ও নোংরা রুচির পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘একটা ফ্যাশন দাঁড়িয়ে গেছে, ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখলেই তারা হয়ে গেল মুক্তচিন্তার। আমি তো এখানে মুক্তচিন্তা দেখি না।’ নিরাপত্তার জন্যই বিকেল পাঁচটার মধ্যে বাইরের অনুষ্ঠান শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখা কখনো গ্রহণযোগ্য না। আমার ধর্ম আমি পালন করি। আমার ধর্ম সম্পর্কে কেউ যদি নোংরা কথা লেখে, সেটা আমরা কেন বরদাশত করব? এখন একটা ফ্যাশন দাঁড়িয়ে গেছে, ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখলেই তারা হয়ে গেল মুক্তচিন্তার। আমি তো এখানে মুক্তচিন্তা দেখি না। আমি এখানে দেখি নোংরামি, পর্ন। এত নোংরা নোংরা লেখা কেন লিখবে? যাকে আমি নবী মানি, তাঁর সম্পর্কে নোংরা কথা কেউ যদি লেখে, সেটা কখনো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না। ঠিক তেমনি অন্য ধর্মের যাঁরা আছেন, তাঁদের সম্পর্কে কেউ যদি লেখে, এটাও কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। এই সমস্ত নোংরা কথা, পর্নের কথা কেন লিখবে? আমি তো মনে করি, এটা সম্পূর্ণ নোংরা মনের পরিচয়, বিকৃত মনের পরিচয়। এটা কোনো ধর্ম পালন নয়। এটা সম্পূর্ণ তাদের চরিত্রের দোষ এবং তারা বিকৃত মানসিকতায় ভোগে। এ জন্য তারা এ ধরনের লেখে। আশা করি, এই ধরনের লেখা কেউ লিখবেন না।’

দৈনিক নয়া দিগন্ত, ইনকিলাবসহ বেশ কয়েকটি দৈনিকের খবর-বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন- প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ, প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। নতুন বছরে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বছরের প্রথম দিনে আমি সকলের কল্যাণ কামনা করি। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ। বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে প্রবাহিত হোক শান্তির অমিয়ধারা। সবার জীবন হয়ে উঠুক সমৃদ্ধময়। বৈশাখের বহ্নিতাপে সমাজ থেকে চিরতরে বিদায় হোক অসত্য, অন্যায়, অনাচার ও অশান্তি। নববর্ষের এই নতুন সকালে মহান আল্লাহর কাছে কায়মনো বাক্যে সকলের ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবন এবং জাতীয় পর্যায়ে সুখ ও শান্তি কামনা করি।

‘পহেলা বৈশাখে রাজধানীতে যানজট’

দৈনিক ইত্তেফাকের খবিরে বলা হয়েছে 'তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক' পহেলা বৈশাখের এই মন্ত্র ঠিক কাজে লাগেনি রাজধানীর ট্রাফিক বিভাগে। বছরের প্রথম দিনও ছিল তীব্র যানজট।

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে গিয়ে নিরাপত্তার জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শাহবাগসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বেশ কিছু সড়ক। ফলে নির্দিষ্ট কিছু সড়ক দিয়ে অধিক যানবাহন যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

'বর্ষবরণে শ্লীলতাহানি-ঘটনার কিনারা হয়নি ১ বছরেও'

দৈনিক মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের বৈশাখী উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে যৌন হয়রানি ঘটনার কোনো কিনারা হয়নি। ৩৬৫ দিন পেরিয়ে আবারও পহেলা বৈশাখ উদযাপন হচ্ছে আজ। বহুল আলোচিত এ ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ৮ জনের মুখচ্ছবি শনাক্ত করেছিল পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল পুরস্কারও। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আদালতের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর বর্ষবরণের দিন বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে দুর্বৃত্তদের হাতে বেশ কয়েকজন নারী লাঞ্ছনার শিকার হন। বখাটেদের ঠেকাতে গিয়ে সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা লিটন নন্দীসহ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করে। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গত বছরের মে মাসে আটজনের ছবি প্রকাশ করে প্রত্যেককে ধরিয়ে দিতে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। তবে বখাটেদের শনাক্ত করতে না পেরে গত বছরের ২২শে ডিসেম্বর আদালতে ঘটনা সত্য উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।

চলতি বছরের ২৩শে ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তদন্তভার ডিবির পরিবর্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে দেয়া হয়। পিবিআই কামালকে দুই দফায় ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদেও কামাল টিএসসিতে গেলেও যৌন হয়রানির কথা অস্বীকার করে।

মানবজমিনের শিরোনাম ‘মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সামনে ৫ চ্যালেঞ্জ’

এ খবরটিতে বলা হয়েছে, পাঁচটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দায়িত্ব পালন করতে হবে নগর আওয়ামী লীগের নয়া দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের। সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখেই নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। ২০১৯ সালের নির্বাচন, নির্বাচনের আগে বিরোধী পক্ষের সরকারবিরোধী তৎপরতা মোকাবিলা, দলীয় কোন্দল কমানো, সাংগঠনিক তৎপরতা ও দলের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে ভূমিকা রাখতে হবে নতুন নেতৃত্বকে। দায়িত্ব পাওয়া নেতারাও জানিয়েছেন এসব চ্যালেঞ্জের কথা।

রাজনীতি নিয়ে দ্বিতীয় খবরটি হচ্ছে’-আওয়ামী লীগে আসছে তারুণ্যের চমক’

বাংলাদেশ প্রতিদিনের রাজনীতি সম্পর্কিত এ খবরটিতে বলা হয়েছে-আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে থাকছে তারুণ্যের চমক। এতে প্রাধান্য পাবেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি-জিএস। ত্যাগী দক্ষদের পাশাপাশি স্থান পাবেন প্রায় এক ডজন নারী। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সামনে রেখে দলকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। উপজেলা-জেলা, মহানগর, কেন্দ্র সর্বত্রই কাউন্সিলের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান কমিটি থেকে বাদ পড়বেন অনেক নেতা। আসবে নতুন মুখ।#

গাজী আবদুর রশীদ