রাফি হত্যার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ যে কৌশলে পার পেতেন
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৪ এপ্রিল রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- রাফি হত্যার দায় সরকার এড়াতে পারবে না : মির্জা ফখরুল-দৈনিক যুগান্তর
- নববর্ষকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা-দৈনিক প্রথম আলো
- দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর নববর্ষের শুভেচ্ছা-দৈনিক ইত্তেফাক
- নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা নিধন চলছেই-দৈনিক সমকাল
- ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়ে রাফি হত্যা-রিজভী-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- যে কৌশলে পার পেতেন অধ্যক্ষ সিরাজ-দৈনিক মানবজমিন
ভারতের শিরোনাম:
- ভাতারে গুলিবিদ্ধ বিজেপি নেতা, অভিযুক্ত তৃণমূল-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- স্মৃতির ডিগ্রি বিভ্রাট! লখনউয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের কংগ্রেস নেতার-দৈনিক আনন্দবাজার
- মোদির বিরুদ্ধে লড়তে পারলে ভাল হতো: শত্রুঘ্ন সিন্হা-দৈনিক আজকাল-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবরের দিকে নজর দেব।
আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ। বাংলা বর্ষবরণ সম্পর্কিত খবর আজকের প্রায় সব দৈনিকে বিশেষ গুরুত্বসহ পরিবেশিত হয়েছে।
অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ-দৈনিক ইত্তেফাক
পহেলা বৈশাখে প্রভাতের আলো ফোটার সাথে সাথে উৎসবে মেতে উঠলো পুরো জাতি। জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে শুভ সম্ভাবনার নতুন দিন আনবার প্রত্যয়ে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলো সংশয়বিনাশী চিত্ত।প্রকৃতির নিয়মে আসে বৈশাখ। কিন্তু পহেলা বৈশাখ জাতির জীবনে আসে দিনবদলের অঙ্গীকার নিয়ে। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রত্যয়ে এবার পালিত হচ্ছে নববর্ষ। পৃথিবীজুড়ে প্রতিটি বাঙালি আজ গানে গানে আহ্বান জানাচ্ছে সম্ভাবনাময় নতুন দিনকে। গানের পঙক্তি উচ্চারণে তারা বর্জন করতে চাইছে জীবনে জড়িয়ে থাকা সকল পঙ্কিলতাকে। বরণ করে নিতে চাইছে নতুন বছরকে।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে যে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে তিনি দেশবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
নববর্ষকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা-দৈনিক প্রথম আলো
বাঙালির সর্বজনীন উৎসব বৈশাখ।বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলছেন, প্রতিবছরই বৈশাখী অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে।চার বছর ধরে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৈশাখে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। একইভাবে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পাচ্ছেন ভাতা। বর্ষবরণে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠানও বাড়ছে। এতে করে বৈশাখকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য রাজধানী থেকে পল্লি অঞ্চলে বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে। পয়লা বৈশাখে কত টাকার বাণিজ্য হয়, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদের ধারণা, সারা দেশে নববর্ষকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। পোশাক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, পয়লা বৈশাখে সারা দেশে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার পোশাক বিক্রি হয়।পয়লা বৈশাখের সঙ্গে হালখাতার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। হালখাতায় ক্রেতা ও গ্রাহকদের মিষ্টি-নিমকি খাওয়ান ব্যবসায়ীরা।
বর্ষবরণে নারী লাঞ্ছনা-পুরস্কারঘোষিত আটজনকে খুঁজেই পায়নি পুলিশ-দৈনিক প্রথম আলো
পয়লা বৈশাখে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে নারী লাঞ্ছনায় জড়িতদের পুলিশ চার বছরেও খুঁজে পায়নি। ২০১৫ সালের মে মাসে ক্লোজড সার্কিট টিভি ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) দেখে নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত আটজনকে চিহ্নিত করে তাদের ধরিয়ে দিতে লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ। আজ ১৪ এপ্রিল এ ঘটনার চার বছর পূর্ণ হচ্ছে।
যে কৌশলে পার পেতেন অধ্যক্ষ সিরাজ-দৈনিক মানবজমিন
সোনাগাজী সিনিয়র ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মূল হোতা অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলার যৌন হয়রানি ও নানা অপকর্মের কথা জানতেন মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। তবে টাকার দাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক চক্রকে ম্যানেজ করে চলতেন সিরাজ। এই চক্রের ভয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পেতেন না শিক্ষক ও অভিভাবকরা। নানা সময়ে অভিযোগ করলেও ম্যানেজ হয়ে যেত প্রশাসন, উল্টো বিপদে পড়তেন অভিযোগকারীারা। গত কয়েক দিনে মাদরাসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য ও স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। মাদরাসার তিন তলা মার্কেট, পুকুর, নানা অনুদান-তহবিল এবং ওয়াজ মাহফিল থেকে বছরে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন অধ্যক্ষ। অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের সুবিধার লোভ দেখিয়ে ভেড়াতেন নিজের দলে। ২০০১ সালে শতবর্ষী এই মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ পদে যোগ দেবার পর থেকে নানা সময়ে জেলা প্রশাসনের কাছে যৌন হয়রানি, অর্থ আত্মসাৎ ও হত্যার হুমকির মতো অভিযোগ জমা হয় তার বিরুদ্ধে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা নিধন চলছেই-দৈনিক সমকাল
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে চলছে জাটকা ইলিশ ধরার মহোৎসব। প্রজনন মৌসুমে জাটকা ইলিশ নিধন রোধে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দাম বেশি পাওয়ার আশায় জেলেরা কোনো নির্দেশ মানছেন না। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় নির্বিচারে জাটকা ইলিশ ধরছেন জেলেরা। মেঘনা নদী থেকে ১৫ দিন ধরে নির্বিচারে জাটকা নিধন করা হচ্ছে। প্রতিদিন শিকার করা হচ্ছে হাজার হাজার মণ জাটকা। জাটকা শিকার রোধে স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদীতে মাছ ধরছেন জেলেরা। দিকে সরকার ইলিশ রক্ষায় নদীতে সাড়ে তিন ইঞ্চির কম ফাঁসের জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বর্তমানে নদীতে ছোট ফাঁসের জাল নিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ জাটকা ইলিশ নিধন করা হচ্ছে।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
স্মৃতির ডিগ্রি বিভ্রাট! লখনউয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের কংগ্রেস নেতার-দৈনিক আনন্দবাজার
স্মৃতি ইরানির ‘ডিগ্রি বিভ্রাট’-এ নতুন সংযোজন। এ বার শুরু হয়ে গেল আইনি লড়াইও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে লখনউয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন লখনউ শহর কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের চেয়ারম্যান তৌহিদ সিদ্দিকি। শনিবার দায়ের করা ওই অভিযোগে সিদ্দিকির দাবি, মনোনয়নের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন স্মৃতি। ‘জালিয়াতি’ এবং ‘প্রতারণা’র অভিয়োগ এনে স্মৃতির বিরুদ্ধে ‘যথাযথ’ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন সিদ্দিকি। যদিও এ নিয়ে এখনও নির্বাচন কমিশনের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তিনি স্নাতক ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেননি। অথচ হলফনামায় স্মাতক লিখেছেন। সিদ্দিকি বলেন, নির্বাচন কমিশনে হলফনামা দিয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন উনি।
মোদির বিরুদ্ধে লড়তে পারলে ভাল হতো: শত্রুঘ্ন সিন্হা-দৈনিক আজকাল
তিনি হিন্দি ছবির বিশ্বনাথ। তিনি বিজেপির সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দুটোই ছিলেন। কিন্তু দলের বর্তমান নেতৃত্বের উপর আস্থা হারিয়ে দল ছেড়েছেন শত্রুঘ্ন সিন্হা। এবার কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বিহারের পাটনা সাহিব থেকে লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করবেন তিনি। তাঁর বিপক্ষে আছেন বিজেপির হেভিওয়েট মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। তবু জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শত্রুঘ্ন। আর শনিবার খানিকটা বলিউডি কায়দায় তিনি বললেন ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লড়তে পারলে তিনি খুশি হতেন।’#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৪